১১ ডিসেম্বর ২০১৮

যে কারণে রাশিয়া-ইসরাইল সম্পর্ক তলানির দিকে

যে কারণে রাশিয়া-ইজরাইল সম্পর্ক তলানিতে যেতে পারে। ছবি - সংগৃহীত

গত সপ্তাহে সিরিয়ায় রাশিয়ান বিমান দুর্ঘটনার জন্য ইজরাইলের ‘পরিকল্পিত হামলা’কে দায়ী করেছে। এর ফলে রাশিয়ার সাথে ইসরাইলের সম্পর্কের অবনতি হবে বলে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।  খবর আল জাজিরার।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দ্রিমিত পেশকভ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এই ঘটনার ইসরাইলের পূর্ব পরিকল্পিত। যার ফলে ইসরাইলের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

এছাড়া রাশিয়া আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে আধুনিক এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হস্তান্তর করবে। সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারই এর লক্ষ্য। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই সইগো সোমবার এ কথা বলেছেন।

সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫জন সেনাসহ একটি রুশ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার টেলিভিশন বিবৃতিতে জানান।

টেলিভিশনে দেয়া এক ব্যক্তব্যে সার্গেই বলেন,  আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ায় অত্যাধুনিক এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে।

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এস-৩০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধুমাত্র রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সুরক্ষার জন্য। অন্য কোন দেশ এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

রাশিয়া ক্ষেপনাস্ত্র মোকাবিলা করার জন্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের ন্যাভিগেশন ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও বন্ধ করতে পারে বলে জানিয়েছে রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

আরো দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি : আগুন নিয়ে খেলবেন না

রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার কারণে চীনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন উভয়েই। মস্কো বলছে যে ওয়াশিংটন আগুন নিয়ে খেলছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগেই হুমকি দিয়েছিল ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী রাশিয়ার কাছ থেকে কোন দেশ অস্ত্র কিনলে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।


সম্প্রতি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সুখই যুদ্ধ বিমান এবং ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। তাই চীনের সেনাবাহিনীর ক্রয় শাখা এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন। এসবের মধ্যে রয়েছে ১০টি সুখই যুদ্ধবিমান এবং এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র।

এই বিভাগ এবং তার পরিচালক লি শাংফু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোন রপ্তানি লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবেন না এবং মার্কিন অর্থ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন না।

ওয়াশিংটন বলছে, রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনে চীন রাশিয়ার উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।

২০১৪ সালে ইউক্রেনে মস্কোর হস্তক্ষেপের জবাবে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞায় তখন যোগ দেয়নি চীন।

এতে ক্ষুব্ধ চীনের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেছেন, তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার জন্য জোর আহ্বান জানাচ্ছেন - অন্যথায় তাদেরকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

বেইজিং-এ বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া খুবই কঠোর। কিন্তু বেইজিং কতোটা ক্ষুব্ধ হয়েছে সেটা পরিষ্কার হবে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক কী দাঁড়াবে সেটা প্রকাশ করার পর।

চীনও এখন উন্নত মানের সামরিক অস্ত্র তৈরি করছে। কিন্তু তারপরেও তারা আমেরিকার কাছে থেকে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র কিনতে আগ্রহী। এবিষয়ে রাশিয়া আগে খুব একটা আগ্রহী ছিল না। কিন্তু এখন এই প্রযুক্তি বেইজিং-এর সাথে শেয়ার করতে মস্কো আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলছেন, এখানে আসল লক্ষ্য রাশিয়া - চীন নয়।

"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে এসব বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে এমন সম্ভাবনা কম, বরং এর ফলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে - চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতা আরো বেড়ে যেতে পারে," বলেন তিনি।

"কারণ চীন ও রাশিয়া উভয়ের সাথেই এখন মার্কিন সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে - আর এ দুটি দেশই ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ঠেকাতে চায়।" চীন ও রাশিয়া মিলে সম্প্রতি যৌথ মহড়াও চালিয়েছে যাকে শীতল যুদ্ধ অবসানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ