১৪ নভেম্বর ২০১৮

গাজা ও পশ্চিম তীরে ২০ কোটি ডলারের সহায়তা কমালো যুক্তরাষ্ট্র

গাজা ও পশ্চিম তীরে ২০ কোটি ডলারের সহায়তা কমালো যুক্তরাষ্ট্র - সংগৃহীত

গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি জনগণ ও পশ্চিম তীরের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ কোটি মার্কিন ডলারের  আর্থিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসঙ্ঘের শাখা সংগঠন ইউএনআরডব্লিউএ’তে দেওয়া সহায়তা বিপুল পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে শান্তিবিরোধী উল্লেখ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জের ধরে এ সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, দখলীকৃত পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকে ২০ কোটি ডলার অন্য একটি প্রকল্পে সরিয়ে নিতে। ফিলিস্তিন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কর্মসূচিগুলো পর্যবেক্ষণের পর প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেরুসালেমে অবস্থিত পশ্চিম তীর ও গাজার জন্য এই সহায়তা বরাদ্দ ছিল। ফিলিস্তিনের এই তহবিলটি এখন অন্যত্র  সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।  তবে ঠিক কোথায় তা ব্যয় হবে তা জানানো হয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে এই তহবিল যাতে ব্যয় করা হয় সেজন্য পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গাজায় সহায়তা প্রদানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গাজায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর সহায়তা দিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ওই অঞ্চল হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় গাজার বাসিন্দাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে মানবিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো শোচনীয় আকার ধারণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)। তারা পদক্ষেপটিকে একটি সস্তা ব্ল্যাকমেইল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি জনগণ ও নেতৃত্ব এতে ভয় পাবে না ও বলপ্রয়োগের কাছে মাথা নত করবে না। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার বিক্রি করা হয় না।

জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রশাসন ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফিলিস্তিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার আর অধিকার রাখে না বলেও মন্তব্য করে ফিলিস্তিন। এর জের ধরে ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে আগেই ৬৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুনে ফিলিস্তিনিদের আরেকটি সহযোগিতাও বাতিল করা হয়।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলোত বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এত দিনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পৃক্ততা ধ্বংস করে দিচ্ছে। জেরুসালেম ও ইউএনআরডব্লিউএর পর এই সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে শেষ করে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর শান্তিবিরোধী এজেন্ডাকেই আলিঙ্গন করা হয়েছে।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসকে দোষারোপ করেছেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর প্যাট্রিক লিহাই।

ট্রাম্প তাঁর জামাতা জেরাড কুশনার ও আইনজীবী জেসন গ্রিনব্ল্যাটকে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য খুব ভালো কিছু আসছে।

 


আরো সংবাদ