২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হিটলার সম্পর্কে দুতার্তেকে ‘জ্ঞান দিলেন’ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট

ইসরাইল
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ভবনে অতিথির বইতে স্বাক্ষর করছেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট দুতার্তে , তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট রিভলিন - ছবি : র‌্যাপলার

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলার সম্পর্কে ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে ‘জ্ঞান দিয়েছেন’ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। ২০১৬ সালে নিজেকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন দুতার্তে।

‘হিটলার আসলে শয়তানকেই প্রতিনিধিত্ব করছিল,’ মঙ্গলবার দুতার্তেকে বলেন রিভলিন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের জেরুসালেম কার্যালয়ে দুই নেতার বৈঠক চলাকালে এ কথা বলেন তিনি।

ইসরাইল সফররত দুতার্তে সোমবার ইয়াদ ভাসেম হলোকাস্ট মেমোরিয়াল পরিদর্শন করেন। রিভলিন সেই প্রসঙ্গ টেনে আশা প্রকাশ করে দুতার্তেকে বলেন, ‘আপনি জেরুসালেমে মিউজিয়ামটি পরিদর্শন করে সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন, যেসব মানুষ সেই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল, তাদের অনুভূতি কেমন ছিল।’

দুতার্তে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন বলে গণমাধ্যম জানাচ্ছে। তবে সেই বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে মূলত ইসরাইলের সাথে তার দেশের বাণিজ্য এবং সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেছেন।

ফিলিপাইনের এই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট ২০১৬ সালে তার দেশে মাদক নির্মূল অভিযান চলাকালে নিজেকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ‘হিটলার ত্রিশ লাখ ইহুদি হত্যা করেছে। এখন (ফিলিপাইন্সে) ত্রিশ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। তাদেরকে জবাই করতে পারলে আমার ভালো লাগবে।’

ইতিহাসবিদরা মনে করেন, হলোকাস্টে ষাট লাখ ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল।

রিভিলিনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দুতার্তে তার দেশের নিরাপত্তার জন্য ইসরাইলের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কিনতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে জেরুসালেমে দুই নেতার বৈঠক চলাকালে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন কিছু মানুষ। তারা মনে করেন, ফিলিপাইন্সে যে ‘অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে’, তাতে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে ইসরাইলের অংশ নেয়া উচিত হবে না।

উল্লেখ্য, দুতার্তে সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার তিনি তেল আবিভে একটি স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করবেন, যেটি হলোকস্ট থেকে বাঁচতে ফিলিপাইন্সে আশ্রয় নেয়া ১,৩০০ ইহুদির স্মরণে করা হয়েছে। সেই সময় তাদের আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিল দেশটি। সূত্র : ডয়চে ভেলে

আরো পড়ুন :
হলোকাস্ট নিয়ে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত মন্তব্য
ডয়চে ভেলে, ২২ অক্টোবর, ২০১৫
বৃহস্পতিবার বার্লিনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলিত হবার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যাবতীয় প্ররোচনা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন। এর আগে হলোকাস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

কেরি সাংবাদিকদের বলেন : ‘সব ধরনের প্ররোচনা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি; সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা ও ভবিষ্যতের একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সম্ভাবনার দিকে অগ্রসর হওয়া, যে সম্ভাবনা আপাতত অনুপস্থিত।’

কেরির পাশে তখন নেতানিয়াহু বসে ছিলেন। নেতানিয়াহু অবশ্য তার বক্তব্যে পুনরায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে এ মাসের শুরু থেকে চলমান সহিংসতার জন্য দায়ী করেন।

নেতানিয়াহু বলেন : ‘এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না যে, সাম্প্রতিক আক্রমণের হিড়িক চলেছে সরাসরি প্ররোচনার কারণে - হামাস, ইসরাইলে ইসলামপন্থি আন্দোলন এবং আমাকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট আব্বাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা থেকে।’

এর আগের দিন নেতানিয়াহু নিজেই একটি মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েন। একটি বক্তৃতায় তিনি এই মত প্রকাশ করেন যে, এক ফিলিস্তিনি নেতা হিটলারকে হলোকস্টের ধারণা দিয়েছিলেন। অতঃপর বিভিন্ন ইসরাইলি ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিক, এবং সেই সাথে জার্মান সরকারের তরফ থেকেও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে।

বার্লিনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ষাট লাখ ইহুদিকে হত্যার জন্য হিটলার ও নাৎসিদের দায়িত্ব সব নিরপেক্ষ মানুষের কাছেই স্পষ্ট।’ যুগপৎ তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৪১ সালে জেরুসালেমের গ্র্যান্ড মুফতি হজ আমিন আল-হুসেইনির ভূমিকাও বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়।

নেতানিয়াহুর সাথে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মার্কেল পুনরায় বলেন যে, তার দেশ ‘হলোকস্টের জন্য দায়ী’ এবং ‘আমরা অতীত ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করার কোনো কারণ দেখি না।’

বৃহস্পতিবারও ইসরাইলে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার স্রোতে অক্টোবর মাসে এ পর্যন্ত ৪৯ জন ফিলিস্তিনি ও আটজন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।


আরো সংবাদ