১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

খালেদা ও তারেকের সাজার প্রতিবাদে সাবেক বিচারপতির বিক্ষোভ

আদালত
সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়জীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেআইনীভাবে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়জী। এসময় পুলিশ তাকে বাধা দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় নেমে এলে পুলিশ তাকে গেটের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়।

আজ বেলা সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়া মুক্তি আন্দোলনের’ ব্যানারে কালো পতাকাসহ মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। এতে অংশ নেয়া ফয়জী এক সময় রাস্তায় বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তাকে গেটের ভিতর ফিরিয়ে দিলে তিনি আবার মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মনির হোসেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মানববন্ধন

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো: আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য গত শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউয়ে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে।

এদিকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ-১ এর আদালত। এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তবে এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। এ রায়ের প্রতিবাদে সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করে দলটি। আজ ছিল বিক্ষোভ কর্মসূচি।

আরো পড়ুন :
রায় ঘোষণার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া
নয়া দিগন্ত অনলাইন
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে দুইভাবে এগোবে বিএনপি। বুধবার রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মীর্জা ফখরুল বলেন, ‘এই রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং এর নিন্দা জানাচ্ছি। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এর বিরুদ্ধে আমরা দুইভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাকে (তারেক রহমানকে) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, এদেশে কোনো নাগরিকের আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধণের জন্য কোনো তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন না করা হলেও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যকিছু বলার নেই।’

বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ।

রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ’ নেতাকর্মী।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ সংক্রান্ত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯।  


আরো সংবাদ