১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াবে ইরান

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান - ছবি : সংগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে সেই সাথে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, সাবমেরিনসহ প্রতিরক্ষা খাতকে জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দেশটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা’র খবরে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আহাদি গত শনিবার বিশ্ব সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর একটি প্রতিনিধি দলের কাছে এ ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দেন। তেহরানে ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ব্যালিস্টিক ও সামুদ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আগামী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রাণালয়।

ইরানের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের অস্ত্রশিল্পের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা সাধ্যমতো গবেষণা এবং উন্নয়ন করতে পারবো। এছাড়া একই সময়ে আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে পারবো। কেননা আমাদের আছে নির্ভর করার মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষিত হাজার হাজার দ্ক্ষ নাগরিক।

ভবিষ্যত পারমাণবিক পরিকল্পনা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ এবং চলমান আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে ইরানের ভূমিকা নিয়ে ফ্রান্সের দেয়া আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কয়েকদিন পর এমন মন্তব্য করলেন ইরানের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী। ইরানের সাথে ছয় বিশ্বশক্তির পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাবে নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানালো দেশটি।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানের আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা ১৯৫৫ সালে দু'দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ব্ন্ধুত্ব চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

চলতি বছরের আগস্টে ইরান একটি নতুন দেশীয় যুদ্ধবিমান অবমুক্ত করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান। সেসময় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, দেশের সামরিক শক্তিতে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে যা শত্রুদের ভীত করবে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই সামরিক শক্তিতে আঘাত হানতে গেলে দু'বার ভাবতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।

ইরান ও অন্য শক্তিধর দেশগুলোর করা যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৫ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে আসার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দু'দেশের সম্পর্কে মারাত্মক ফাঁটল ধরে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme