২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ইরাকে মসজিদে জোড়া বোমা হামলা: হতাহত ২৭

ইরাকে মসজিদে জোড়া বোমা বিষ্ফোরণ। ছবি - সংগৃহীত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের  একটি মসজিদে জোড়া বোম বিষ্ফোরণে অন্তত ৭ জন মুসল্লী নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, বুধবারের এই হামলা বাগদাদের সদর সিটির শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় চালানো হয়।

ইরাকে শিয়াদের অন্যতম ধর্মীয় গুরু ও সম্প্রতি নির্বাচনে ৫৪ আসনে জয়ী সাইরন জোট নেতা মুক্তাদা আল সদরের সমর্থকদের মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে।

 

আরো দেখুন : বিস্ফোরণের আগে থমথমে সিরিয়া!

বহু বছর ধরে যুদ্ধ চলার পর দামেস্কের উপকণ্ঠে আইএসসহ বিদ্রোহীদের সর্বশেষ প্রতিরোধ ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকার। বাশার এখন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তার পূর্ণ পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু তার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সেনাবাহিনীর একার পক্ষে এটি করা সম্ভব হয়নি।

ইরানি বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো শিয়া মিলিশিয়া বাহিনীগুলো আলেপ্পো ও পূর্ব গৌতার মতো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ছিটমহলগুলো দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ছাড়া রাশিয়ার বিমান শক্তি তাকে যুদ্ধে বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে। মূলত রাশিয়াই সিরিয়ার যুদ্ধের গতি বাশারের অনুকূলে এনে দিয়েছে।

সরকার প্রধান প্রধান নগরী ও দেশটির প্রধান মহাসড়কটি নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের পূর্বাঞ্চল মার্কিন সমর্থিত প্রধানত কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তরের বেশির ভাগ অঞ্চল তুরস্কের সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কাছাকাছি ইদলিব প্রদেশ বিদ্রোহীদের দখলে আছে। হায়াত তাহরির আল-শাম অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপটিকে নতুন করে সন্ত্রাসী গ্রুপ বলে চিহ্নিত করেছে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমের মার্কিন সমর্থিত সাউদার্ন ফ্রন্ট বিদ্রোহীরা জর্দান সীমান্ত ও ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমি এলাকায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বশক্তিবর্গ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি তাতে জড়িয়ে পড়বে তার ওপরই নির্ভর করছে সিরিয়া যুদ্ধের নতুন অধ্যায় কেমন হবে। চলতি সপ্তাহে খবর বেরিয়েছে রাশিয়া ও ইসরাইল সরকার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যাতে মস্কো ইরান সমর্থিত বাহিনীকে দেরার থেকে দূরে রাখতে সম্মত হয়েছে। সেখানে সীমান্তে ১৯ মাইল নিরপেক্ষ এলাকা গঠনে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

সিরিয়ার বিরোধীদের জোট ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রধান আলোচক নসর আল-হারিরি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, ‘তারা তাদের দেশ থেকে সব বিদেশী বাহিনীর প্রত্যাহার চান। এটি তাদের অন্যতম প্রধান দাবি। ইরানের সমর্থন ছাড়া বাশার সরকার ভূখণ্ড দখল করতে পারত না। হাজার হাজার বিদেশী যোদ্ধা তাদের দেশে অপরাধ করছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। তারা থাকা পর্যন্ত দেশে কোনো কূটনৈতিক বা শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে না।’
গুজব সত্ত্বেও ইরান সহজে সিরিয়া ত্যাগ করবে তা ভাবা যায় না। গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো টোবিয়াস স্নেইডার বলেছেন, ‘আপনি যখন এরই মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করেছেন, তখন আরো ১০ কিলোমিটার আপনার জন্য কোনো বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, ‘১০ বা ৩০ কিলোমিটার নিরপেক্ষ অঞ্চল গঠন কোনোভাবেই ইরানি প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। দেশটির সাথে রয়েছে নতুন মাত্রায় অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক। দামেস্ক কখনোই তেহরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। কারণ ইরানই রাশিয়ার কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।’

জেনেভা শান্তিপ্রক্রিয়া অকার্যকর হওয়ার সুবিধাটা কাজে লাগাচ্ছে সিরিয়া ও তার মিত্ররা। সিরিয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকারের কী লক্ষ্য তাও স্পষ্ট নয়। মার্কিন মিত্র কুর্দিরাও উদ্বিগ্ন। কেননা রশিয়া তুরস্ককে তাদের নিয়ন্ত্রিত আরফিন এলাকা দখল করার নীরব অনুমোদন দিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাশার আল-আসাদ কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ফোরাত নদীর পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চলে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অঞ্চলটিতে পাঁচ হাজার মার্কিন সামরিক উপদেষ্টার উপস্থিতি তিনি বরদাশত করবেন না। ট্রাম্প বারবার এসব সৈন্য সরিয়ে নেয়া ও অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করার কথা বলেছেন। আরেকটি খবর পাওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে যাতে কুর্দি যোদ্ধারা মানবিজ অঞ্চলকে তুরস্কের হাতে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে সরে যাবে। তবে মার্কিন উপস্থিতি বজায় থাকা পর্যন্ত সিরিয়ার সেনারা সরাসরি ওই অঞ্চলে হামলা চালাবে না। কারণ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সিরিয়ায় নিজেদের মধ্যে সঙ্ঘাতে না জড়ানোর ব্যাপারে একটি চুক্তি রয়েছে।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme