১৪ অক্টোবর ২০১৯

ফ্রান্সে নিষিদ্ধ বুর্কিনি, মুসলিম নারীরা বিক্ষুব্ধ

ফ্রান্সে নিষিদ্ধ বুর্কিনি, মুসলিম নারীরা বিক্ষুব্ধ - সংগৃহীত

গোটা ইউরোপ জুড়ে, চোখ রাঙাচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য। এর মধ্যে সুইমিংপুলে মুসলিম নারীদের বিশেষায়িত পোশাক-বুর্কিনি নিষিদ্ধের ঘটনায়, ফ্রান্সে সেই উত্তাপ আরো বাড়তে শুরু করেছে৷

সপ্তাহান্তে, দেশটির গ্রেনোবেলে বুর্কিনি পড়ে প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মুসলিম নারীরা৷ জিন ব্রোন সুইমিংপুলের নিষেধ অমান্য করে সাঁতার কেটেছেন বুর্কিনি পড়া নারীরা৷ অন্যদিকে, সমাজকর্মী ম্যারি লি পেন বলেছেন, সারা শরীর ঢাকা সাঁতার পোশাকের ‘কোনো জায়গা ফ্রান্সে হবে না'৷

মুসলিম নারীদের জন্য বিশেষায়িত সাঁতার পোশাক -বুর্কিনি। মুখ, হাত আর পায়ের তালু ছাড়া সারা শরীর ঢাকা থাকে এই পোশাকে।

বিক্ষোভে নামা দুই মুসলিম নারী বিবিসিকে জানান, ‘গ্রেনবোলের তীব্র গরমে আর সবার মতো সুইমিংপুলে নেমে আমাদেরও মজা করতে ইচ্ছে করে৷ বাচ্চাদের সঙ্গ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সাঁতার শেখানোর স্বপ্নটা আমাদেরও আছে।’ এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয় জানান দুই নারী৷

প্রতিবাদ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেছেন সমাজকর্মী ম্যারিন লি পেন৷ এমনকি, বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করারও আহ্বান জানান পেন৷ সোমবার নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে ম্যারিন লিখেন, ‘ফ্রান্সে বুর্কিনির কোনো জায়গা নেই''-এ কথা পরিস্কার করে জানানোর এটাই সবচেয়ে ভালো সময়৷

বুর্কিনির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি প্রিক্রেস৷ রেডিও ক্লাসিককে তিনি জানান,‘এই পোশাক মেনে নেয়া হলে, কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যাবে, গরীব প্রতিবেশি দেশের সব তরুণিরা নিজস্ব রীতিতে সারা শরীর ঢেকে গোসলে নামবে।’

মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষায় ‘অপরাশেন বুর্কিনি’ শিরোনামে প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে গ্রেনোবলের সিটিজেন অ্যালায়েন্স৷ ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়েছে, ৬০০ মুসলিম নারীর পিটিশিন সইয়ের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হয়। গ্রেনোবেলের মেয়রের কাছেও এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানাবে তারা।’

প্রসঙ্গত, সবার জন্য উন্মুক্ত সুইমিং পুলে নামতে হলে, নারীদের বিকিনি অথবা ওয়ান-পিস পোশাক পড়ার বিধান করেছে কর্তৃপক্ষ।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum