২২ মার্চ ২০১৯

অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানবিমুখ যাত্রীরা, চাঙ্গা বেসরকারি এয়ারলাইন্স

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স - সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায়ই যাত্রীসঙ্কট দেখা দিচ্ছে। উপায় না দেখে কম যাত্রী নিয়েই রওয়ানা হতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেসরকারি এয়ারলাইন্স রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে এখন চলছে চাঙ্গাভাব। তাদের প্রতিটি ফ্লাইট পরিপূর্ণ হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে কিছু ফ্লাইট প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ছে। এতে যাত্রীরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এয়ারপোর্টে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 

একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পর্যটন মওসুমেও যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকা প্রসঙ্গে গতকাল এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো জবাবদিহিতা ফিরে আসেনি। এটি যেদিন পরিপূর্ণ হবে সেদিন থেকেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করবে।

বিমানের বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে কানাডার বোম্বাডিয়ার ড্যাশ-৮ মডেলের এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চলছে। প্রতিটি উড়োজাহাজে সিট সংখ্যা ৭৪। দেখা গেছে বেশির ভাগ সময় এসব রুটে চলাচলকারী বিমানের ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য ফ্লাইট থেকে তুলনামূলক কম থাকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া (বিজি-৪১৯) ফ্লাইটে যাত্রী ছিল মাত্র ২৯ জন। অবশ্য ফিরতি ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ৪২ জন। একই দিন ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে (বিজি-৪৬৭) ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটেরও যাত্রী ছিল ২৯ জন। আর ফিরতি ফ্লাইটে ছিল ৬১ জন এবং দুদিন আগেই ৫ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা ছিল একদম কম। মাত্র ১৫ জন। অবশ্য রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ৭২ জন যাত্রী ছিল। শুধু ঢাকা-রাজশাহী আর ঢাকা-যশোর ফ্লাইটে যাত্রী কম থাকে তা কিন্তু নয়, অন্যান্য রুটের চিত্রও প্রায় সময় একই থাকে বলে বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যার আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) আশরাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন লাইন কেটে দেন। পরে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

অন্যদিকে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের একাধিক কর্মকর্তার সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এই মুহূর্তে পর্যটন মওসুম বেশ চাঙ্গা। যারা ডমেস্টিক যাত্রী, তারা লম্বা বাস জার্নি না করে ফ্লাইটে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেকে আবার ব্যবসায়িক কাজেও দিনে গিয়ে দিনে ফিরছেন। যার কারণে আমাদের এয়ারলাইন্সগুলোতে চাপ বেশি আছে। বেশির ভাগ ফ্লাইট ফুল যাত্রী নিয়ে গন্তব্য রওয়ানা হচ্ছে। তবে অভিযোগ আছে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো প্রায়ই যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা (নির্ধারিত ক্লাস) আদায় করছে। যা সিভিল এভিয়েশনের রুলসের সম্পূর্ণ বিপরীত। 

গতকাল রিজেন্ট এয়ারওয়েজ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশীষ রায় চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের প্রতিটি ফ্লাইটই এখন পূর্ণ যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম থাকার অন্যতম কারণ রিজার্ভেশন সিস্টেম ঠিক না থাকা। বিমানে যত দিন জবাবদিহিতা না আসবে তত দিন লাভের মুখ দেখতে পাবে না। তার মতে বিমানে যারা রিজার্ভেশনের দায়িত্বে থাকে তাদের অনেকেই নানা কৌশলে সিট ব্লক করে রাাখে। পরবর্তীতে ওই সিট খালি যায়। এতে তাদের তো ক্ষতি হয় না। উত্তর দেয়ারও কেউ নাই। তাই আগে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তবে বিমানের শিডিউল টাইম আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ হয়েছে বলে জানান তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডমেস্টিক রুট দিয়েই আমাদের এখন ব্যবসা হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লাইটে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ যাত্রী হলেই প্রফিট। আর আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে হচ্ছে কেউ কোনো অভিযোগে দিলে তদন্ত করে দ্রুত উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তাই আমাদের ঝামেলাও কম।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al