১৬ আগস্ট ২০১৮

নিজেদেরকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে : কাতার

নিজেদেরকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে : কাতার - সংগৃহীত

মস্কোয় নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত ফাহাদ বিন মুহাম্মাদ আলে আতিয়াহ বলেছেন, বিশ্ব এখন জঙ্গলের আইনের মাঝে অবস্থান করে না; সে যুগের অবসান হয়েছে। জঙলি আইনের যুগ শেষ হয়েছে। বিশ্ব এখন হুমকি-ভিত্তিক জঙলি আইন দ্বারা শাসিত হয় না। রাশিয়ার ও কাতারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ করাও উচিত নয়।

কাতারের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা বিশ্ব গণমাধ্যম থেকে সৌদি হুমকির বিষয়ে জানতে পেরেছি। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করছি যে, আমরা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন নীতি অনুসরণ করি এবং নিজেদেরকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে; অন্য দেশের সাথে আমরা বৈধভাবেই চুক্তি করে থাকি।

সৌদি হুমকির পর রাশিয়ার সিনিয়র সংসদ সদস্য এবং রাশিয়ার অস্ত্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক সিনেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যালেস্কি কোন্দ্রাতায়েভ বলেছেন, রিয়াদের হুমকি কাতারকে এস-৪০০ সরবরাহ করা সংক্রান্ত চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এভাবেই রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনলে কাতারের ওপর সামরিক পদক্ষেপ চালানো হবে বলে সৌদি আরব যে হুমকি দিয়েছে তা উড়িয়ে দিয়েছে কাতার। রাশিয়া থেকে কাতার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনলে দোহার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ হুমকি দেয়ার কয়েকদিন পরই এমন প্রতিক্রিয়া জানালো কাতার।

 

ইরান ও তুরস্কের সহযোগিতায় সফল কাতার

কাতারে খাদ্য রফতানির একমাত্র সীমান্ত পথটিও বন্ধ করে দেয়ার পরই দেশটির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান ও ইউরোপের দেশ তুরস্ক। প্রতিবেশী চার দেশের চাপিয়ে দেয়া অবৈধ অবরোধ নানাভাবে মোকাবেলা করেছে দেশটি। এক বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, কাতারের ওপর সৌদি অবরোধ পুরোই ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি আরব ও তার প্রতিবেশী তিন মিত্র জোটের আরোপিত কাতারের ওপর জবরদস্তিমূলক অবরোধ আয়োজন ভেস্তে গেছে।

এক বছর আগে ২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করা হয়। শত্রুতামূলক ভয়ানক এ পদক্ষেপ আসে দেশটির প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশের পক্ষ থেকে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল তথা উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) প্রধান ৪ প্রতিষ্ঠাতা দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন এ অবরোধ আরোপ করে।

পূর্ব কোনো সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তথাকথিত এ সৌদি জোট। একই সঙ্গে জল, স্থল ও আকাশ ৩ দিক দিয়ে ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ভয়াবহ এ কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল মূলত কাতার সরকারের পতন অথবা অন্ততপক্ষে দেশটির সরকারকে বাগে আনা। তা করতে গিয়ে ১৩টি দাবি দোহার সামনে পেশ করা হয়।

এর মধ্যে ছিল কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আলজাজিরা বন্ধ করে দেয়া, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং দোহায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা। কিন্তু সৌদি জোটের এ অবৈধ দাবির কাছে মাথা নত করেনি কাতার।

কাতারকে দমাতে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করে সৌদি জোট। তাদের সে পাশার দান উল্টে গেছে। বরং সৌদি জোটের অবরোধের মুখে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে উপসাগরীয় ক্ষুদ্র দেশ কাতারের নিজস্ব শিল্প। প্রতিবেশী চার আরব দেশের আরোপিত বাণিজ্য অবরোধের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও দ্রুতই এ অবস্থা থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় কাতার।

অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় শিল্প চাঙ্গা হয়ে ওঠায় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কাতারের স্থানীয় শিল্পের বিকাশের। এতে করে স্থানীয় শিল্পে সমৃদ্ধির পথে রয়েছে উপসাগরীয় এ ধনী দেশটি।কাতারের শিল্প খাত অনেকটাই আমদানিনির্ভর। অধিকাংশ আমদানি করা হতো অবরোধ আরোপকারী প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে। অবরোধের মুখে পড়ে বিকল্প খুঁজতে শুরু করে কাতার, যার মাধ্যমে অধিক আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে দেশটি। কাতারের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডনে কর্মীদের গত শেষ কয়েক সপ্তাহের কাজের চাপ দ্বিগুণ করা হয়েছে, যেন রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমানের দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে কাতার। স্বাস্থ্যসেবার মানের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে কাতারের অবস্থান ৪১। এরপরই রয়েছে কুয়েতের অবস্থান (৪৪)। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মেডিকেল জার্নাল দ্য লানসেটের এক গবেষণা জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ছোট সম্পদশালী দেশ কাতার ও তার সম্পদশালী বড় প্রতিবেশী সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন নতুন রূপ পেয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে চলা কূটনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন অস্ত্র যোগ হয়েছে - ইন্টারনেট বট, ভুয়া সংবাদ ও হ্যাকিং। বছরের পর বছর যাচ্ছে কিন্তু এখনো দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসার লক্ষণ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত সৌদি আরবের সংবাদপত্র আশ-শারকুল আউসাতের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমাদ আল খলিফা বলেছেন, কাতারের সাথে সৃষ্ট কূটনৈতিক সঙ্কটের কোনো সমাধান দেখছি না। আজ আমাদের হাতে যে তথ্য এসে পৌঁছেছে তা এই ইঙ্গিত দেয় না যে, এখনই চলমান সমস্যার সমাধান হবে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা না করে কাতার বরং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সমস্যা তুলে ধরছে। আমরা আশা করেছিলাম সমস্যা শুরুর প্রথম দিকেই কাতারের আমির সৌদি আরব যাবেন কিন্তু তিনি তা করেন নি।

স্বাস্থ্যসেবায় মুসলিম বিশ্বে সেরা কাতার
মেডিভয়েস, পিটিআই ও জিও টিভি

স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমানের দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে কাতার। স্বাস্থ্যসেবার মানের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে কাতারের অবস্থান ৪১। এরপরই রয়েছে কুয়েতের অবস্থান (৪৪)। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩।

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মেডিকেল জার্নাল দ্য লানসেটের এক গবেষণা জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা যায়, র‌্যাংকিংয়ে সৌদি আরবের অবস্থান ৫২তম। এরপরে রয়েছে ব্রুনাই ৫৩ ও ওমান ৫৪তম অবস্থানে। তুরস্ক স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে নেই। র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ৬০তম। মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন ৬৫তম অবস্থানে রয়েছে। আর ইরানের অবস্থান ৬৬তম।

মুসলিম বিশ্বের আলোচিত লিবিয়া রয়েছে ৬৭তম অবস্থানে। জর্ডান ৭৪তম, তিউনিসিয়া ৭৭তম ও স্বাস্থ্যসেবায় গুণগতমানে বিশ্বের ৭৮তম দেশ হিসেবে অবস্থান করছে কাজাখস্তান।

বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে সূচকের হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার মানের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। আর সবার নিচে রয়েছে সেন্টার আফ্রিকান রিপাবলিকান।

তালিকায় সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা ও গুণগতমানে দ্বিতীয় হচ্ছে নরওয়ে, তৃতীয় নেদারল্যান্ড, চতুর্থ লুক্সেমবার্গ, পঞ্চম অস্ট্রেলিয়া, ষষ্ঠ অবস্থানে ফিনল্যান্ড, সপ্তম সুইজারল্যান্ড, অষ্টম সুইডেন, নবম ইতালি, দশম এনডোরা।

পরে পর্যায়ক্রমে আয়ারল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রিয়া, কানাডা, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স এবং ২০তম অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।

চীনের অবস্থান ৪৮তম ও শ্রীলংকা রয়েছে ৭১তম অবস্থানে। ভুটান ১৩৪তম।

এদিকে নেপালের অবস্থান হচ্ছে ১৪৯তম, পাকিস্তান ১৫৪তম ও আফগানিস্তান হচ্ছে ১৯১তম। কিন্তু এদের চেয়ে ভালো অবস্থানে ভারত।

সূচকে পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ১৮.৬ পয়েন্ট, সোমালিয়া ১৯.০ পয়েন্ট, গিনি বিসু ২৩.৪ পয়েন্ট, চাদ ২৫.৪ পয়েন্ট ও আফগানিস্তান ২৫.৯ পয়েন্ট।


আরো সংবাদ