২১ নভেম্বর ২০১৮

সিরিয়া শতাব্দীর ‘ভয়াবহতম’ সঙ্কটের আশঙ্কা

সিরিয়া শতাব্দীর ‘ভয়াবহতম’ সঙ্কটের আশঙ্কা - সংগৃহীত

 সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সহিংসতার কারণে শুধু এ মাসেই ৩০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ এ কথা জানিয়েছে। এটি শতাব্দীর ‘ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা 

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশ ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকাগুলো এখনো বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারের সফলতাকে ম্লান করে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এখন ইদলিব পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। তার বাহিনী চলতি মাসের গোড়ার দিকে ওই অঞ্চলের ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বোমা বর্ষণ শুরু করেছে।

সোমবার জাতিসঙ্ঘের মানবিক সমন্বয়কারী সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, বাশার বাহিনীর এই অভিযান ও নির্বিচারে গোলাবর্ষণের কারণে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে ৩০ হাজার ৪৫২ স্থানীয় বাসিন্দা ইদলিব ও পার্শ্ববর্তী হামা প্রদেশ থেকে অন্যত্র চলে গেছে।

ওসিএইচএ’র মুখপাত্র ডেভিড সোয়ানসন বলেন, ‘সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ব্যাপারে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এর কারণে ওই এলাকা থেকে ৩০ হাজার স্থানীয় বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আমরা সেখানকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

বাস্তুচ্যুতদের অনেকেই উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্রোতের মতো তুরস্কে চলে যাচ্ছে। এদের অর্ধেকের কম লোক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে চাইছে। অন্যরা নিরাপদ এলাকাগুলোতে কোন পরিবারের সঙ্গে থাকছে বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিচ্ছে।

ইদলিবে এএফপি’র এক সংবাদদাতা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে সীমান্তের দিতে যেতে দেখেছেন। তারা গোলার হাত থেকে জীবন বাঁচাতে ছুটে চলেছেন। অন্য এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ চলছে।

প্রদেশের প্রধান মহাসড়ক দিয়ে মোটর সাইকেলে করে ও তাদের বাচ্চারা পায়ে হেঁটে উত্তরের দিকে যাচ্ছে। তারা তাদের পালিত ভেড়াগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু জসিম জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় খান শেখুন শহরের কাছে সর্বশেষ গোলাবর্ষণের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেও তারা প্রদেশের মধ্যেই কয়েকবার থাকার জায়গা পরিবর্তন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা (বাশার বাহিনী) আমাদের এলাকায় চারটি রকেট নিক্ষেপ করেছে। তাই আমরা আমাদের গৃহপালিত পশুর পাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি।’ লোকটির বয়স ৩০ এর কোঠায়।

তিনি বলেন, ‘যেখানে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে, আমরা সেখানেই যাবো।’
এই ভাগ্যান্বেষী আরো বলেন, ‘আমার ৩০টি ভেড়া আছে। এদের জন্য প্রতিদিন আমার পানি, খড়, ভুষি দরকার।’

জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর হামলার কারণে ইদলিব ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ৮০ হাজার মানুষ বাস্ত্যুচ্যুত হতে পারে।
এই এলাকায় এখন ৩০ লাখ লোক বাস করছে। সাত বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যেই অন্যত্র চলে গেছে। অন্যান্যরা টিকে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।


আরো সংবাদ