১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের বিরুদ্ধে

নোয়াবের মামলার আদেশ স্থগিত হওয়ায় ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

নোয়াবের মামলার আদেশ স্থগিত হওয়ায় ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে - ছবি : সংগৃহীত

৯ম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ মঙ্গলবার মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়ায় ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০ আগস্ট মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, মাননীয় আদালত ‘সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যম মালিকরা অস্তিত্বহীন’ বলে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তা সংবাদপত্র শিল্প ও সাংবাদিকতার মর্যাদাকে সুনিশ্চিত করেছে। ইতিহাসে আদালতের এই অভিমত স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

যুক্ত বিবৃতিতে ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহবায়ক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং কমিটির সকল সম্মানিত সদস্য, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিয়ে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ।

বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার, মহাসচিব খায়রুল ইসলাম, ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স সভাপতি আলমগীর হোসেন খান, মহাসচিব কামালউদ্দিন এক যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে আইনি বাধা আর না থাকায় দ্রুত ৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, ওয়েজবোর্ড একটি আইন। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ওয়েজবোর্ডের বিধি বিধান অনুসরণ করেই সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু নোয়াবের আবির্ভাবের পর থেকেই এই শিল্পে ক্রমাগতভাবে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। কোন কোন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য নোয়াবকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে সেটাও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিককালে দেখা যায় নোয়াব তাদের মিটিং মিছিলে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে। অথচ নোয়াব হচ্ছে শতভাগ মালিকদের সংগঠন। এখানে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ কিংবা ভূমিকা রাখার কোন সুযোগ নেই।

পেশাদার সাংবাদিকদের যেমন আছে ইউনিয়ন, তেমনি সম্পাদকদের সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি), নোয়াব নয়। কিন্তু নোয়াব অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিক ও সম্পাদকদের তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করছে। যা ভাড়া খাটানোর সামিল।

নেতৃবৃন্দ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে আরো বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখুন, গণমাধ্যমের মালিকানার আড়ালে থেকে কারা রাতারাতি বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হচ্ছে। কারা কি উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত।

নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানে একটি মাফিয়া চক্র গড়ে উঠছে। সাংবাদিকদের অনাথ অসহায় করতে পারলে এক সময় সরকারকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবে এই চক্র ।

নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের ব্যবসা করতে হলে দেশের প্রচলিত আইন মেনেই করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। নেতৃবৃন্দ সরকারকে সংসদেও আগামী অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ওই আইন পাশ হলে সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারিদের জীবন জীবিকার যেমন নিশ্চয়তা থাকবে তেমনি মালিক পক্ষও লাভবান হবে। দেশের গণমাধ্যমে স্বস্তি ফিরে আসবে। তারা অবিলম্বে ৯ম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ