১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৪ বৈশাখ ১৪৩১, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৫
`

ফিলিস্তিনের পক্ষে ১২০ দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনের পক্ষে ১২০ দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরাইল - সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির পর ইসরাইলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। বিপুল ভোটে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাসের পর বিব্রতবোধ করছে ইসরাইল ও দেশটির মিত্ররা।

জাতিসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১২০টি দেশ। মাত্র ৮টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ৪৫টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল।

ওই প্রস্তাবে ৬০ দিনের মধ্যে অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রতি এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবে গাজা উপত্যকার ভেতরে এবং বাইরে ফিলিস্তিনিদের অবাধে চলাচলের ওপর ইসরাইল যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অবসানেরও আহবান জানানো হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে গাজা সীমান্তে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এই বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন প্রায় ১৪ হাজার ফিলিস্তিনি। 

অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল অস্ট্রেলিয়া, দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নওরু, সলোমন আইল্যান্ডস ও টোগো প্রস্তাবনাটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একই রকম একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরাইলি নৃশংসতা সহ্য করা হবে না : ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিনির প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের নৃশংসতা আর সহ্য করা হবে না। তারা গাজার চারপাশে অবৈধ ইহুদিবাদী বসতি ও সামরিক স্থাপনায় রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা এ রকেট নিক্ষেপ করেছে। হামাস ও ইসলামিক জিহাদ জানায়, তাদের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে। ইসরাইলি অপরাধ আর সহ্য করা হবে না।

হামাসের ভাষ্য, আমাদের জনগণকে রক্ষার স্বাভাবিক অধিকার থেকেই প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। সামনে যে কোনো উত্তেজনার দায়ভার ইসরাইলি দখলদারিত্বকেই নিতে হবে।

আল কাসেম ও আল কুদস বিগ্রেড জানায়, আমাদের শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি হত্যাকাণ্ডের মনোযোগ অন্যদিকে নিতেই ইসরাইল এ আগ্রাসন শুরু করেছে।

হামাসের গাজা উপত্যকার প্রধান ইসমাইল রেদওয়ান বলেন, দখলদারদের জানা উচিত যে প্রতিরোধের মাধ্যমেই তাদের অপরাধের জবাব দেয়া হবে।

২০০৮ সাল থেকে ইসরাইলের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে হামাসের। মঙ্গলবারের হামলাকে ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

হামাসের নিক্ষেপ করা মর্টারশেল ইসরাইলের কিন্ডারগার্টেনের কাছে পড়লে তাতে ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এতে কোনো হতাহত হয়নি।

হামাস ও ইসলামিক জিহাদের হামলার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জোরালো জবাব দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

তার বক্তব্যের পর পরই ইসরাইলী বিমানবাহিনী গাজায় হামলা শুরু করে। বোমার বিস্ফোরণে উপত্যকাটি কেঁপে উঠতে শুরু করে। যেসব জায়গায় হামলা হয়েছে, সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। হামাস দখলদার ইসরাইলকে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে।

ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট সদস্য এমকে জামাল জাহালকা বলেন, পরিস্থিতির এ উত্তেজনার জন্য ইসরাইল সরকার দায়ী।

তিনি বলেন, তারা গাজায় একটি অহিংস আন্দোলনকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তাদের বিক্ষোভ থামাতে ইসরাইল সামরিক সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।

রকেট হামলাকে ইরানসমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রকাশ্য হামলা হিসেবে অবিহিত করেন অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ইসরাইলি নিরাপত্তা ধ্বংস করতে চায়।

গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বসতবাড়িতে ফেরার বিক্ষোভের উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।

গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার।

১৯৪৮ সালে ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সাড়ে ৭ লাখ আরব অধিবাসী নিজেদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত হন।

পার্শ্ববর্তী আরব দেশ, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও অবরুদ্ধ গাজা- এসব আরবরা শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চলতে মাসের ১৪ তারিখে ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ফিলিস্তিনিরা।

এদিন ইসরাইলি স্নাইপাররা ৬২ নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এতে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি সেনা হতাহত হয়নি।


আরো সংবাদ



premium cement