২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিরিয়ায় ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি - সংগৃহীত

রুশ জেনারেল ভ্লাদিমির সাভচেঙ্কো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অ্যামেরিকার দুটি এফ-১৫ বিমান থেকে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে দিয়ার আল-জাওয়ার প্রদেশের হাজিন এলাকা লক্ষ্য করে অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টিকারী ফসফরাস বোমা হামলা চালানো হয়েছে।’

এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি৷

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের মুখপাত্র কমান্ডার শন রবার্টসন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঐ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ইউনিটের কাছে ফসফরাস বোমা নেই।

উল্লেখ্য, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, সাধারণ জনগণ ও বৈধ সামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ফসফরাস বোমা হামলা চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত মার্চে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাশিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল ব্রিটেন ভিত্তিক সংগঠন ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস'। রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘নির্লজ্জ মিথ্যা' বলে আখ্যায়িত করেছিল।

তবে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এর আগে সিরিয়ায় সাদা ফসফরাস বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

 

ইদলিবে হামলা

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শেষ এলাকা ইডলিব প্রদেশ। শনিবার থেকে সেখানে হামলা শুরু করেছে সিরিয়া ও রাশিয়া। এর আগে ইডলিবে সম্ভাব্য সামরিক হামলা বন্ধে তেহরানে বৈঠক করেন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু সেটি সফল না হওয়ায় শনিবার থেকে ইডলিবে হামলা শুরু হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো তুরস্ক এবং সিরিয়াতেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে। তারই মধ্যে তুরস্কের সীমান্ত পার করে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে তুরস্কের সৈন্য।

সেখানকার বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা বলছেন, সিরীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে দক্ষিণ ইদলিবের গ্রামগুলোতে ব্যারেল বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে সিরীয় সেনাবাহিনী ব্যারেল বোমা ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি তাদের কাছে রয়েছে।

এদিকে, ইদলিবের পাশের প্রদেশ হামায় থাকা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে রাশিয়ার জেট থেকে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ইদলিবে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের বাস। তাদের অনেকেই সিরিয়ার অন্যান্য এলাকার বাসিন্দা। ঐসব এলাকায় সংঘাত থেকে বাঁচতে তাঁরা ইডলিবে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে ইডলিবে সামরিক হামলার কারণে সর্বোচ্চ আট লাখ মানুষ গৃহহীণ হতে পারে বলে আশংকা করছে জাতিসংঘ।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীণ হয়েছেন আরো প্রায় কয়েক মিলিয়ন মানুষ।

 

আরো দেখুন : ইদলিবে চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটিতে চূড়ান্ত সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরিয়া ও রাশিয়ার সেনারা। এর বিরোধিতা করে আমেরিকা এবং তার মিত্ররা বলছে, সিরিয়া রাসায়নিক হামলা চালাবে এবং এ ধরনের হামলা হলে দামেস্কের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হবে। এর আগেও রাসায়নিক হামলার অজুহাত তুলে সিরিয়ার ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং তার মিত্ররা।

রাসায়নিক হামলার অজুহাতে সিরিয়ার কোন কোন স্থানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা হামলা চালাতে চায় তার তালিকা প্রকাশ করার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।


জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিমান হামলার জন্য পেন্টাগন এরইমধ্যে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করেছে বলে যে খবর বের হয়েছে আমেরিকা ও তার মিত্র ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের উচিত সম্ভাব্য সেসব লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করা।

নেবেনজিয়া বলেন, যদি আপনারা বিশ্বাস করেন যে, ওইসব লক্ষ্যবস্তু রাসায়নিক অস্ত্রের গুদাম তাহলে আপনারা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি কিছু সম্মান দেখান এবং রাসায়নিক অস্ত্রের গুদাম সম্পর্কিত তথ্য রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা বা ওপিসিডাব্লিউ-কে জানান।


আরো সংবাদ