২৩ মে ২০১৯

যৌন হয়রানিতে ফাঁসানো হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে!

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ - ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু তার আইনজীবীরা বলছেন, আসলে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তাদের এ দাবির পক্ষে বুধবার প্রমাণ পেশ করতে বলেছেন।

প্রধান বিচারপতির আইনজীবী উৎসব বাইন্স তার অভিযোগে বলেছেন, জেট এয়ারওয়েজের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গয়াল-সহ কর্পোরেট জগতের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ফিক্সার রোমেশ শর্মা ওই ষড়যন্ত্রে শামিল থাকতে পারেন। প্রধান বিচারপতি বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা সাজাতে তাকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন এক ব্যক্তি।

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ উৎসবকে নোটিস পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়, আগামীকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দিয়ে ওই দাবির সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে হবে উৎসবকে।

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে গতকাল সোমবার আইনজীবী উৎসব দাবি করেন, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলা সাজাতে তাকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন অজয় নামের এক ব্যক্তি। এমনকি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকারও প্রস্তাব এসেছিল ওই ব্যক্তির কাছ থেকে।

আইনজীবী উৎসব বাইন্স দাবি করেন, প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করাতেই মূলত তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পিছনে বড় ধরনের একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, নরেশ গয়াল জেট এয়ারওয়েজের মতো হাই-প্রোফাইল মামলার রায় যাতে নিজের পক্ষে যায়, সে জন্য রোমেশ শর্মার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে বার্তা দিয়েছিলেন। তবে সে চেষ্টা বিফলে যায়।

এমনকি, ওই মামলাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেন তিনি। এগুলোতে ব্যর্থ হয়ে নরেশই ষড়যন্ত্রকারীর সঙ্গে মিলে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে তিনি পদত্যাগ করেন। উৎসব আরো দাবি করেন, জেট এয়ারওয়েজে বিনিয়োগ করেছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। ফলে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।

সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন সুপ্রিম কোর্টের এক জুনিয়র কর্মী। ওই তরুণীর দাবি, ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাকে যৌন হয়রানি করেন প্রধান বিচারপতি। সে সময় তিনি প্রধান বিচারপতির বাড়ির অফিসে কাজ করতেন। তিনি প্রতিবাদ করায় প্রথমে তাকে ওই অফিস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

পরে তাকে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হয়। এমনকি তার স্বামী ও দেবরও এই ইস্যুতে চাকরি হারান। পুরো বিষয়টি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতির কাছে অভিযোগ পেশ করেন ওই তরুণী।

এদিকে এ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত অর্থাৎ ২৭ জন বিচারপতিকেই নিজের পাশে পেয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। শীর্ষ আদালতের ওই বিচারপতিরা এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকেই সমর্থন করেছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলিও প্রধান বিচারপতির সমর্থনে কথা বলেছেন।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই এ নিয়ে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছে। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও সেই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

অবশ্য প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের দাবি, এর পুরোটার পিছনেই বৃহৎ কোনো শক্তির হাত রয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে নষ্ট করতেই এ অভিযোগ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




agario agario - agario