১৭ নভেম্বর ২০১৮

ইউরেনিয়াম সক্ষমতা ১ লাখ ৯০ হাজার এসডাব্লিউইউতে উন্নীত করবে ইরান

ইউরেনিয়াম সক্ষমতা ১ লাখ ৯০ হাজার এসডাব্লিউইউতে উন্নীত করবে ইরান - সংগৃহীত

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে তার দেশের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাতিল হয়ে গেলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং ইরান আগের চেয়ে অনেক শক্তিমত্তার সাথে নিজের পরমাণু কর্মসূচির বিস্তার ঘটাবে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোশিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে আমেরিকারই ক্ষতি হয়েছে।  

আলী আকবর সালেহি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেবেছেন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যাবে। কিন্তু পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে তার বলপ্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হবে এবং আমেরিকাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ সত্ত্বেও বাকি পক্ষগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা টিকে থাকবে বলে সালেহি আশা প্রকাশ করেন।একইসাথে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের বিরুদ্ধে হামলা হলে তার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর।

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান এর আগে সোমবার জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী নির্দেশ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণের জন্য একটি বিশাল হলরুম স্থাপন করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গত ৪ জুন তার দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা এক লাখ ৯০ হাজার এসডাব্লিউইউতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন। তার ওই নির্দেশের দুই দিন পর সালেহি বলেদছিলেন, আগামী ১০ মাসের মধ্যে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে গত মে মাসে আমেরিকাকে বের করে নেন ট্রাম্প। কিন্তু সমঝোতার বাকি পক্ষগুলো অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সমঝোতা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে একঘরে হয়ে পড়েছে আমেরিকা।

আধুনিক সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণ করছে ইরান
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইরান আধুনিক সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক হলঘর নির্মাণ করেছে। ইরানের আণবিক শক্তি কমিশন বা এইওআই'য়ের প্রধান আলি আকবর সালেহি এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী নির্দেশে এটি তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত বিশেষ হলঘরটি এখন উৎপাদন চালানোর উপযোগী হয়েছে।

সালেহি আরো বলেন, বিরাজমান পরিস্থিতি বিচার করে ইরান সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তি চালিত জাহাজ তৈরি সংক্রান্ত ফরমান জারির বিষয়কেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। উভয় ক্ষেত্রেই ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ মেনে চলেছেন বলেও জানান তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বিদ্বেষী আচরণের চরম জবাব দেয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, আঘাত করে বিনা জবাবে পার পাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।

তিনি সোমবার তেহরানে এক বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আলী শামখানি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আঘাত খেয়ে চুপ করে বসে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ক্ষেত্রে বৈরী আচরণের দশগুণ পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরাকের কুর্দিস্তানে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সম্প্রতি আইআরজিসি যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তা হচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার একটি সামান্য উদাহরণ।

তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিমত্তা ও সম্মাজনক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু যে ইরানি জাতি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অজন করেছে সে জাতি অর্থনৈতিক সমস্যাও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।


আরো সংবাদ