১৬ জুন ২০১৯

সিরিয়া সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার করলেন এরদোগান

সিরিয়া
উত্তর সিরিয়ায় একটি অসামরিক জোন গঠনের ব্যাপারে গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একমত হন এরদোগান। - ছবি : আল জাজিরা

উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএসের হাত থেকে নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ২০১৬ সালে সিরিয়ায় সৈন্য পাঠিয়েছিল তুরস্ক।

এ বছরের শুরুর দিকে কুর্দি বিদ্রোহী অধ্যুষিত উত্তর সিরিয়ার আফরিনে বড় ধরেনের অভিযান চালায় তুরস্ক। তুরস্ক কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) সমর্থিত এ গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করে।

কিন্তু সিরিয়ায় তুরস্কের এ অবস্থান কতদিন থাকবে? পরীক্ষার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানই। তিনি বলেছেন, তার দেশ ততদিন সিরিয়া থেকে সরে আসবে না যতদিন না যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটিতে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

‘যখনই সিরিয়ার জনগণ একটি নির্বাচন পাবে তখনই আমরা সিরিয়া ত্যাগ করব’, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে টিআরটি ওয়ার্ল্ড ফোরামে বলেন এরদোগান।

উত্তর সিরিয়ায় একটি অসামরিক জোন গঠনের ব্যাপারে গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একমত হন এরদোগান।

১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারের এ এলাকাটি থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে রাশিয়া সমর্থিত গ্রুপগুলোকে সরিয়ে নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার এরদোগান আরো জানান, ইদলিবে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা পরিচালনার ক্ষেত্রে আঙ্কারা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে না।

ইদলিব হচ্ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ প্রদেশ। এটির বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আল-কায়েদা সমর্থিত হায়াত তাহরির আল-শাম গ্রুপ, যারা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। তুরস্ক এ গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী গ্রুপ বলে গণ্য করে। গত জুনে জাতিসঙ্ঘও তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেয়।

বৃহস্পতিবার এরদোগান জানান, ইদলিবে ১২টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট রয়েছে তুরস্কের, ১০টি রাশিয়ার আর ছয়টি ইরানের।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরো জোরদার করছি। এ করিডোরগুলো নিরাপদ থাকা মানে ইদলিব নিরাপদ থাকা।’

জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংস্থার হিসাব মতে, ২০১১ সালে সিরিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫৬ লাখ মানুষ দেশটি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ।

সিরিয়ার সরকার উৎখাতে যুদ্ধরত থাকা বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে সমর্থন দেয়া তুরস্ক মনে করছে তাদের সীমান্তে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটতে পারে।

জাতিসঙ্ঘ আশঙ্কা করছে এ সংঘর্ষে ‘রক্তস্নান’ হয়ে যেতে পারে। তাই তুরস্ক এ পরিস্থিতি থেকে অঞ্চলটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট জাতিগুলোর সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ মাসেরই শেষ দিকে ইদলিব পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সকে নিয়ে তুরস্কের চারজাতি আলোচনা হতে পারে। এ লক্ষ্যে গত মাসে এরদোগান বার্লিন সফর করেন। সূত্র : আল-জাজিরা

আরো পড়ুন :
জাতিসঙ্ঘের হুঁশিয়ারি : ইদলিবে হামলায় উদ্বাস্তু হবে আরো লাখ লাখ সিরীয়
ডেইলি সাবাহ, ৩১ আগস্ট ২০১৮
সিরিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার অব্যাহত সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইদলিবের চারপাশে বাশার আল আসাদ সরকার সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের মুখে ইউরোপের দিকে আবারো সিরিয়ান উদ্বাস্তুদের ঢল নামবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

বর্তমানে সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি হচ্ছে ইদলিব। অঞ্চলটিতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে সিরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা ইউরোপের দিকে উদ্বাস্তু স্রোত শুরু হওয়াসহ মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

গত মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সম্ভাব্য ইদলিব হামলা সাত বছর ধরে গৃহযুদ্ধের ধকল সহ্য করে বসবাস করা সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য নানামুখী বিপর্যয় ছাড়া অন্য কিছু বয়ে আনবে না। দামেস্কে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার দফতর গতকাল জানায়, সিরিয়ায় বর্তমানে আট লাখ মানুষ ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে এবং ইদলিবে বাশার সরকার ও রাশিয়ার সম্মিলিত হামলা এই মানুষগুলোকে আবারো বাস্তুচ্যুত করবে।

জাতিসঙ্ঘ এর আগে জানিয়েছিল, ইদলিবের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো বিবেচনা করলে সম্ভাব্য উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সিরিয়ায় অবস্থিত জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সমন্বয়বিষয়ক দফতরের মুখপাত্র লিন্ডা টম বলেন, ‘ইদলিব ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে শত্রুতা ও উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশঙ্কা করছি যে, হামলা শুরু হলে কেবল ইদলিব অঞ্চল থেকেই প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে এবং মানবিক সহায়তা দরকার এমন মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।’

ইদলিব নিয়ে রুশ-সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
এ দিকে সিরিয়ার ইদলিবে বিদ্রোহীদের অবস্থানে তুরস্ক ও রাশিয়া যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গত বুধবার মস্কোতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জোবায়েরের সাথে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিগত কয়েক মাসে মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে এই বিষয় নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মস্কোতে তুরস্ক ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরামন্ত্রী এবং বিশেষ বাহিনীর প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েক দিনের আলোচনার অন্যতম ইস্যু ছিল ইদলিব।


আরো সংবাদ