২১ নভেম্বর ২০১৮

ইমরান খানের বাসভবন নিয়ে ঝামেলায় পুলিশ

ইমরান খান - ছবি : সংগ্রহ

নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খানকে এবার বাসস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার দিনই ইমরান খান জানিয়েছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবনে থাকবেন না। তাই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনটিকে কোন স্কুল বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো তার দল।

নির্বাচনের পর থেকে ইমরান খান তার বানিগালার বাসভবনেই থাকছিলেন। বানিগালা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রসিদ্ধ আবাসিক এলাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস করছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানে এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ইমরান খানের দল, তিনি হবে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের পরই ইমরান খানের বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসলামাবাদের পুলিশ বিভাগ। আইন অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতার জন্য কোন বিশেষ প্রটোকলের ব্যবস্থা নেয়ার বিধান না থাকলেও, যেহেতু ইমরান খানই হবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তাই তার জন্য ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ইতোমধ্যেই।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইমরান খান ও তার বাসভবনের চারদিকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে যেহেতু এলাকাটি একটি জনবহুল আবাসিক এলাকা তাই পুরোপুরি নিরাপত্তার কড়াকড়ি আরোপ করা হলে জনগনের চলাফেরা বিঘ্নিত হবে। তাই পুলিশ বিভাগ পরামর্শ দিয়েছে, মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আবসিক এলাকার একটি বাড়িতে তার বসবাসের ব্যবস্থা করার জন্য।

নির্বাচনের পরই পাকিস্তান পুলিশের ডিআইজি ওয়াকর আহমেদ চোহানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বানিগালার বাড়িতে গিয়ে ইমরান খানের সাথে দেখা করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্য ডন পত্রিকাকে জানানো হয়েছে, বানিগালা ও এর আশপাশের পাহাড়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইমরানের বাড়ির সামনের সড়কগুলোতেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য বাড়তি ট্রাফিক পুলিশও পাঠানো হয়েছে। বানিগালা এলাকার নিকটস্থ পাহাড়গুলোতে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা।

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ইমরানের সাথে দেখা করে নিরাপত্তার বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন। তারা বলেছেনে, বানিগালা এলাকায় পুরোপুরি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। এলাকাটি চারদিকে থেকে খোলা এবং হুমকি তৈরি হলেও হতে পারে। পরে মন্ত্রীপাড়ায় তার জন্য একটি বাসভবন প্রস্তুত করার সুপারিশ করা হয়।

তবে ইমরান বলেছেন, সেখানে কোন বিলাসী বাসভবন নয়, সর্বনিম্ন মানের একটি বাসভবন যেন তার জন্য প্রস্তুত করা হয়। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ইমরান খান যেভাবে চাইছ্নে সেই নিম্নমানের বাস ভবনগুলোতেও প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ও নিরাপত্তা জোরদার করা কঠিন। তাই বিষয়টি সুরাহা হওয়ার জন্য আরো কিছু সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

আরো পড়ুন : ইমরানের শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশীরা থাকছেন না
আগামী ১১ আগস্ট পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খান। প্রসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান হবে সাদামাটা। এতে কোনো বিদেশী নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী এ কথা বলেছেন। 

ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশী বিশিষ্টজনদের যোগদান সম্পর্কিত যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ইমরানের দল পিটিআই।


তবে পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, ইমরানের পক্ষ থেকে তাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনাড়ম্বরভাবে আয়োজনের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো বিদেশী ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা হবে সম্পূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান। শুধু ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ কিছু বিদেশী বন্ধু আমন্ত্রণ পাবেন। আয়োজনে কোনো অপচয় বা সীমালঙ্ঘন থাকবে না।

এরইমধ্যে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন ইমরানের খেলোয়াড় জীবনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব। এ ছাড়া ভারতের সাবেক ওপেনার নভোজৎ সিং সিধু এবং বলিউড তারকা আমির খানও নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। ইমরান খানের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে নভোজৎ সিং সিধু বলেছেন, এটা দারুণ সম্মানের ব্যাপার। আমি আমন্ত্রণ গ্রহণ করছি। খেলোয়াড়রা বাধা ডিঙিয়ে সেতুবন্ধন তৈরি করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। 

সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পাকিস্তানের নির্বাচনে পিটিআইয়ের জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে কপিল দেবই প্রথম ইমরান খানকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন।


আরো সংবাদ