১৬ নভেম্বর ২০১৮

৫০ লাখের মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে শরণার্থীর মর্যাদা!

৫০ লাখের মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে শরণার্থীর মর্যাদা! - সংগৃহীত

মাত্র ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, এখন ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকাশিতব্য এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ স্বীকৃত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। যা জাতিসঙ্ঘের তালিকায় থাকা শরণার্থীদের এক দশমাংশ। আরব-ইসরাইল প্রথম যুদ্ধের পর ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বসত-ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পর ১৯৪৯ সালে ইউএনআরডব্লিউএ গঠন করা হয়। তারা এখন প্রায় ৫০ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা করে থাকে।

ইউএনআরডব্লিউএ’র দেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংজ্ঞা মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান নিয়মে শরণার্থীর মর্যাদা এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমতীরে ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য তহবিল বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। এছাড়া সংস্থাটির কার্যক্রম কমানোর জন্য ইসরাইলকে আহ্বানও জানাবে। ইউএনআরডব্লিউএ’র সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র ২০‌১৭ সালেও সংস্থাটিকে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল যোগান দিয়েছে।

এই মাসের শুরুতে খবর পাওয়া যায়, ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনার জর্ডানে অবস্থানরত ২০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার শরণার্থী মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার জন্য দেশটির ওপর চাপ দিয়েছেন। গত জুন মাসে ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় কুশনার জর্ডানের কর্মকর্তাদের এই কথা বলেন।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য হানান আশরাবি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ’কে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলে তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতেই কুশনার ও ট্রাম্প প্রশাসন এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কুশনার বলেছেন এসব দেশেই শরণার্থীদের পুনর্বাসন হয়ে গেছে আর ইউএনআরডব্লিউএ যা করছে এসব দেশের সরকারই তা করতে পারবে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য বরাদ্দকৃত ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে থেকে সাড়ে ৬ কোটি ডলার স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসঙ্ঘ সদস্যদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় পাওয়া তহবিল দিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা করছে। শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে আগেই ৬৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

লড়াইয়ে বিজয়ী হচ্ছে ফিলিস্তিনি বীর কন্যা তামিমি
২৬ জুলাই ২০১৮

দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবশেষে বিজয়ী হতে চলেছে ফিলিস্তিনি বীর কন্যা আহেদ আল-তামিমি। নতুন প্রজন্মের এক বীরপ্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানো তামিমি আগামী রোববার মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনিদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা তামিমির মুক্তি পাচ্ছেন এমন সংবাদে ফিলিস্তিনিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ সংগ্রামের আইকন প্রতিবাদী তামিমিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। ‘রেডিয়েন্স অব রেসিসটেন্স’ নামের চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালে নির্মিত। এখানে আহেদ আল-তামিমির ১৪ বছর বয়সের গল্প বলা হয়েছে। তখন তিনি তার নয় বছর বয়সী বান্ধবী জেনা আজাদকে নিয়ে কাজ করতেন। এই দুইজন ফিলিস্তিনিদের কাছে কনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। এক ঘণ্টার স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন, আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা জেসি রবার্ট। এখানে দুইজন তরুণ প্রতিবাদকারীর চোখ দিয়ে ফিলিস্তিনি-ইসরাইল দ্বন্দ্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির বর্ণনায় লেখা হয়েছে, ফিলিস্তিনি কিশোররা প্রতিদিন কিভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে এবং দেশটির নতুন প্রজন্ম কিভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। 

অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দুই হানাদার সেনাকে চড় ও লাথি দেয়ার ঘটনায় তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল। ১৭ বছর বয়সী এ তরুণীর বাবা  বাসেম আল তামিমি এ তথ্য জানিয়েছেন। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমি বলেন, তার মেয়ে ১৯ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মুক্তির দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।বিশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ কারো কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন। গত মার্চে দেশটির সামরিক আদালত তাকে আট মাসের সাজা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের কারাগারে আটক রয়েছেন। যাদের মধ্যে সাড়ে তিনশর বেশি শিশু। বিচারের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ১৭ বছরের এ সাহসী কিশোরী বলেছিল, আমিই হানাদার সেনাদের চড়িয়েছি, লাথি দিয়েছি। অবৈধ দখলদারদের অধীনে কোনো ন্যায়বিচার হতে পারে না। একটা অবৈধ আদালতে আমাদের বিচার চলছে।  

এর পর ইসরাইলি আদালত আহেদকে আট মাসের কারাদণ্ড ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করেছিল। ইসরাইলি আইনজীবী লাস্কি আইনি প্রক্রিয়াকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল, আহেদের মতো অন্য ফিলিস্তিনি তরুণদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ থেকে দূরে রাখতেই তাকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে। 

কারাগারে আহেদ পড়াশোনা করে সময় কাটায় বলে জানিয়েছিলেন তার বাবা। তিনি বলেছিলেন,  তামিমিকে আট মাসের কারাদণ্ড প্রদান ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করা পুরোপুরি অবিচার। ফিলিস্তিনিদের দমন করতেই এই সাজানো বিচারের আয়োজন করা হয়েছে। তার মেয়ে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে এ জন্য যে, তাকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। 

এত আলোচিত এই ঘটনাটি হচ্ছে- ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তাদের বাড়ির প্রবেশপথের কাছে দাঁড়ানো দুই ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে যান কোঁকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু ওই দুই সেনা তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর ওই দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সেনারা কোনো তোয়াক্কা না করায় এক সেনার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তিনি। এ দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এ ভিডিওকে ঘিরে ফিলিস্তিনি কিশোরীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদমাধ্যমগুলো।

 থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা মাসহ ওই কিশোরী আহেদ ও তার ২১ বছর বয়সী চাচাতো বোন নূর নাজি আল তামিমিকে গ্রেফতার করে। আহেদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, মোবাইল ও বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় তামিমির পরিবারের লোকজনকে সেনারা মারধরও করে।

তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা ও এবিসি নিউজ


আরো সংবাদ