১৯ নভেম্বর ২০১৮

জোরপূর্বক আল আকসায় ঢুকল ইসরাইলি দখলদাররা

আল আকসা মসজিদ চত্ত্বরে ইহুদি দখলদারদের দল - ছবি : আনাদোলু

মুসলিমদের প্রথম কেবলা ও অন্যতম পবিত্র স্থান আল আকসা মসিজদে জোর করে ঢুকে পড়েছে ইসরাইলি দখলদারদের একটি দল।
পূর্ব জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদে রোববার ওই ইসরাইলিদের দলটি ঢুকে পড়ে বলে ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে। দলটিতে ছিলো দেড়শোরও বেশি লোক। যারা জোরপূর্বক মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়ে। দলটির সাথে ইসরাইলি পুলিশ ছিলো বলে জানিয়েছে মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা।

রোববারের ঘটনা সম্পর্কে মসজিদটির তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা জেরুসালেম ইসলামিক ওয়াকফ এর কর্মকর্তা ফিরাস আল দিবস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, দেড়েশোরও বেশি ইসরাইলি ইহুদি দখলদার পবিত্র মসজিদ চত্বরের আল মুগারাবা প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, এসব দখলদারদের সাথে ইসরাইলের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। এছাড়া ইসরাইলের কৃষিমন্ত্রী উরি এরিয়েলও দখলদারদের সঙ্গে মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই পূর্ব জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনি এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে।

আল-আকসা মসজিদটি বিশ্ব মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান। অন্যদিকে ইহুদিরাও এই স্থানটিকে তাদের পবিত্র স্থান হিসেবে দাবি করে। ইহুদিরা এ স্থানটিকে ডাকেন টেম্পল মাউন্ট নামে। ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। আর ১৯৮০ সালে তারা দখল করে নেয় পুরো জেরুসালেম, দাবি করে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে। দখলের পর থেকেই ইসরাইলি বাহিনী আল আকসায় বিভিন্ন সময় প্রবেশ করছে জোরপূর্বক। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দখলকে বৈধতা দেয়নি। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব সম্প্রদায়ের মতকে উপেক্ষা করে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে চায় না।

আরো পড়ুন :  আহেদ তামিমিকে দমাতে ইসরাইলের নতুন পদক্ষেপ

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের আইকনে পরিণত হয়েছেন ১৭ বছর বয়সী আহেদ তামিমি। - ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী আহেদ তামিমির বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা তামিমির পাশাপাশি তার পরিবারের বিরুদ্ধেও ওই নিষেধাজ্ঞা বলবত হয়েছে।

শুক্রবার তার বাবা বাসিম আল তামিমি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, তারা জর্ডান হয়ে ইউরোপ সফরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে।


ফিলিস্তিনি তরুণী আহেদ তামিমি ইসরাইলি এক সেনাসদস্যকে চড় মেরেছিলেন। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ইসরাইলের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদেরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাকে এমনকি গুলি করে মেরে ফেলার দাবিও উঠেছিল ইসরাইলে। গত ডিসেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার বয়স ছিল সতের বছর। আট মাস কারাভোগের পর গত ২৯ জুলাই ছাড়া পান তিনি।

ইউরোপে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইসরাইলি জেলে তামিমির কারাভোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তামিমির। কিন্তু ইসরাইল তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে কোনো কিছু বলেনি ইসরাইল।

আহেদের বাবা ইরানের প্রেস টিভিকে বলেছেন, ইরান যে ফিলিস্তিনের শত্রুদের সাথে মিলে অঞ্চলটিকে বিভক্ত করে ফেলার চক্রান্ত করছে, আহেদ তামিমি সফরে যেতে পারলে সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরতে পারতেন। আর সে ভয়েই তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ