২১ নভেম্বর ২০১৮

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অপমান ও অসৌজন্যমূলক

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। - ছবি: নয়া দিগন্ত

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আইন জানেন না বলে দেওয়া আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য অপমানজনক ও অসৌজন্যমূলক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

বার সভাপতি জয়নুল বলেন, আমরা আইনমন্ত্রীকে দেশে আইনের শাসন এবং দেশ বরেণ্য আইনজীবীদের প্রতি এ ধরণের অসৌজন্যমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি। এ ধরণের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনমন্ত্রী আইন এবং আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন বলে আশা করি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন অতীতে দেশের আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখায় ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। আপনারা জানেন, কয়েক দিন আগে জিয়া অফানেজ ট্রাষ্ট মামলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাতের অন্ধকারে বেআইনীভাবে এক গেজেটের মাধ্যমে কারাগারের কক্ষে একটি আদালত স্থাপন করেছেন। যা সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারী কার্যবিধির আইনের ৩৫২ ধারার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের সুপ্রিমেসির কথা উল্লেখ আছে। তা ছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতি “সংবিধানের অভিভাবক” তাই আমরা মনে করেছি এই গেজেট নোটিফিকেশনটি সুপ্রীম কোর্ট রুলস-এর রুল ১৯(বি)(এ), ১৯৭৩ এবং সংবিধানের আর্টিক্যাল ১১৬ অনুযায়ী করা হয় নাই। আমরা প্রধান বিচারপতির নিকট আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি আবেদন করেছি এবং তিনি আমাদের আবেদনটি আইন মোতাবেক নিষ্পত্তি করবেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাভ্যন্তরে আদালত স্থাপনকে বেআইনী বলে বক্তব্য দেন তার আইনজীবীরা। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, তার আইনজীবীরা আইন জানেন না। গত ৯ সেপ্টেম্বরের আইনমন্ত্রীর ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদীন বলেন, এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে কোন আবেদন-নিবেদন করিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধান বিচারপতির নিকট দেয়া আবেদনে আমরা আইনের কোন কোন দিক উল্লেখ করেছি তা একমাত্র প্রধান বিচারপতির বিবেচনার জন্য দিয়েছি। আমাদের সাথে এই সময় সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সিরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী সহ বেশ কয়েকজন নাম করা আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। যারা উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেকেই এই বারের প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশের দেশ বরেন্য আইনজীবী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আইনমন্ত্রীর একটি উক্তি “খালেদার আইনজীবীরা আইন জানেন না”অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক।

আইনমন্ত্রী প্রসঙ্গে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তিনি একজন আইনজীবী, আইনমন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি। কাজেই তার কাছ থেকে দেশের মানুষ তথা আইনজীবীরা এরকম বক্তব্য আশা করে না। আমরা মনে করি তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য অপমানজনক। অতীতে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে অনেকেই সদস্যপদ হারিয়েছেন। যা হোক, আমরা আপনাদের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীকে দেশের আইনের শাসনের এবং দেশ বরেন্য আইনজীবীগণের প্রতি এ ধরনের অসৌজন্যমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি তিনি, এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইন এবং আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান ভূঁইয়া,কোষাধ্যক্ষ নাসরিনআক্তার,সিনিয়র সহ সম্পাদক কাজী মো.জয়নুল আবেদীন, সদস্য মাহফুজ বিন ইউসুফ,ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহবুব,আহসান উল্লাহ,মেহেদী হাসান, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান সহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।

এর আগে গত ০৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে কারাগারে কোর্ট স্থাপন করে আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে না, খালেদার আইনজীবীদের এরকম মন্তব্যর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, আমি মনে করি উনারা যদি এরকম কথা বলেন থাকেন, তাহলে উনারা আইন জানেন না।

ওইদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ঘন্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একথা বলেন।

 

আরো পড়ুন: আইনের লঙ্ঘন হয়নি : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ না করে কারাগারের ভেতরে বিশেষ আদালত স্থাপন আইনের লঙ্ঘন বলে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যে দাবি করেছেন সে প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) যদি এ রকম কথা বলে থাকেন তাহলে আমি বলব, উনারা আইন জানেন না।’

গতকাল প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আপিল বিভাগের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতির সাথে সাক্ষাতের কারণ জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির সাথে ঈদের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। পারিবারিক কারণে এতদিন (ঈদের পর) দেখা করতে পারিনি। আজকে (গতকাল রোববার) মনে করলাম যে, ঈদের সাক্ষাৎ করা দরকার।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কারাগারে আদালত বসানো নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। আমি যে বিষয়ে জানি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পরে আমি নিশ্চই মন্তব্য করব।’

এদিকে প্রধান বিচারপতি তথা সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ না করে আইন মন্ত্রণালয় বেগম খালেদা জিয়ার জন্য কারাগারে আদালত স্থাপন করেছে এবং এতে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করছেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা (বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) যদি এ রকম কথা বলে থাকেন তাহলে আমি বলব, উনারা আইন জানেন না।’


আরো সংবাদ