২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন কাতারের নাগরিকরা

কাবা শরীফ
ওমরাহ পালনে যেতে পারবেন কাতারের নাগরিকরা। - সংগৃহীত

সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে ওমরাহ পালন করতে পারবেন কাতারের জনগন। উমরাহ যাত্রীদের জন্য এই সুবিধা জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। তবে কাতার এয়ারওয়েজ ছাড়া অন্য বিমানে করে যেতে হবে বলে জানিয়েছন সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। খবর ডেইলি সাবাহর।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতারের বাসিন্দারা অনুমোদিত সৌদি কোম্পানীর মাধ্যমে কেবল ওমরাহ করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যাইহোক, গত বছরের জুন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অন্য কোন দেশ হয়ে কাতারের ওমরাহ পালনকরীদের ফ্লাইট নিতে হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির মতে, বর্তমানে দোহারে সৌদি দূতাবাসের কার্যালয় না থাকায় আবেদনকারীদের অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে ।

এক বছর আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব প্রথমবারের মতো কাতার থেকে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেয়া হয়।

গত বছরের 6 জুন সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যৌথভাবে কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

কাতার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কয়েকটি দেশ কাতারের সাথে তাদের স্থল, জল এবং আকাশ পথ অবরোধ করে। রিয়াদ দুই দেশের স্থল সংযোগ সীমান্ত আবু সমার বন্ধ করে দেয়।

আরব উপসাগরের দেশগুলো দোহার কাছে একটি দীর্ঘ তালিকা পাঠায় যা বাস্তবায়ন না করলে আরও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে বলে জানানো হয়।

কাতারের আল জাজিরা টেলিভিশনের নেটওয়ার্ক বন্ধ এবং দোহায় অবস্থিত তুর্কি সামরিক বেসামরিক স্থাপনা বন্ধের দাবিতে এই দাবী রয়েছে।

কাতার, সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র কতৃক অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হিসেবে মনেকরে।

 

আরো দেখুন: মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের এক বছর : গরু যেভাবে রক্ষা করল কাতারকে

মরুভূমির মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক গোয়ালঘরে একটির পর একটি গরু তোলা হচ্ছে মেশিনে দুধ দোয়ানোর জন্য। এক বছর আগে কাতারের কোনো ডেইরি শিল্প ছিল না। দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য দেশটি পুরোপুরি সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

এখন বালাদনা ফার্মে ১০ হাজার গরু আছে, যাদের বেশির ভাগই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভালো জাতের গাভী থেকে। এক বছর আগে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গাল্ফ দেশগুলো কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার এক মাস পর কাতার এয়ারওয়েজে করে প্রথম গরুটি আনা হয়েছিল দেশে।

বয়কটের কারণে ছোট্ট দেশটি ওই সময় বেশ বড় সঙ্কটে পড়েছিল। এরপরই দেশটি সিদ্ধান্ত নেয় স্বনির্ভর হবার। ফার্মের মালিক পিটার ওয়েল্টেভরেডেন বলছিলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল, এক বছরের মধ্যে আমরা ফ্রেশ দুধে নিজেরা স্বাবলম্বী হব। সবাই বলেছিল এটা হবে না, কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি।"

গত বছর ৫ জুন সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর মিসর কাতারের সঙ্গে সব ধরণের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন সংযোগ ছিন্ন করে।

কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেবার অভিযোগ আনে দেশগুলো। কাতার ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্ন করাকে কাতার নিজের সার্বভৌমত্বের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে।

নিজেদের বিপুল খনিজ সম্পদ গ্যাস বিক্রির পয়সা কাজে লাগিয়ে কিভাবে সঙ্কট দূর করা যায়, সে চেষ্টা চালিয়ে যায়।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলছেন, "যারা অবরোধ দিয়েছে আমাদের ওপর, তারা ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছিল। তাদের চেয়ে যারাই আলাদা, তাদেরই সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে তারা।"

পুরনো শত্রুতা
এই সঙ্কটের শুরু হয়েছিল, ২০১৭ সালের ২৪ মে কাতারের সরকারি বার্তা সংস্থা কিউএনএ'র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে যাতে বলা হয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ইসলামপন্থী গ্রুপ হামাস, হেজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি দিন টিকবেন না।

কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সংকটের শিকড় আরো গভীরে প্রোথিত। ওয়াশিংটনভিত্তিক অ্যারাবিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আলি শিহাবি জানিয়েছেন, ২০ বছর ধরে চাপা থাকা একটি বিষয় এই বিরোধের মূল কারণ।

২০১১ সালে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর প্রকাশিত এক টেপে দেখা যায়, কাতারের কর্তমান আমিরের বাবা সৌদি রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

শিহাবি বলেন, কাতার অন্য আরব দেশগুলোতে থাকা বিদ্রোহীদের অর্থ না দেবার একটি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং আল জাজিরায় তাদের বক্তব্য প্রচারের সুযোগ করে দেয়।

"এটা অনেকটা ছোট ভাই বড় ভাইদের সঙ্গে লড়তে যাওয়া। সে তো সব সময় উল্টা ফল দেবে, আর সমস্যা বাড়াবে।"

ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়া
বর্তমানে চারদিকে স্থলসীমায় অবরোধ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে কাতার।

এরই মধ্যে দেশটি সাতশো কোটি ডলার খরচ করে গাল্ফ উপকূলে নতুন একটি বন্দর খুলেছে। এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা কিছুটা হলেও সামাল দিচ্ছে দেশটি।

এই বন্দর দিয়ে এখন ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল স্টেডিয়াম বানানোর নির্মাণ সামগ্রী আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাতার ইরানের সঙ্গে উপকূলবর্তী একটি সীমান্ত এবং সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ডে ভাগাভাগি করছে।

কাতারের বিমান এখন ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করছে।

আর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সমর্থন দিলেও, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ঐক্যের কথা বলছে। এছাড়া কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিমান ঘাঁটি রয়েছে।

দেশপ্রেমিক উদাসীনতা
দেশটির ঐতিহাসিক বাজার সৌক ওয়াকিফে সাধারণ কাতারিরা অপেক্ষা করছে, কবে এই অবরোধ শেষ হবে।

একজন বলছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্ধন অচ্ছেদ্য। এই ব্যক্তির স্ত্রী সৌদি আরবের নাগরিক এবং তার মা রিয়াদে থাকেন। অবরোধের কারণে তিনি পরিবারের সাথে দেখা করতে পারছেন না। তিনি খুবই বিরক্ত।

তবে ভিন্নমতও আছে। বাজারে ছোট শিশুরা তরুণ আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির ছবি সংবলিত বেলুন নিয়ে ছোটাছুটি করছিল।

গাড়ির জন্য বানানো স্টিকার, মগ, টিশার্টে, এবং বড় বড় ভবনে আমিরের ছবি দেখে বোঝা যায় তিনি বেশ জনপ্রিয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছিলেন, তারা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।


আরো সংবাদ