২১ মার্চ ২০১৯

সিরিয়ায় ইরানের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করছে রাশিয়া

সিরিয়ায় ইরানের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করছে রাশিয়া - ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ায় ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ডের কাছে সেনা মোতায়েন শুরু করে রাশিয়া বোঝাতে চাইছে, মস্কো চায় সিরিয়ায় ইরান তার সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনুক। কেননা এতে তেলআবিবের সাথে তেহরানের সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে।

এ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে (কাতার ব্যতীত) সৌদি আরবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জোটগত বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রচারাভিযান শুরু করেছে। তারা বলছে, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সেই অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরানের সাথে এ চুক্তি হয়েছিল।

এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন এ জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইয়েমেনের শিয়া হাউছি বিদ্রোহীদের সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে ইরান দেশটিতে প্রবেশ করেছে এবং এর প্রতিকার করতে উপসাগরীয় দেশগুলো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ইতোমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র ক্রয় করে নিজেদের অস্ত্র সম্ভার বাড়িয়েছে।

নামহীন এ জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব নেতৃত্বে থাকলেও সব কর্মকাণ্ডের একেবারেই সম্মুখভাগে রয়েছে ইসরাইল। দেশটি সিরিয়ায় ইরানের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং কিছুদিন পরপরই সিরিয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন ইরানি ঘাঁটিতে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভূমিকা কী হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেই যায়। কারণ সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ ও তার সরকারের প্রধান সমর্থক রাশিয়া। গত মাসে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, শুধু সিরিয়ান সেনারা ইসরাইলি ভূখণ্ডের কাছে অবস্থান করবে। যার অর্থ, ইরানি বাহিনীকে দূরে অবস্থান করতে হবে।

সিরিয়ায় ইরানের শক্তি খর্ব করতে রাশিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি হয়েছে বলে গত মাসে ‘চ্যানেল ২’ নামক ইসরাইলের একটি টিভি চ্যানেল রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, এ চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের দখলকৃত গোলান মালভূমির পাশে অবস্থিত সিরিয়ার সীমান্ত থেকে ইরানি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহ বাহিনীকে দূরে রাখার দায়িত্ব নিয়েছে রাশিয়া। বিনিময়ে দক্ষিণ সীমান্তে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী মোতায়েন থাকলেও তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না ইসরাইল। এরপরই সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি বাতিল করতে মনোযোগী হয় রাশিয়া। বিশেষ করে ইসরাইলের দখল করা ভূখণ্ডের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ইরানি সেনাদের সরাতে তৎপর হয়ে ওঠে দেশটি। ইরানি ঘাঁটিতে ইসরাইলের হামলার অজুহাত তুলে গোলান মালভূমির পাশে রাশিয়া নিজেদের সৈন্য মোতায়েনও শুরু করেছে।

আরো পড়ুন :

জর্দানকে ২৫০ কোটি ডলারের সহায়তা দেবে সৌদি আরব আমিরাত ও কুয়েত
আলজাজিরা
 
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা জর্দানকে সহায়তা করার জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত মোট ২৫০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে দেশটির দিকে এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশীরা।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের’ (আইএমএফ) ঋণের অর্থ শোধ দিতে ব্যয় সঙ্কোচন ও কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জর্দান। এতে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। তাই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে জর্দানের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশীরা। মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রে চলা দেশগুলো ভয় পেয়ে গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত জর্দানে দেখা দেয়া গণ-আন্দোলন যেন আবার অন্যান্য দেশেও না ছড়িয়ে পড়ে। বাহরাইন ও মিসরে ইতোমধ্যেই এমন আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে।

মক্কাতে অনুষ্ঠিত চার দেশের এক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সহায়তাকারীরা জর্দানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ অনুদান হিসেবে দেবে, বিশ্ব ব্যাংকের গ্যারান্টির ব্যবস্থা করবে, আগামী পাঁচ বছর বাজেট প্রণয়নে সহায়তা দেবে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। সৌদি সংবাদসংস্থা আর্থিক সহায়তার ওই সিদ্ধান্তকে ‘ভাতৃসুলভ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আলোকে’ নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

২০১৬ সালে ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের’ (আইএমএফ) কাছ থেকে ৭২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ নেয়ার পর জর্দান এখন ওই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা ব্যয় সঙ্কোচন নীতি বাস্তবায়ন করা শুরু করেছিল। আর তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৃদ্ধি পেয়ে সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তা ছাড়া দেশটি রাজস্ব আয় বাড়াতে কর বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এতে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে দেশটির জনগণ। উত্তেজনা প্রশমনে পদত্যাগ করেন জর্দানের প্রধানমন্ত্রী হানি মুলকি। গত ৭ জুন সরকার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা ও ঋণ পরিশোধের বিষয় দু’টিকে সমন্বয় করাটা তাদের জন্য এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। জর্দান মনে করে, তার অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে যাওয়া হাজার হাজার উদ্বাস্তু।

জর্দানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি ২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটা জর্দানের জন্য ইউরোপের দান নয় বরং ‘বিনিয়োগ।’ জর্দান বিশ্বের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত একটি দেশ। তার ভাষ্য, ‘আমরা তাদের প্রয়োজনটা বুঝেছি। আমরা তাদের চাপের বিষয়টিও বুঝি। সেজন্যই আমরা তাদের সহায়তা করছি।’


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al