২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় ইরানি গুপ্তচর!

ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় ইরানি গুপ্তচর! - সংগৃহীত

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ইসরাইলের সাবেক একজন মন্ত্রী। পেশায় চিকিৎসক গনেন সাজেভ গত শতকের ৯০-এর দশকে ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মাদক পাচার ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জালিয়াতির দায়ে এর আগে ২০০৫ সালে সাজেভকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।


৬২ বছর বয়সী সাজেভের বিরুদ্ধে এখন ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা সিন বেইত (শাবাক) জানিয়েছে।
২০০৭ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর সাজেভ নাইজেরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। সিন বেইত বলছে, নাইজেরিয়ায় ইরানি গোয়েন্দাদের সাথে সাজেভের যোগাযোগ ঘটে এবং দুই বার তিনি ইরান সফরও করেছিলেন। তিনি ইসরাইলের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ইরানিদের কাছে পাচার করেন।


মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও ইসরাইলের বিবাদ অনেক পুরনো। ইরানে বিপ্লবের পর মতাসীনরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল রাষ্ট্রটি অবৈধভাবে টিকে আছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ইরানকে হুমকি মনে করে ইসরাইল।

আরো পড়ুন :

সৌদি-আমিরাত জোটবাহিনীর দখলে হোদায়দা বিমানবন্দর
আলজাজিরা

ইয়েমেনের দ্বিতীয় প্রধান বন্দরনগরী হোদায়দাকে হাউছি বিদ্রোহীদের দখল থেকে মুক্ত করতে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী শহরটির বিমানবন্দরের প্রধান কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেছে। ইয়েমেনের এক সামরিক সূত্র ও বাসিন্দারা এ খবর জানিয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সৌদি ও আমিরাত সমর্থিত বাহিনী বিমানবন্দরের প্রধান গেটে ঢুকে পড়ে। অন্য দিকে হাউছি বিদ্রোহীরা ট্যাংক, কামান ও মর্টার হামলা চালায় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে। ইয়েমেনের এক সামরিক সূত্র জানায়, তারা বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছে। ভোরের দিকে হাউছিদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর সেখানে প্রবেশে সক্ষম হয় জোট বাহিনী। তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হলে বেসামরিক বাসিন্দারা যখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, তখন সোমবার হাউছিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালায় সৌদি-আমিরাত জোট বাহিনী। জানা গেছে, হোদায়দা বিমানবন্দরের কাছে মানজার এলাকায় স্কুল ও বাড়িঘরের ছাদে অবস্থান নেয়া হাউছি বন্দুকধারী ও সৈন্যদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। প্রধান যুদ্ধ হোদায়দায় চলতে থাকলেও হাউছিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের অন্যান্য অংশে গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৪০ বার বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

হোদায়দা বন্দর হাতছাড়া হলে হাউছিরা শোচনীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কেননা লোহিত সাগর তীরের এই বন্দর থেকে রাজধানী সানায় তাদের শক্ত ঘাঁটিতে সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং আনুমানিক ৭০ শতাংশ বাসিন্দা খাদ্য ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেও যে হাউছিদের দমন করতে পারেনি সৌদি জোট, তারা এবার সুবিধা পাবে। 
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে কয়েক লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জাইদ রা’দ আল-হোসেইন। ইয়েমেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত হোদায়দা বন্দর শহরে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় জাতিসঙ্ঘের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে পড়ছে। 

ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে হোসেইন বলেন, হোদায়দায় সৌদি ও আমিরাতের নেতৃত্বাধীন অব্যাহত হামলা নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন। অব্যাহত হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হতে পারে। এ ছাড়া ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের জীবন রার্থে বন্দর দিয়ে আগত মানবিক সাহায্যের ওপরও হামলার বিধ্বংসী প্রভাব পড়েছে। জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের উদ্বোধন অধিবেশনে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ হোদায়দাসংলগ্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হাউছি বিদ্রোহীরা।


আরো সংবাদ