১৮ জুন ২০১৯

খাদেম হত্যায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

-

ঢাকা বিভাগী কমিশনার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল হক খাদেমকে হত্যার দায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে আরো একজনকে। অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন একজন।

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।

এক মাজারের সম্পত্তির দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দশ বছর আগে ২০০৯ সালের ৪ মে বিকালে ঢাকার মালিবাগ শাহী মসজিদের কাছে মাজার গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় আমিনুল হক খাদেম ওরফে আনিস খাদেমকে।

ফাঁসির রায় পাওয়া আসামিরা হলেন- শহিদুর রহমান খাদেম ওরফে মিনু খাদেম ওরফে মামা খাদেম, মাহবুব আলম লিটন ওরফে দাঁত ভাঙা লিটন, শেখ শামীম আহম্মেদ, মো. জুয়েল, কামাল হোসেন বিপ্লব এবং সোহেল ওরফে ক্যাটস আই সোহেল। তাদের মধ্যে লিটন ও বিপ্লব পলাতক।

এ মামলার আরেক পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বাবু ওরফে হোন্ডা বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে খাটতে হবে আরো এক বছর জেল।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি আজগর হোসেন রানাকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

এই সরকারি কর্মকর্তা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার খরমপুর মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঢাকায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন বাসাবোর সবুজবাগ এলাকায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩ মে আহমদুল্লাহ স্টেটের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে মালিবাগ হোল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে পরিকল্পিতভাবে আমিনুল হক খাদেম ওরফে আনিস খাদেমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন তার ছেলে সাইদুল হক খাদেম রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

২০০৯ সালের ৩০ নভেম্বর আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন র‌্যাব-৩ এর সদস্য মজিবুর রহমান। অভিযুক্ত আটজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪/৩৭৯/৪১১ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- শহিদুর রহমান খাদেম,আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বাবু, মাহবুব আলম লিটন, শেখ শামীম আহম্মেদ, জুয়েল, কামাল হোসেন বিপ্লব, সোহেল ও আজগর হোসেন রানা।


আরো সংবাদ