১৫ নভেম্বর ২০১৮

আলজেরিয়ায় ২ ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীর রহস্যময় মৃত্যু

আলজেরিয়ায় নিহত হওয়া দুই ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী। ছবি - সংগৃহীত

আলজেরিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানীর লাশ পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের নিহতের পিছনে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ জড়িত থাকতে পারে।

নিহতরা হলেন, গাজা উপত্যকর খান ইউনিসের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলবানা এবং ৩৪ বছর বয়সী সুলাইমান আল ফারা। আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের শহরতলি জেরাল্ডায় আল ফারা’র অ্যাপার্টমেন্টে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আলজেরিয়ায় ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের একজনের পরিবারকে জানিয়েছে, তারা গ্যাস ইনহেলেশন বা শর্ট সার্কিটের কারণে মারা যেতে পারেন।

অনেক ফিলিস্তিনি মনে করছেন, তাদেরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এর জন্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’কে তারা দায়ী করছেন। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্ক নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
রোববার আলবানা’র ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। সেখানে কি ঘটেছে তা জানাতে আলজেরিয়া এবং ফিলিস্তিনি দূতাবাস কর্তৃপ প্রয়োজনীয় সব পদপে গ্রহণ করবে বলে আমি আশা করি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের পিছনে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গুপ্তচরদের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার একটি মসজিদে প্রবেশের সময় হামাসের একজন সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাদি আল-বাথকে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই হত্যার জন্য মোসাদকে দায়ী করে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার হত্যার পিছনে ‘বিদেশি এজেন্ট’ জড়িত ছিল। দুই বছর আগে হামাসের ড্রোন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জাওয়াহিরিকে তিউনিসিয়ায় হত্যা করা হয়েছিল।

 

আরো দেখুন : ফিলিস্তিনিদের নীরবে হত্যা করতে চায় ইসরাইল!

চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে 'ফেসবুক বিল' নামের একটি আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের ভিত্তিতে সন্ত্রাস উসকে দেয় এমন কোনো বিষয় মুছে ফেলতে ফেসবুক, গুগলসহ অন্যান্য ইন্টারনেট জায়ান্টকে অনুরোধ জানাতে পারবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার নেসেট অপর একটি আইন পাস করেছে যার মাধ্যমে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে দেশটি। কারণ, ওই মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের দমনপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ করছে বলে মনে করছে ইসরাইল। 

এই নতুন আইনের বিষয়ে ইসরাইলি শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানান, যারা ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে তারাই এই আইনের লক্ষ্যবস্তু। শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেটই ওই আইনটির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন । 

নাফতালি বেনেট বলছেন, যেসব সাবেক ইসরাইলি সেনা ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও নির্মম আচরণ করেছে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ইসরাইলি এনজিওগুলো গর্হিত কাজ করছে। তারা আমাদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছে। 

ইসরাইল প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলি বর্বরতার তথ্য বহির্বিশ্ব যাতে অবগত না হতে পারে সেজন্যই ইসরাইলের ওই প্রচেষ্টা। আর এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিরবে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের হত্যা করা। 


আরো সংবাদ