২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আহেদ তামিমিকে দমাতে ইসরাইলের নতুন পদক্ষেপ

ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের আইকনে পরিণত হয়েছেন ১৭ বছর বয়সী আহেদ তামিমি। - ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী আহেদ তামিমির বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা তামিমির পাশাপাশি তার পরিবারের বিরুদ্ধেও ওই নিষেধাজ্ঞা বলবত হয়েছে।

শুক্রবার তার বাবা বাসিম আল তামিমি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, তারা জর্ডান হয়ে ইউরোপ সফরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি তরুণী আহেদ তামিমি ইসরাইলি এক সেনাসদস্যকে চড় মেরেছিলেন। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ইসরাইলের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদেরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাকে এমনকি গুলি করে মেরে ফেলার দাবিও উঠেছিল ইসরাইলে। গত ডিসেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার বয়স ছিল সতের বছর। আট মাস কারাভোগের পর গত ২৯ জুলাই ছাড়া পান তিনি।

ইউরোপে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইসরাইলি জেলে তামিমির কারাভোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তামিমির। কিন্তু ইসরাইল তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে কোনো কিছু বলেনি ইসরাইল।

আহেদের বাবা ইরানের প্রেস টিভিকে বলেছেন, ইরান যে ফিলিস্তিনের শত্রুদের সাথে মিলে অঞ্চলটিকে বিভক্ত করে ফেলার চক্রান্ত করছে, আহেদ তামিমি সফরে যেতে পারলে সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরতে পারতেন। আর সে ভয়েই তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন :
আহেদ তামিমি : প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতীক
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৯ জুলাই ২০১৮
ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের আইকনে পরিণত হয়েছেন ১৭ বছর বয়সী আহেদ তামিমি। রোববার ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন এই প্রতিবাদী কিশোরী। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলি সেনাদের থাপ্পর মারার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। বাড়ি থেকে তামিমির ভাইকে ধরে নিতে এলে তামিম ইসরাইলি বাহিনীকে বাধা দেয়, এক পর্যায়ে তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করলে এক সেনাকে থাপ্পর মারে তামিমি। গত মার্চে বিচার শেষে তামিমিকে ৮ মাসের কারদণ্ড দিয়েছিলো ইসরাইলি আদালত।

২০০১ সালের ৩১ জানুয়ারি পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের নবী সালেহ এলাকায় জন্ম আহেদ তামিমির। তামিমির জন্মই হয়েছে এমন একটি পরিবারে, যারা সর্বদা ইসরাইলি আগ্রসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলনে জড়িত। তাই শিশু বয়স থেকেই তামিমি জড়িত হয়েছেন আগ্রাসনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। ইসরইলি সেনাদের বিরুদ্ধে সেই শিশুকাল থেকেই নিয়মিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন তামিমি। তাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়।

তামিমির বাবা, মা ও ভাইয়েরা অনেক বার আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ইসরাইলি বাহিনীর হাতে। তামিমির চাচা রুশদি আল তামিমি ২০১২ সালে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার ফুফু বাসিমা আল তামিমি ১৯৯৩ সালে ইসরাইলি পুলিশের পিটুনিতে নিহত হয়েছে। ঠিক সেই সময়ই ইসরাইলি আদালতে বিচার চলছিলো সেই ফুফুর ছেলের।

স্কুল জীবন থেকেই তামিমি নিয়মিত ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে থাকে। অসীম সাহসী ভুমিকার কারণে প্রতিরোধ আন্দোলনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে সে। প্রকাশ্যে ইসরাইলি সেনা ও পুলিশের সাথে তর্ক করা, খুব কাছ থেকে তাদের ওপর পাথর ছুড়ে মারা এমনকি ঘুষি মারার মতো দুঃসাহসিক কাজ করে আলোচনার জন্ম দেয়।

শৈশবে আর দশটা সাধারণ শিশুর মতো কাটেনি আহেদ তামিমির। ফিলিস্তিনি শিশুদের যেটি প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করতে হয়, সেই গুলি, বোমার মধ্যেই কেটেছে তার শৈশব। আহেদ তামিমির চাচা নাজি আল তামিমি বলেন, ‘নিয়মিত এসব বিক্ষোভ-সংঘাতের মুখোমুখি হতেন আহেদ। রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাসে আহতও হয়েছে সে। শৈশবেই দেখেছে বাবা, মায়ের গ্রেফতার, প্রত্যক্ষ করেছে চাচা ও ফুফুর শাহাদাৎবরণ’।

দেশে ও দেশের বাইরেও বিভিন্ন ইসরাইলী আগ্রাসন বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তামিমি। বিশেষ করে তুরস্ক, ফ্রান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এবারের গ্রেফতারের পর সারা বিশ্বেই আলোচিত চরিত্র হয়ে ওঠেন তামিমি। ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ প্রতিবাদ সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন ধূসর চুলের এই কিশোরী।

সম্প্রতি আহেদ তামিমির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিলিস্তিনি শহর বেথলেহেমে গ্রিফিতি অঙ্কণ করায় দুই ইতালীয় আর্টিস্টকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল। ২০১২ সালে তামিমিকে সাহসিকতা পুরস্কার দেয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বাসাকশেইর পৌর কর্তৃপক্ষ। সোমবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে, আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তামিমি।

অবশেষে মুক্তি পেলেন ইসরায়েলি সৈন্যকে চড় মারা সেই কিশোরী
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৯ জুলাই ২০১৮
আট মাস পর ইসরাইলের সামরিক কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি। গত বছর তার বাড়ির সামনে ইসরায়েলি এক সৈন্যের গালে সপাটে চড় বসিয়ে দেন। এরপর গ্রেফতার হন ইসরাইলী বাহিনীর হাতে। গ্রেফতারের পর সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে সে এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। খবর বিবিসির।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেইে আহেদ তামিমি বারোবার অভিযুক্ত হয়েছেন, এর মধ্যে চারবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে তার চড় মারার সেই ফুটেজ ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঐ বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি সৈন্যদের সাথে আহেদ তামিমির ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঐ কিশোরী সপাটে চড় বসিয়ে দেয় এক সৈন্যের গালে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঐ চড়ে ঐ সেনা সদস্যের ভ্রু কেটে গেছে। আহেদ তামিমির বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচণায় সহিংসতা এবং দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামরিক আদালতে সে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ইসরায়েলে এ ধরণের অপরাধে, একজন প্রাপ্তবয়স্কের ১০ বছরের সাজা হতে পারে। কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, কম বয়সের কারণে হয়তো লঘু সাজা হতে পারে এই কিশোরীর। তাই মাত্র আট মাস কারাগারে কাটিয়েই মুক্তি পেল আহেদ তামিমি।

একটি চড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের নতুন এক প্রতীক হয়ে উঠেছে ১৬ বছরের আহেদ তামিমি। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনা-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সে।

ইসরায়েলের সৈন্যের গালে সপাটে চড় মারার পর সেদেশের বাম-ঘেঁষা দৈনিক হারেতজ লিখেছে, ইসরায়েল যদি আহেদ তামিমির বিচার নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে এই কিশোরী হয়তো "ফিলিস্তিনি জোয়ান আর্ক হয়ে উঠবে।"

অন্যদিকে দক্ষিণ-পন্থী ইসরায়েলিরা সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে লিখছে, কেন তারা ঐ ফিলিস্তিনি কিশোরীর মুখে পাল্টা চড় মারলো না। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ নামের একটি গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের লোকজন প্রতি সপ্তাহে একদিন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।

এই ধরণের দুঃসাহসিক কাজ এই কিশোরী আগেও করেছে।

দু বছর আগে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টার সময় সে ইসরায়েলি সৈন্যের হাত কামড়ে দিয়েছিলো। তারও আগে ২০১২ সালে ইসরায়েলি সৈন্যদের সাহসের সাথে মোকাবেলার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগান তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। আহেদ তামিমির বয়স তখন ছিল মাত্র ১১ বছর।


আরো সংবাদ