২১ নভেম্বর ২০১৮

ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ‘জাতীয় উদ্যান’ বানাচ্ছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ‘জাতীয় উদ্যান’ বানাচ্ছে ইসরাইল - ছবি : সংগৃহীত

‘জাতীয় উদ্যান’ বানানোর জন্য দখলে নেয়া ফিলিস্তিনিদের ‘বাব আল রাহমা’ কবরস্থানটিতে আবার কাজ শুরু করেছে ইসরাইল। দেশটির ‘নেচার অ্যান্ড পার্ক অথরিটি’ (আইএনপিএ) দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত কবরস্থানটির একাংশে খোঁড়াখুঁড়ি করছে। ফিলিস্তিনি সংবাদসংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রায় ২০ দিন আগে আইএনপিএর কর্মকর্তারা কবরস্তানটিতে এসে উপস্থিত হয়।

২০১৫ সালেই বাব আল রাহমা নামের কবরস্থানটি ধ্বংস করে সেখানকার জমি জাতীয় উদ্যানে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিল ইসরাইল। গত মাসে কবরস্থানটির একাংশ দখলে নিয়ে ওই স্থানটির চার পাশে ধাতব বেড়া স্থাপন করা হয়। গতকাল থেকে তারা কবরস্থানের মাটির সঙ্গে সঙ্গে মৃত ফিলিস্তিনিদের কবরও খুঁড়ে ফেলছে। তাদের দাবি, তারা জাতীয় উদ্যান বানানোর কাজ করছে। ওয়াফা লিখেছে, জাতীয় উদ্যান বানানোর জন্য তারা যে স্থানে কাজ করছে সেই স্থানে শতাব্দী প্রাচীন ফিলিস্তিনি নেতাদের কবরস্থ করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট মনিটর লিখেছে, জাতিসঙ্ঘের বহুসংখ্যক প্রস্তাবনাতে পূর্ব জেরুসালেমকে অধিকৃত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানকার কোনো জমিতে স্থাপনা তৈরির আইনগত বৈধতা নেই ইসরাইলের।

বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ইসরাইলের
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কাছেই বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন ইসরাইলের গৃহায়নমন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ট। গাজায় সাম্প্রতিক ব্যাপক বিক্ষোভ ও ২০১৪ সালের পর সব থেকে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর এমন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইসরাইল হায়োমের খবরে বলা হয়, ইসরাইলের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য ইয়োয়াভ গালান্ট রোববার এ পরিকল্পনা জমা দেয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা মতে, গাজা থেকে সাত কিলোমিটারের মধ্যে ৫০০ পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। গালান্ট আশা করেন, কিবাৎজ সাদের কাছেই এ বসতি স্থাপন করতে পারবেন। ওই স্থানেই গাজা থেকে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

গাজায় বিক্ষোভে ১২০ জনের বেশি মানুষকে হত্যার পর এবার গাজার পাশেই বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। শনিবার ফিলিস্তিনি নার্স রাজান আল নাজ্জারের নামাজে জানাজায় অংশ নেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। সীমান্তের কাছে দায়িত্ব পালনের সময় তাকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনী। শনিবার সন্ধ্যায় গাজা থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয় দাবি করে তার জবাবে গাজার তিন স্থানে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। গাজা থেকে হামলার ঘটনায় কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের ছয় সপ্তাহে মার্চ অব রিটার্ন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। আন্দোলনে কোনো ইসরাইলি নিহত না হলেও কিছু সেনা সামান্য আহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন :

ব্রিটেনে ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৩৫০টি মসজিদের আহ্বান
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের বেশ কয়েকটি অভিযোগ ওঠার পর ব্রিটেনের সাড়ে তিন শতাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সংস্থা এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাতে ব্রিটেনের রক্ষণশীল দলের প্রতি লিখিতভাবে আহ্বান জাানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) এ আহ্বান জানিয়েছিল। এতে তারা দলটির কিছু প্রার্থী ও প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ এনে সে ব্যাপারে তদন্তের দাবি করেছিল। এবার ওয়েলস, বেলফাস্ট, স্কটল্যান্ড ও ম্যানচেস্টারসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকার ১১টি সমমনা সংস্থা দাবি জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে গত দুই মাসে দলটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ডজনখানেক ইসলামবিদ্বেষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে শিগগির তদন্ত করতে হবে। এমসিবির একজন মুখপাত্র জানান, মসজিদ কাউন্সিলের যারা এ বিষয়ে তদন্তের ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে পুরো ব্রিটেনে বিষয়টির গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। একই সাথে এমসিবির সমর্থনও বাড়ছে। তবে বিবিসির ‘অ্যান্ড্রু মার শো’ এ দলের মধ্যে ইসলামফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকার করেছেন।

আরো পড়ুন :

ফ্রান্সে আরো দু’টি শরণার্থী শিবির খালি করল পুলিশ
এএফপি

ফ্রান্সে দু’টি আশ্রয় শিবির থেকে অন্তত এক হাজার শরণার্থীকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। এর পাঁচ দিন আগেও আরো এক হাজার শরণার্থীকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক খবরে থেকে এ তথ্য জানা যায়।
খবরে বলা হয়, সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে ক্যানাল সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি একটি শরণার্থী শিবিরে এই খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আশ্রয়শিবিরটিতে প্রায় ৫৫০ জন আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর পোর্টে দো লা চ্যাপেলের উত্তর দিকের একটি শিবির থেকে ৪৫০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়। 

পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রহণ করার বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেই ক্যানাল সেন্ট ডেনিসের একটি শরণার্থী শিবির থেকে এক হাজার অভিবাসীকে সরিয়ে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে এসব আশ্রয়শিবিরের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গত মাসে একজন শরণার্থী পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন। আরেকজন হাতাহাতির ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।

সুলেমান নামে একজন অভিবাসী বলেন, ‘তারা বলছে যে আমরা এই আশ্রয়কেন্দ্রে বেশি দিন থাকতে পারব না। তবে তিন বেলা খাবার পাবো আমরা।’ গত বছর আশ্রয়ের জন্য প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছিল ফ্রান্সে। বসবাসের অনুমতি পেয়েছিল ৩০ হাজার জন।


আরো সংবাদ