১৬ আগস্ট ২০১৮

সিরিয়ায় সেনা মহড়ায় ইসরাইল, চরম উত্তেজনা

সিরিয়ায় সেনা মহড়ায় ইসরাইল, চরম উত্তেজনা - সংগৃহীত

অধিকৃত গোলান মালভূমিতে আকস্মিকভাবে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইসরাইল। সিরিয়ার ওপর কয়েক দফা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যখন ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন এ মহড়া শুরু করল তেল আবিব সরকার।


ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধ-প্রস্ততি যাচাই করার জন্য তারা অধিকৃত ভূখণ্ডে রোববার সামরিক মহড়া শুরু করেছে এবং তা কয়েক দিন ধরে চলবে। মহড়ায় রিজার্ভ ফোর্সকেও তলব করা হয়েছে।

এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপ সফরে গিয়ে ইইউ নেতাদের বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় ইরানি সেনা অবস্থান ঘটানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তেল আবিব কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া রোববার ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছেন, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতিকে তিনি ইউরোপ সফরের সময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।

ওই সফরে নেতানিয়াহু জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

ইসরাইলের যুগ শেষ হয়েছে, নিশ্চিহ্ন হবে ইসরাইল: ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বাগাড়ম্বর ও হুমকির সঙ্গে ইরাক এবং সিরিয়ায় পরাজিত সন্ত্রাসীদের সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের আবির্ভাব এবং এ অঞ্চলে তাদের নৃশংস ও পাশবিক কর্মকাণ্ড ইসরাইলের জন্য অভাবনীয় ও সুবর্ণময় নিরাপত্তা এনে দিয়েছিল।

আলী শামখানি বলেন,  এখন ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের পরাজয় যেটিকে ইসরাইল দেখছে ইরানের সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার ফসল হিসেবে এর ফলে ইসরাইলের সেসব সোনালি দিন শেষ হয়ে এসেছে।

সম্প্রতি সিরিয়ায় ইরানের সামরিক অবস্থানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠায় ইরানকে অনুমতি দেবে না তার সরকার।

এ প্রসঙ্গে আলী শামখানি বলেন, আমরা ইসরাইলের ক্ষোভের কারণ সম্পর্কে অবগত আছি। যে কোনো আগ্রাসীদের মোকাবেলায় নিজের স্বার্থ এবং নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য তেহরান কার্যকরী এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইরানের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার দিন ইসরাইলের জন্য শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি অধিকৃত গোলান মালভূমিতে সিরিয়ার প্রতিশোধমূলক হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে আলী শামখানি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের কারণে শত্রুরা নিশ্চিত ও কঠোর জবাব পাবে। ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন বা হুমকি অথবা লোভাতুর পদক্ষেপের কঠোর জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না।

জেনারেল বাকেরি আরো বলেন, বিশ্ব সমীকরণে ইরানের ইসলামি বিপ্লব ছিল নতুন উপাদান। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে শক্তিশালী প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে তা শত্রু-মিত্র সবাই স্বীকার করে এবং এটি সম্ভব হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ‘কৌশলগত ও দূরদর্শী’ ব্যবস্থাপনা এবং দেশের জনগণের ধৈর্য ও বিচক্ষণতার কারণে।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভি বলেছেন, খাতামুল আম্বিয়া (স.) বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে নিযুক্ত সেনাদের একটি প্রত্যাশা হলো ইসরাইল নিশ্চিহ্ন হবে এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটবে। সেনাবাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া (স.) বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে সাবেক কমান্ডারদের বিদায়ী সম্বর্ধনা ও নতুনদের পরিচিতি সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মেজর জেনারেল মুসাভি আরো বলেছেন, আমরা যদিও যুদ্ধ পছন্দ করি না কিন্তু সেনারা এ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যে, কোনো দিন যদি শত্রুরা উল্টাপাল্টা কিছু করে বসে তাহলে ইরানের জবাবে শত্রুরা যেন অনুশোচনা করতে বাধ্য হয়।

খাতামুল আম্বিয়া (স.) বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা সাবাহিফার্দকে অভিনন্দন জানান সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, এই ঘাঁটি আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হবে। এ সময় বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা সাবাহিফার্দ বলেন, সমরশক্তি বাড়ানোকে তিনি গুরুত্ব দেবেন।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ইরানকে সমর্থন করাকে তেহরানের জন্য বিরাট সাফল্য।

ড. রুহানি শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের আলেমদের এক সমাবেশে আরো বলেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এখন মার্কিনীদের হাতে কোনো অজুহাত নেই। কারণ, তেহরান তার সব আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তার দেশের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বের কয়েকটি ছোট দেশ ছাড়া আর কেউ আমেরিকাকে সমর্থন দেয়নি। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে একতরফাভাবে বের করে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করা হবে। অন্যদিকে ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা আমেরিকাকে ছাড়াই এ সমঝোতা এগিয়ে নিয়ে যাবে। 


আরো সংবাদ