১৭ নভেম্বর ২০১৮

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসরাইল

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসরাইল - ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসরাইল। তেহরান ও দামেস্কের মধ্যকার সহযোগিতা চুক্তিকে ভয় পায় না ইসরাইল।

আইএস এবং ন্যাটোর হামলা মোকাবেলায় সিরিয়ার পাশে ইরান সেনাবাহিনী থাকার ঘোষণা এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সাথে নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির পর বুধবার এসব কথা বলেন তিনি।

ইসরাইলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজের পরবর্তীতে ইসরাইলের পারমাণবিক সহজসাধ্যতা শীর্ষক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহে ইরানের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত-কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। সিরিয়া-ইরানের মধ্যকার কোনো চুক্তিতেই আমরা ভীত নই। কখনো কারো হুমকিকে আমরা ভয় পাই না।

নেতানিয়াহু আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে এটাই সাধারণ সত্য যে, পৃথিবীর কোথাও দুর্বলের কোনো স্থান নেই। দুর্বলের পতন ঘটবে, তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হবে। যে শক্তিশালী, সে খারাপ হোক কিংবা ভালো হোক; সেই টিকে থাকবে। সেই শক্তিশালী যে সম্মানিত, তারাই শক্তিশালী যারা জোটবদ্ধ-ঐক্যবদ্ধ এবং অবশেষে তারাই শক্তিশালী যারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

ইরানের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবুল কাসেম আলী নেজাদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি থাকবে। সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় মাইন অপসারণ ও সামরিক কারখানা পুনর্স্থাপনে ইরান সহায়তা করবে। সিরিয়ার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সিরিয়াকে সহযোগিতা করাকেই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন :

হরমুজ প্রণালী রক্ষায় প্রস্তুত ইরান : সেনাপ্রধান
পার্স টুডে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, পারস্য উপসোগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো রকমের লঙ্ঘন হলে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইআরজিসি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার ইরানের ধর্মীয় নগরী মাশহাদে আইআরজিসি’র নৌ সেনাদের এক সমাবেশে জেনারেল বাকেরি এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আইআরজিসি’র নৌ সেনাদের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ অবস্থায় রয়েছে। পারস্য উপাসগরে কোনো রকমের ভুল পদক্ষেপ নেয়া হলে শত্রুদেরকে চরম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।


জেনারেল বাকেরি বলেন, আগ্রাসীদেরকে হরমুজ প্রণালীতে পৌঁছানোর আগেই ছত্রভঙ্গ ও হতাশ করে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শত্রুরা যদি আইআরজিসি’র নৌ সেনাদের সতর্কতা ও যুদ্ধ-প্রস্তুতি দেখতে চায় তাহলে তাদেরকে একটা সফল, আধুনিক, যোগ্য এবং দৃঢ়চেতা শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।

কিছুদিন আগে থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ৪ নভেম্বর ইরানের তেলের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রি শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইরান বলেছে, যদি পারস্য উপসাগর দিয়ে তেহরান তেল বিক্রি করতে না পারে তাহলে অন্য কাউকে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না।

আরো পড়ুন :

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা নয়: খামেনী
পার্স টুডে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তেহরান কোনো ধরণের আলোচনায় বসবে না’। তিনি বলেন, মার্কিন নেতারা প্রকাশ্যে ইরানিদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। এ ধরণের ব্যক্তিদের সাথে কোনো পর্যায়েই আলোচনা করা হবে না।’ বুধবার প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব সরকারই ইরানের সাথে আলোচনার কথা বলেছে। এটা তাদের জন্য প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে দেখাতে ও বলতে চায় যে, তারা ইরানকেও আলোচনায় বসাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের সাথে কোনো ধরণের আলোচনা করা হবে না।


প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের তিনি বলেন, ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ও আলোচনায় কোনো সমস্যা নেই। অবশ্যই তাদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে পরমাণু সমঝোতা ও অর্থনীতির মতো ইস্যুতে তাদের কাছ থেকে কোনো কিছুই আশা করা যায় না। তাদের কাছ থেকে কিছু আশা করবেন না।

পরমাণু সমঝোতা ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপের অবস্থান ও আচরণের সমালোচনা করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে এবং খুবই সতর্কতার সাথে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা আমাদের মূল টার্গেট নয়, এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি মাধ্যম। স্বাভাবিকভাবেই পরমাণু সমঝোতা থেকে কোনো ফলাফল পাওয়া না গেলে এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত না হলে আমরা আর সমঝোতা মানব না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, ইউরোপীয়দের উচিৎ ইরানি কর্মকর্তাদের কথা ও কাজকে ভালোভাবে উপলব্ধি করা। কারণ ইউরোপীয়দের পদক্ষেপের ভিত্তিতে ইসলামি ইরানও প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে।


আরো সংবাদ