২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরমাণু প্রশ্নে ইরানের হুঁশিয়ারি

পরমাণু প্রশ্নে ইরানের হুঁশিয়ারি - ছবি : সংগৃহীত

ইরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, পাশ্চাত্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ভেঙে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব ‘ভয়ঙ্কর’ পরিণতির সম্মুখীন হবে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি শুক্রবার অসলো ফোরামের অবকাশে একদল বিশেষজ্ঞের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সেখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওমান ও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। 

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জাতিসঙ্ঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানিকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় সই করেছিল ইরান। কিন্তু গত মাসের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ওই সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে একতরফাভাবে বের করে নেন।

এ সম্পর্কে আলী আকবর সালেহি বলেন, ট্রাম্পের ‘অপরিণামদর্শী ও ভিত্তিহীন’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো পরমাণু সমঝোতাকে ধরে রাখার যে কথা মুখে বলছে তা যদি তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করে দেখাতে না পারে তাহলে এর পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’। পরমাণু সমঝোতা ভেঙে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব নজিরবিহীন নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

সূত্র : পার্স টুডে 

এডেন উপসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ
আনাদোলু
 
ইরান এডেন উপসাগরে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। গত বৃহস্পতিবার মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ দুটির একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ন্যাভাল ডেস্ট্রয়ার। কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এডেন উপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে লোহিত সাগরের সংযোগ রক্ষা করা হয়। গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনের সৈন্য ও হাউছি বিদ্রোহীদের লড়াই এ স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছিল। 

গত মঙ্গলবার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা হোদাইদার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাউছি বিদ্রোহীদের হাত থেকে পুনঃদখল করে। ইয়েমেনের বর্তমান সরকার অভিযোগ করে, হাউছি বিদ্রোহীরা হোদাইদা বন্দর ব্যবহার করে ইরান থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র আমদানি করে থাকে। দরিদ্র রাষ্ট্র ইয়েমেনে সঙ্ঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালে। শিয়া হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ দেশের বেশির ভাগ স্থান দখল করলে এ সঙ্ঘাতের সূচনা হয়। 

২০১৫ সালে সৌদি আরব ও অন্যান্য সুন্নি দেশগুলো ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে শুরু করলে লড়াই তীব্রতর হয়। পরে কুয়েতে জাতিসঙ্ঘের আয়োজিত শান্তি আলোচনা এ সঙ্ঘাত বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়।

ইসরাইলের সাবেক মন্ত্রী ইরানের গুপ্তচর!
রয়টার্স ও বিবিসি 

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ইসরাইলের সাবেক একজন মন্ত্রী। পেশায় চিকিৎসক গনেন সাজেভ গত শতকের ৯০-এর দশকে ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মাদক পাচার ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জালিয়াতির দায়ে এর আগে ২০০৫ সালে সাজেভকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।
৬২ বছর বয়সী সাজেভের বিরুদ্ধে এখন ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা সিন বেইত (শাবাক) জানিয়েছে।

২০০৭ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর সাজেভ নাইজেরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। সিন বেইত বলছে, নাইজেরিয়ায় ইরানি গোয়েন্দাদের সাথে সাজেভের যোগাযোগ ঘটে এবং দুই বার তিনি ইরান সফরও করেছিলেন। তিনি ইসরাইলের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ইরানিদের কাছে পাচার করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও ইসরাইলের বিবাদ অনেক পুরনো। ইরানে বিপ্লবের পর মতাসীনরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল রাষ্ট্রটি অবৈধভাবে টিকে আছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ইরানকে হুমকি মনে করে ইসরাইল।

দেখুন:

আরো সংবাদ