১৯ নভেম্বর ২০১৮

ইরানকে বোয়িং দেয়া হবে না, কী হবে ১,৬৬০ কোটি ডলারের?

ইরানকে বোয়িং দেয়া হবে না, কী হবে ১,৬৬০ কোটি ডলারের? - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং বলেছে, ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই কোম্পানি তেহরানকে কোনো বিমান সরবরাহ করবে না। বোয়িং বুধবার এক ঘোষণায় দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে বিমান বিক্রির চুক্তি না থাকায় তেহরানকে কোনো বিমান দেয়া হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতমাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণা দেয়ার পর বোয়িং এ ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করল। এর আগে ওই কোম্পানি ইরানকে বিমান সরবরাহের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিয়ে শুধু একথা জানিয়েছিল যে, ইরানের ব্যাপারে তারা ওয়াশিংটনের নীতি অনুসরণ করবে।

বোয়িং এখন চুক্তির কথা অস্বীকার করলেও ২০১৫ সালের জুলাই মাসে আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার পর ওই কোম্পানি ইরানের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বিক্রির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল।

বোয়িং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিল, ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা- ইরান এয়ারকে ১,৬৬০ কোটি ডলার মূল্যে ৮০টি যাত্রীবাহী বিমান সরবরাহ করার ব্যাপারে তারা তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

পাশাপাশি ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন কোম্পানিটি ইরানের ‘অসেমান’ এয়ারলাইন্সের কাছে ৬০টি ‘বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স’ বিমান বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথাও জানিয়েছিল।

ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এসেছে আমেরিকা। এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের ধারাবাহিক শত্রুতা ও বিদ্বেষের প্রমাণ।

আরো পড়ুন :
সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী : ইরান

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরানের দেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কারো নেই। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

জেনারেল হাতামি শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের দেজফুল শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরো বলেন, সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণে ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের জনগণ ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে। আমেরিকা, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা ছাড়া ইরানের আর কোনো শত্রু নেই।

প্রতিরক্ষা শক্তির ওপর ভর করে ইরান বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন জেনারেল হাতামি। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনায় শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইরান এখন ইসরাইলের চোখে নিরাপত্তার জন্য নিকটতম বিপদে পরিণত হয়েছে। ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা বুহ্য। ইরান প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

সামরিক বিবেচনায় ইরান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একক বৃহৎ শক্তি। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে অত্যন্ত দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে। এসব যুদ্ধজাহাজ ঘণ্টায় ৮০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় দেড়শ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী।

ইরান বর্তমানে তাদের আকাশ পথে অত্যাধুনিক কিছু যুদ্ধবিমানের সংযোগ ঘটিয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের দু’টি সামরিক বাহিনী রয়েছে। এর একটি নিয়মিত বাহিনী অপরটি বিশেষ বিপ্লবী গার্ড সেনা, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।

ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনী বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। এই গার্ড সেনারা বেশি শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত। এই বাহিনীকে সময়ের চাহিদায় আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। ইরানের রয়েছে বিশেষ কুর্দি বাহিনী ও নেভাল বাহিনী, যারা গেরিলা যুদ্ধ করতে সক্ষম।

ইরানের আছে দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান, যুদ্ধাস্ত্র, সাবমেরিন, নৌ বাহিনীর ছোট যুদ্ধবিমান এবং শক্তিশালী সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। স্থল যুদ্ধ ও পরিবহনের জন্য ইরানি বাহিনীতে আছে আধুনিক যুদ্ধ হেলিকপ্টার। ইরান ড্রোন বিমান তৈরি করেছে, নতুন নতুন যুদ্ধ জাহাজের প্রবেশ ঘটিয়েছে।

ইরানের রয়েছে নতুন যোগাযোগব্যবস্থা, ভিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা, শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা, নতুন স্যাটেলাইট ব্যবস্থা, মনুষ্যহীন আকাশ যান বা ড্রোন। সমর বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের কাছে রয়েছে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও সবচেয়ে বড় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংগ্রহ।

 


আরো সংবাদ