১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইরানের সাথে যক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে সবকিছু হারাবে

ইরানের সাথে যক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে সবকিছু হারাবে। - ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবকিছু হারাবে। আর এই যুদ্ধ শুরু হলে সমাপ্তিটা কেমন হবে তা নির্ধারণ করবো আমরা। কারণ আমরা হলাম শাহাদাৎপিয়াসী জাতি। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সুলাইমানি বৃহস্পতিবার হামেদানে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্রাম্প জুয়াড়ির ভাষায় কথা বলেন উল্লেখ করে জেনারেল কাসেম বলেছেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জবাব পাওয়ার মতো মর্যাদার অধিকারী ট্রাম্প নন।’  গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আর কখনো হুমকি দেবেন না। দিলে এমন পরিণাম ভোগ করবেন, ইতিহাসে যাদের সংখ্যা খুব কম।’

কাসেম সুলাইমানি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘একজন সেনা সদস্য হিসেবে আপনার হুমকির জবাব দেওয়া আমার দায়িত্ব। আপনি যদি হুমকির ভাষা ব্যবহার করতে চান তাহলে আমার সঙ্গে কথা বলুন, প্রেসিডেন্টের (হাসান রুহানি) সঙ্গে নয়। আপনার জবাব দেওয়া আমাদের প্রেসিডেন্টের জন্য মর্যাদার নয়।’

ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন,‘আমরা আপনার কাছে আছি, এতোটা কাছে যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। আমরা প্রস্তুত...আপনি যদি যুদ্ধ শুরু করেন, আমরা তার শেষ করব। আপনি জানেন, এই যুদ্ধ আপনার সমস্ত সম্পদকে ধ্বংস করবে।

 

আরো দেখুন: ইরানের হুমকিতে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া

ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে দেয়ার যে সর্বশেষ হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেরকম কিছু করলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। আরব উপসাগরের নৌপথে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট এই প্রণালী। এই পথ বন্ধ করা হলে তা গোটা বিশ্বের তেলবাজারে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। তেল পরিবহনে চরম বিঘ্ন ঘটবে এবং তেলের দাম মুহূর্তের মধ্যেই অনেক বেড়ে যাবে।

ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার পরপরই ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক তেল বাজার থেকে ইরানকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে এবং নভেম্বরের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ইরানের কাছ থেকে অশোধিত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রোববার আরো কঠোর পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের ওপর বাড়তি আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছেন তিনি। তবে তিনি এটাও বলেছেন যে, ইরান যদি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে হস্তক্ষেপ না করে তাহলে সে দেশের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না।

পম্পেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সমাজেরও সহায়তা চেয়েছেন। তবে ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রেসিডেন্ট রুহানি জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেষ্টা করলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম বড় কয়েকটি অশোধিত তেল উৎপাদক দেশ এই নৌপথ দিয়েই তাদের তেল রফতানি করে থাকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যেহেতু শীর্ষ পাঁচ তেল রফতানিকারক দেশের অবস্থান আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে, সেহেতু হরমুজ প্রণালী থেকে তেল পরিবহন ক্রমেই বাড়ছে। কালো সোনা বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হচ্ছে এটি। সমুদ্রপথে বিশ্বের যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই এই প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। আর কাতার যেহেতু বিশ্বের অন্যতম বড় তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) উৎপাদক, সেহেতু ওই গ্যাসের প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি করা হয়।

বিশ্ব অর্থনীতি যতদিন তেলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, তত দিন এই প্রণালী থেকে তেল পরিবহনে কিছুটা বা অল্পসময়ের জন্য বিঘ্ন ঘটলেও তেলের বাজারে সেটির নাটকীয় প্রভাব পড়তে বাধ্য। কেননা এতে কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে। আর সৌদি আরব তখন শুধু লোহিত সাগরে থাকা সমুদ্রবন্দর থেকে তেল রফতানি করতে বাধ্য হবে। ১৯৮২ সালে স্বাক্ষরিত জাতিসঙ্ঘের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত কনভেনশন অনুযায়ী একটি দেশের তটরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল অবধি সেই দেশের সমুদ্রসীমা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন পারস্য উপসাগরে যেতে যেসব সমুদ্রযান উত্তর ও দক্ষিণ রুট ব্যবহারে বাধ্য হয় সেগুলোকে তাত্ত্বিক বিবেচনায় বাধা দিতে পারে ইরান।

তবে জাতিসঙ্ঘের এ-সংক্রান্ত কনভেনশনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিতে পারে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরকার ১৯৮২ সালে তাতে স্বাক্ষর করলেও সেটি কখনোই সে দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। তা ছাড়া পানিপথটি ব্যবহারে বাধা দিয়ে ইরান তার প্রতিবেশী তেল রফতানিকারী দেশগুলো এবং তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি করতে সক্ষম হলেও নিজেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা প্রণালীর কিছু অংশ তখন সে দেশও ব্যবহার করতে পারবে না।


আরো সংবাদ