২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে ৬৩ হাজার রাশিয়ান সেনা

সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে ৬৩ হাজার রাশিয়ান সেনা - ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার যুদ্ধে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে রাশিয়া। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সিরিয়ায় ৬৩ হাজারের বেশি রাশিয়ান সেনা যুদ্ধ করেছে। সামরিক অভিযান শুরু করার পর এরা যুদ্ধ অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। রাশিয়ার বিমানবাহিনী ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬৬টি ‘সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করেছে, ৮৬ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে, ৩৯ হাজার বার বিমান হামলা চালিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী কিংবা সিরিয়াবাসীর হতাহতের কোনো খবর ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই সিইগু গত বছর শেষের দিকে বলেছিলেন, ৪৮ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, রাশিয়ার বিমান হামলায় কমপক্ষে ৭ হাজার ৯২৮ জন বেসামরকি নাগরিক এবং ১০ হাজার ৬৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিডিওতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী সিরিয়ায় ২৩১ ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। গত তিন বছরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অবস্থানকে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে মিত্র হিসেবে মূল ভুমিকা পালন করেছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার ক্ষমতাসীন বাশার আল-আসাদের পক্ষে যুদ্ধের ফল আনা গেছে।

সিরিয়ায় মোতায়েন করা রুশ সেনাদের মধ্যে গত তিন বছরে ৪৩৪ জন জেনারেল ছিলেন। এছাড়া এই সেনাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ছিলেন পাইলট যোদ্ধা, যারা সিরিয়ায় যুদ্ধবিমান চালিয়ে হামলা করেছেন।  উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদ্রিলের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, যেখানে ২০ লাখ লোক বাস করে।

মস্কোর কর্মকর্তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে- রাশিয়ান বিমান হামলা শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন- তারা বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের আক্রমণ করেছে।

জাতিসঙ্ঘের যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরা বলেছেন যে, রাশিয়ান ও সিরিয়ার সরকার বিমান হামলা চালিয়েছে হাসপাতালে, স্কুলে ও বাজারে। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত। অবশ্য উভয় দেশের সেনারাই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপের সাথে যুদ্ধরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোট বলেছে, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সিরিয়া ও প্রতিবেশী ইরাকে ২৯ হাজার ৮২৬ বার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্তত ১০৫৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। একটি সংস্থার হিসাবে  সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার বেসামরিক মানুষ মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন দাবি করেছেন, সিরিয়া রাশিয়ায় আটকা পড়েছে। তিনি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, মস্কো সিরিয়া থেকে ইরানি সেনাদের প্রত্যাহার করতে পারছে না। আমি মনে করি না যে তারা সেখানে এভাবেই থাকতে চায়। আমি মনে করি, ইউরোপে রাশিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রমাণ করে তারা সেখানে অন্য কাউকে চায়। যেমন- সিরিয়াকে পুনর্গঠনের অর্থ অন্য কোনো দেশ বহন করুক। তারা হয়ত এতে সফল বা বিফল হতে পারে। পুতিন ট্রাম্পকে আরো বলেছেন সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়ার স্বার্থ এক না। তাই আমরা তার সাথে আলোচনা করতে চাই তারা কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শরণার্থী হওয়া বেশিরভাগই সুন্নি সম্প্রদায়ের বলে ভাষ্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। আসাদবিরোধী বেশিরভাগ সশস্ত্র গোষ্ঠিই সুন্নি হওয়ায় আলাওয়াইত-শাসিত সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাজি হবে কিনা, তাও নিশ্চিত নয়। ৭ বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ লোক নিহত হয়েছে, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশুর আশ্রয় হয়েছে সীমান্ত ছাড়িয়ে অন্য দেশে।


আরো সংবাদ