মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

ইসরাইলের নয়া হুমকি

ইসরাইলের নয়া হুমকি - সংগৃহীত

ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ১২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ৩০ জুন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৩ হাজার ফিলিস্তিনি।

ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান গাজায় চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গাজা থেকে ইসরাইলে বেলুন উড়ে যাওয়া অব্যাহত থাকলে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করারও হুমকি দেয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা সমন্বয়কারী কামিল আবু রুকুন বলেছেন, গাজার বিক্ষোভকারীরা বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ভরে সেগুলো সীমান্তের ওপাড়ে পাঠাচ্ছে এবং এর ফলে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যাচ্ছে। বেলুন পাঠানো অব্যাহত থাকলে গাজায় কোনো হিলিয়াম গ্যাস প্রবেশ করবে না।

এর আগে গাজা থেকে উড়ে যাওয়া ঘুড়ির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরাইলি নেতারা। দখলদার ইসরাইলের ‘জিয়ুস হাউস’ পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য মোটি ইউগেভ বলেছেন, গাজা থেকে উড়ে আসা প্রতিটি ঘুড়ির মোকাবেলায় একেকজন হামাস নেতাকে হত্যা করতে হবে।

গাজার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন।

বিক্ষোভের সময় গাজাবাসীরা ঘুড়ি ও হিলিয়াম বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা ঘুড়ির লম্বা লেজে আগুন লাগিয়ে সেগুলো উড়িয়ে দিচ্ছেন। আবার কখনো কখনো বেলুনের নিচে মলোটোভ ককটেল ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। আর এসব ঘুড়ি ও বেলুন কখনো কখনো সীমান্ত দেয়ালের ওপারে ইসরাইল অধিকৃত এলাকায় গিয়ে পড়ছে।

 

আল-আকসা মসজিদবিহীন জেরুসালেমের পরিকল্পনা, সিরীয় ভূখণ্ডেরও স্বীকৃতি চায় ইসরাইল

বেপরোয়া হয়ে পড়েছে ইসরাইল। একর পর এক স্বপ্ন পূরণের দিকে ছুটছে দেশটি। ইতোমধ্যেই জেরুসালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদবিহীন একটি পোস্টার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যান। 

তেল আবিবের কাছেই অবস্থিত ইসরাইলি শহরে ডেভিড ফ্রিডম্যানের সফরে তার হাতে ছবিটি তুলে দেন আচিয়ার এক কর্মকর্তা। সমালোচকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে জেরুসালেমে আল-আকসা মসজিদকে গুড়িয়ে দেয়ার ইসরাইলি পরিকল্পনা সামনে আসলো।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে ফিলিস্তিনের জেরুসালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের পর এবার সিরিয়ার গোলান মালভূমিরও স্বীকৃতি চাইছে ইসরাইল। ১৯৬৭ সালে এই মালভূমির একাংশ দখল করে নেয় তেল আবিব। সিরিয়ার কাছ থেকে দখলে নেয়া গোলান মালভূমিকে এবার ইসরাইলের এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ ঘোষণা ত্বরান্বিত করতে মার্কিন প্রশাসনে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে ইসরাইল।

জেরুসালেমের স্বীকৃতি আদায়ের পর উজ্জীবিত ইসরাইল গোলানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ট্রাম্প প্রাশাসনের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৪ মে ২০১৮ বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন ইসরাইলের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।

ইসরাইল কাট্জ বলেন, গোলান মালভূমির ইস্যুটি ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে এজেন্ডার প্রথমে রয়েছে। আমেরিকা দখলকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা হবে ইরানের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। গত ৫১ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় গোলান স্বীকৃতির বিষয়টি প্রধান ইস্যু হিসেবে ঘুরপাক খাচ্ছে ।

তিনি বলেন, গোলান মালভূমি বিষয়ে পদ্ক্ষেপ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সেখানে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মার্কিন স্বীকৃতি সম্বলিত বিবৃতি হবে ইরানের জন্য আরো একটি বেদনাদায়ক জবাব। চলতি বছর আরো কয়েক মাস পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তেহরানকে এই বার্তা দেয়া হবে যে, তারা দেখুক যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইলকে ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিফল তারা পাচ্ছে।

১২০০ বর্গফুটের গোলান মালভূমি সিরিয়া ও ইসরাইল দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালে আরবদের সাথে ছয় দিনের যুদ্ধে অঞ্চলটি দখল করে নেয় ইসরাইল। পরে ১৯৮১ সালে এসে এটিকে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে। সেখানে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো তেল আবিবের এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৬৭ সালে দখলের পর থেকেই গোলান মালভূমিতে ইসরাইলে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অথচ শান্তিচুক্তির আওতায় ওই ভূখণ্ড কাগজে-কলমে ফেরত দেয়া হয়েছে। আর এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ভূমিকে ইসরাইলের ‘নিজস্ব ভূমি’ বলেই স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। 

সিরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে গোলানকে দামেস্কের কাছে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল ইসরাইল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের প্রভাব ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মালভূমিটির নিয়ন্ত্রণ এখন নিজের কাছে রাখতেই আগ্রহী ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবেলার কৌশল হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনও গোলান নিয়ে ইসরাইলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানান কাটজ।

গোলান মালভূমিটির সাথে জর্ডানেরও সীমান্ত আছে। তেলআবিবের দখল থেকে গোলানমুক্ত করতে ১৯৭৩ সালে সেখানে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ব্যর্থ হয় দামেস্ক। পরের বছর দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর হয়। এরপর থেকে গোলান নিয়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


আরো সংবাদ