২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইরানকে ফিলিস্তিনের ধন্যবাদ, সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে

ইরানকে ফিলিস্তিনের ধন্যবাদ, সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে - সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ফিলিস্তিনি জাতি ও প্রতিরোধ সংগ্রামের জন্য ইরান অনেক করেছে। এ জন্য ইরানকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

হামাস প্রধান বলেন, ইরান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। এই দেশটির সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এটা বলা যায় যে, হামাস ও ইরানের মধ্যে এখন সর্বোত্তম ও সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক বিরাজ করছে।

তবে হামাস কখনোই এক পক্ষের বিরুদ্ধে অপর পক্ষকে সমর্থন দেবে না বলে তিনি জানান। হানিয়া বলেন, হামাসের জন্য সবার সাথে সম্পর্ক রাখা জরুরি। মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি হামাস কাতার ও ইরানের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। যেসব দেশ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন দেয় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকে হামাস গুরুত্ব দেয়। 

এছাড়া হামাসের আরেক প্রভাবশালী নেতা খালিল আল হাই বলেছেন, গোটা বিশ্বের মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমের ইসলামি পরিচিতি ধ্বংস করতে পারবে না।  ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দল ও সংগঠনের মধ্যে ঐক্য আরো জোরদার করতে হবে।

ফিলিস্তিন সমস্যার যৌক্তিক সমাধান গণভোট : খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল খামেনি বলেছেন, প্রকৃত ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণে গণভোট আয়োজনই হচ্ছে ফিলিস্তিন সমস্যার যৌক্তিক সমাধান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রোববার সন্ধ্যায় দেশের প্রখ্যাত গবেষক ও অধ্যাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশ্বের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পন্থা অর্থাৎ জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্তত ৮০ বছর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বংশ পরম্পরায় যারা বসবাস করেছে তাদের অংশগ্রহণে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। ফিলিস্তিনের ভেতরে ও বাইরে থাকা মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানসহ সব প্রকৃত ফিলিস্তিনি এ গণভোটে তাদের মতামত দেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ফিলিস্তিনের সব প্রকৃত নাগরিকের অংশগ্রহণে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব ইরানের উদ্যোগে জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন ও তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এটা কি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাহলে কেন ইউরোপীয়রা তা মানতে রাজি নয়?

 ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বর্তমান যুগের শিমার হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়ে নিজেদেরকে মজলুম হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছে ইরান লাখ লাখ ইহুদিকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু ইরান যে সমাধানের পন্থা বাতলে দিয়েছে তা হলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। 

তিনি ইউরোপীয় সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপীয়রা নেতানিয়াহুর অভিযোগ শুনেছে আর মাথা নেড়েছে। কিন্তু তারা একবারও বলেনি, (নেতানিয়াহু) তোমরাইতো গাজা ও জেরুসালেমে এ ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছ।


আরো সংবাদ