০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

‘আলেপ্পোর বেড়াল-বন্ধু’ মোহম্মদ আল-জলিল

মোহম্মদ আলা আল-জলিলের বেড়াল জগৎ - ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধ, বোমা, বিমান হানা— কোনো কিছুই সিরিয়ার মোহম্মদ আলা আল-জলিলকে আলেপ্পো থেকে সরাতে পারেনি। ম্যাও ম্যাও করে ওরা অসহায়ভাবে ডাকতেই থাকবে, আর মোহম্মদ পালিয়ে যাবেন, তা কি হয়? ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিত্যক্ত বেড়ালদের উদ্ধার করে নিয়ে আসাই এখন তার অন্যতম প্রধান কাজ।

খুব ছোট থেকেই বেড়ালদের বড় ভালোবাসেন মোহম্মদ। একটু বড় হতে ইলেকট্রিকের কাজ শিখেছিলেন। যা পেতেন, তাই দিয়ে মাংসের দোকান থেকে ছাঁট গোশত এনে পাড়ার বেড়ালদের দিতেন। সিরিয়ায় তখন যুদ্ধ শুরু হয়নি। ২০১১ সালে যখন যুদ্ধ বাধল, সেই তখন থেকে মোহম্মদ অ্যাম্বুল্যান্স চালকের কাজ নিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব তো পালন করছেনই। সেই সঙ্গে চলছে বেড়ালদের পরিচর্যা। বস্তুত যুদ্ধে মোহম্মদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গিয়েছে। পাড়ার বেড়ালরা তো ছিলই। শহর ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় বাকি বেড়ালদেরও দেখার আর তেমন লোক নেই। উপরন্তু বহু পরিবার কোনো মতে প্রাণ হাতে নিয়ে এলাকা ছেড়েছে। অনাথ হয়ে গিয়েছে তাদের পোষ্যরা। মোহম্মদ এদের সকলের দেখভাল করা শুরু করলেন। বন্ধুবান্ধবদের থেকে ধার নিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চাঁদা তুলে তৈরি করলেন বেড়ালদের একটা আস্তানা। ২০১৬-য় যখন রাসায়নিক হামলা হলো, ক্লোরিন বোমা পড়ল সেই আস্তানার উপরেও। ১৭০টা বেড়াল— অধিকাংশই মরে গেল, কেউ কেউ ছিটকে গেল এ-ধার ও-ধার। খোঁজ আর মিলল না। মোহম্মদকেও এ বার সরতে হলো অন্যত্র। আলেপ্পোরই অন্য এক জেলা, কেফার নাহা-য়।

তবে ধ্বংস তো সেখানেও আছে, আছে পরিত্যক্ত বেড়ালদের নতুন বাহিনী। দু’বছর পর মোহম্মদ আবারো গড়ে তুলেছেন নতুন মার্জার-আশ্রয়। প্রিয় বেড়াল আরনেস্তো-র নামেই সে বাড়ির নাম। আছেন এক পশু চিকিৎসকও। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা চাঁদাই ৪৪ বছরের মোহম্মদকে সাহায্য করছে। সবাই এখন তাকে ‘আলেপ্পোর বেড়াল-বন্ধু’ বলে ডাকে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik