১৫ নভেম্বর ২০১৮

সৌদি আরবে এক মাসে ৫ হাজার তালাক

সৌদি আরবে একমাসে ৫ হাজার তালাক - ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েই চলছে। গত শাওয়াল মাসে ১০ হাজার বিয়ে এবং ৫ হাজার তালাক হয়েছে। সৌদি বিচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

একমাসে এতো অধিক সংখ্যক তালাকের বিষয়ে দেশটির দাম্পত্যবিষয়ক পরামর্শক মোহাম্মেদ দাইফুল্লাহ আল-কুরানি বলেন, বৈবাহিক সম্পর্ককে অবমূল্যায়ন, দায়িত্বের প্রতি অবহেলা এবং গভীর রাত পর্যন্ত স্বামীদের বাসার বাইরে থাকাসহ অনেক কারণেই তালাকের সংখ্যা বাড়ছে।

এছাড়া মেয়েদের বাকস্বাধীনতা, চলা ফেরার স্বাধীনতা, বাসার কাজ ফেলে রেখে মোবাইল ফোনে অনেক সময় ব্যয় করা এবং স্বামী-স্ত্রীর বিষয়ে আত্মীয় ও আশেপাশের লোকদের হস্তক্ষেপের কারণে তালাকের সংখ্যা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আল-ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সৌদ ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান ও সমাজসেবা বিভাগের শিক্ষক খালিদ আল-নাকিয়াহ বলেন, সৌদি সমাজের ভিত্তিকে অবমাননা এবং অশ্রদ্ধা করার জন্য এমন অবস্থা হয়েছে। বিয়ের আগে ছেলেমেয়েদেরকে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। কাউকে জোর করে বিয়ে দেয়া এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে।

তালাকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে দেশটির শিশুশিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হানি আল-আবদেল কাদের বলেন, বাল্যবিয়ের কারণেই তালাকের সংখ্যা বাড়ছে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা নিশ্চিত হতে হবে। এই পরিপক্বতাই বৈবাহিক সুখ এবং পারিবারিক স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি।

আরো পড়ুন :

শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণীর বিমান ভ্রমণ নিষিদ্ধ করলেন ইমরান
পিটিআই

রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণীর বিমানের ব্যয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নতুন সরকার। দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। 
ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত্ব মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, এখন থেকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সিনেটের চেয়ারম্যান, জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও মুখ্যমন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিমানের কাব অথবা বিজনেস কাসে ভ্রমণ করবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে পাক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেনাপ্রধানেরও বিমানের প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণের অনুমতি নেই এবং তিনি সবসময় বিজনেস কাসেই ভ্রমণ করেন। তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য কর্মকর্তার বিমানে ভ্রমণের জন্য সরকারি তহবিলের এই ব্যয় বন্ধের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার। 
দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মাত্র এক বছরে বিমান ভ্রমণে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ১০০ কোটি রুপি ব্যয় করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ফাওয়াদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অথবা দেশের ভেতরে সফর জন্যও বিশেষ বিমান ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের সদ্য মতায় নেয়া প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। বিজনেস কাসেই তিনি সব সফর সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের গত ২৫ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ইমরান খান প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাসাদসম প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ব্যবহার করবেন না বলে ঘোষণা দেন। তবে ওই বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের জন্য ছোট একটি অংশ রয়েছে; যেখানে তিনি থাকবেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য বিশাল ইউনিট কমিয়ে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেট তারকা। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাত্র দু’টি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং দু’জন গৃহকর্মী রাখবেন।


আরো সংবাদ