২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নারী সহকর্মীর সাথে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করায় গ্রেফতার

ভিডিও থেকে নেয়া ছবি - ছবি : সংগ্রহ

এক নারী সহকর্মীর সাথে রেস্টুরেন্টে বসে সকালের নাস্তা করার অপরাধে এক মিসরীয় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে সৌদি আরবে। তাদের দুজনের এক সাথে বসে নাস্তা করার ভিডিও টুইটারে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে টুইটারে অনেকেই তাদের দুজনের কড়া সমালোচনা করেছেন।

টুইটারে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, মিসরীয় টানে আরবি বলছে এমন এক পুরুষ নাস্তা করছে। তার পাশে বসে আছে বোরকা পরা
এক নারী। নেকাবে মুখ ঢাকা এই নারী সৌদি বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে।

সৌদি আরবে অনাত্মীয় নারী-পুরুষের এভাবে প্রকাশ্যে কোন রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে বসা নিষেধ। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো রেস্টুরেন্টে বা
স্টারবাকসের মতো কফি শপে তাদের বসতে হয় পৃথক জায়গায়। পুরুষ কোন আত্মীয় সঙ্গে না নিয়ে মেয়েদের একা বাইরে যাওয়াও নিষেধ। সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই মিসরীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে কেবলমাত্র সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে বসা এবং আরও কয়েকটি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

টুইটারে তাদের দুজনের এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয় 'এক সৌদির সাথে এক মিসরীয় লোকের প্রাতরাশ' হ্যাশট্যাগে। এরপর এই
হ্যাশট্যাগটি এক লাখের বেশিবার ব্যবহৃত হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সৌদিদের সাথে মিসরীয়দের রীতিমত বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে টুইটারে। টুইটারে শেয়ার করা পুরো ভিডিওটি মাত্র তিরিশ সেকেন্ডের। সেখানে এই দুজনকে এক সাথে নাস্তা করার সময় হাসি-ঠাট্টা করতে দেখা যায়। আর কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

তবে ভিডিওটির একেবারে শেষ দিকে দেখা যায়, মিসরীয় পুরুষকে খাবার তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন সঙ্গের মহিলা। মূলত এই শেষ অংশটিই
সৌদি আরবে অনেক মানুষকে মারাত্মক ক্ষিপ্ত করে তুলেছে।

টুইটারে অনেক সৌদি এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেবলমাত্র কেন পুরুষটিকেই এ ঘটনার সাজা ভোগ
করতে হচ্ছে, মহিলা কেন রেহাই পেল! মালাক নামে একজন টুইটারে মন্তব্য করেছেন, ‘আমার জানা দরকার কেন পুরুষরাই কেবল সাজা পায়, নারীরা নয়। আমি এক সৌদি নারী এবং আমি চাই এই নারীরও শাস্তি হোক। কাজের জায়গায় বসে হাসি-ঠাট্টা আর খাওয়া-দাওয়া..... তোমাদের সীমা কোথায়’ ।

তবে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ থাকা উচিৎ নয়। তারেক আবদুল আজিজ নামে একজন লিখেছেন, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সহকর্মীদের একসাথে রসিকতা করা বা খাওয়া-দাওয়া করার অধিকার থাকা উচিৎ। কিন্তু অন্য একজন বলেছেন, বিদেশিদের সাথে সৌদি নারীদের কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার কারণে সৌদিদের অনেক সামাজিক অনুশাসন, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে সৌদি আরবে এই ঘটনা নিয়ে যেরকম শোরগোল শুরু হয়েছে, তাতে মিসরের মানুষ খুব অবাক। এরকম একটি নির্দোষ ভিডিওর
কারণে যে কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে, সেটা নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবে যেখানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেখানে কিভাবে এরকম একটি ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

টেলিভিশন উপস্থাপক ওসামা গাউইশ বলেছেন, ‘সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান না এক নতুন মুক্ত সৌদি আরব চান যেখানে কনসার্ট,
সিনেমা আর সমূদ্র সৈকত থাকবে?’ আর সোনিয়া নামে এক মিসরীয় নারী বলেছেন, এটি আসলে কিছু সৌদি পুরুষের "ভঙ্গুর অহমিকার' ফল।

আরো পড়ুন : স্ত্রীর মাথা কেটে নিয়ে থানায় হাজির

স্ত্রীর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে এক যুবক। অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকায় তিনি এ কাজ করেছেন বলে পুলিশকে জানান।

রোববার সন্ধ্যায় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের চিকমাগালুর জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম সতীশ। আর নিহতের নাম রূপা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নয় বছর আগে সতীশ বিয়ে করেন রূপাকে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। স্ত্রী রূপার একই গ্রামের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ছিল। সতীশ পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি বেঙ্গালুরু থেকে বাড়িতে ফিরে তার স্ত্রী রূপার সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর মাথা কেটে ফেলেন।

পরে বিচ্ছিন্ন মাথা ব্যাগে ভরে তার টু-হুইলার নিয়ে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ সতীশকে গ্রেফতার করে।

চিকমাগালুর পুলিশ সুপার আন্নালাম কুপ্পাসামি এনডিটিভিকে বলেন, আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি এবং ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের (আইপিসি) ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।


আরো সংবাদ