২১ মে ২০১৯

দুর্ঘটনার কবলে নেতানিয়াহুর প্লেন

ক্ষতিগ্রস্ত প্লেন - ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বহনকারী প্লেন বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অবশ্য এতে নেতানিয়াহুসহ প্লেনের আরোহীদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এ কারণে দেশে ফিরতে দেরি হয়ে যায় তার।

দুর্ঘটনার সময় ৬৯ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সব সফরসঙ্গীরা ছিলেন। একটি যান নেতানিয়াহুকে বহনকারী প্লেন বোয়িং ৭৭৭কে রানওয়েতে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পুশ ট্রাক্টর বা প্লেনকে ঠেলে নেয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্লেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সময় মধ্য রাতের পর এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য, এ বিষয়ে বিশদ কোনো বিবরণ দেয়া হয় নি।

অবশ্য ছবিতে দেখা গেছে, বিমানের নিচের দিকে ঘর্ষণের ফলে বড় বড় কয়েকটি দাগ সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’তে আয়োজন করা হয়েছিল দু’দিনব্যাপী ইরান-বিরোধী সম্মেলন। সে সম্মেলনে যোগ দিতে দু'দিনের সফরে পোল্যান্ডে গিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে বিশেষ বিমানে করে বৃহস্পতিবারই তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। তবে টেক-অফের অল্প সময়ের মধ্যেই ঝাঁকুনি দিয়ে অবতরণ করে বিমানটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই অবতরণ বলে জানানো হয়।

দুর্ঘটনার পর নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ইসরাইল থেকে আরেকটি বিমান পাঠিয়ে শুক্রবার নেতানিয়াহুকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সামরিক সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা পুনরায় নিরাপত্তা চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে চান না জানিয়ে বিমানেই রাত কাটান।

সূত্র : ডেইল মেইল

 

আরো পড়ুন : নেতানিয়াহু ঠাণ্ডা মাথার খুনি : তুরস্ক

আলজাজিরা, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘আধুনিক যুগের ঠাণ্ডা মাথার খুনি’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনি দখলদারিত্ব চালানোর কথা উল্লেখ করে রোববার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে এই আখ্যা দেন তিনি। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসার আগে ইসরাইলও কুর্দিদের ‘নির্বিচারে’ হত্যার বিষয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছিল।


পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়ার এই ঘটনা শুরু হয়েছে এরদোগানের বক্তব্য থেকে। শনিবার যুবসমাজের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তারা যেন ‘ইসরাইলের ইহুদিদের মতো’ আচরণ না করে। চলতি বছর বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। গত জুলাইতে ইসরাইলের পার্লামেন্টে বিতর্কিত ইহুদি জাতি রাষ্ট্র আইন পাস হলে দেশটিকে ‘পৃথিবীর জঘন্য ফ্যাসিস্ট ও বর্ণবাদী’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। গত মে মাসে ইসরাইল সীমান্তে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলি দূতকে তুরস্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল আঙ্কারা।


গত ১৪ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি নিপীড়নকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হলোকাস্টের (ইহুদিদের ওপর জার্মানির চালানো হত্যাযজ্ঞ) সাথে তুলনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। শনিবার তিনি তুরস্কের তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘শত্রুকে পরাজিত করার পর তাকে আর অপদস্থ করো না। তোমরা তো আর ইসরাইলের ইহুদি নও।’


এর জবাবে নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এরদোগানের উচিত না ইসরাইলের সমালোচনা করা।‘ এরদোগানকে ‘উত্তর সাইপ্রাসের দখলদার’ আখ্যা দিয়ে শনিবার এক টুইটবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন ‘তার সেনাবাহিনী তুরস্কের ভেতরে-বাইরে কুর্দি গ্রামে নির্বিচারে নারী ও শিশুদের হত্যা করেছে।’ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে কুর্দিরা। তাদের সংগ্রামে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কুর্দি বিদ্রোহীদের সংগঠন পিকেকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর টুইটারবার্তার পর এরদোগানের মুখপাত্র ও প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম কালিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কাছে সত্য না বলার ভিক্ষা চাওয়ার বদলে নেতানিয়াহুর উচিত ছিল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনি দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনি জনতার ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়নের অবসান ঘটানো।

 


আরো সংবাদ

agario agario - agario