২৩ মার্চ ২০১৯
নাইকো মামলা

খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

বেগম খালেদা জিয়া - ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নাইকো মামলায় আদালতে হাজির করতে হাজিরা পরোয়ানা (প্রডাকশন ওয়ারেন্ট) জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে ঢাকার বকশীবাজারের অস্থায়ী এজলাসে নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহামুদুল কবীর আগামী ১১ অক্টোবর খালেদাকে আদালতে উপস্থিত করতে হাজিরা পরোয়ানা (প্রডাকশান ওয়ারেন্ট) জারির নির্দেশ দেন।

আজ মামলাটির চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা কারাগারে আটক আছে জানিয়ে তার উপস্থিতির জন্য সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়ে আদালতে আবেদন করবেন বলে জানান।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক সচিব মো: শফিউর রহমান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন।

পলাতক অন্য তিন আসামি হলেন- সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকো’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

আরো পড়ুন : তারেক রহমান আওয়ামী সরকারের আক্রোশের শিকার : ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের আক্রোশের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মামলার সম্পূরক চার্জশিটে নির্দোষ তারেক রহমানের নাম দেয়া সরকারের প্রতিহিংসার চরিতার্থেরই নামান্তর।

আজ সোমবার তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন ফখরুল। 


ফখরুল বলেন, ১/১১ সরকারের হস্তান্তরের ক্ষমতা ধারণ করার পর থেকে তারেক রহমানের ওপর নানাভাবে নিপীড়ণ-নির্যাতনের বহুমাত্রার অভিনব প্রয়োগ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। ১/১১ সরকার যে মামলায় তারেক রহমানের নাম অভিযোগপত্রে দিতে পারেনি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সেই মামলায় সম্পূরক চার্জশীট দিয়ে তারেক রহমানের নাম দেয়া হয়েছে। সুতরাং এই নাম দেয়া সরকারের প্রতিহিংসা চরিতার্থেরই নামান্তর।

তিনি বলেন, আজ ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানে ১১তম কারামুক্তি দিবস। ১১/১ মঈনুদ্দিন-ফকরুদ্দিনের অসাংবিধানিক সরকারের নির্দেশে ২০০৭ সালে ৭ মার্চ জনাব তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। আটকের পরে তার বিরুদ্ধে চালানো হয় অপপ্রচারের ধারাবর্ষণ। ফকরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের কর্তৃত্ববাদী সরকার গণতন্ত্র ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধা দিয়ে তারেক রহমানকে ঘিরে বিছাতে থাকে নানা চক্রান্তজাল। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে তারেক রহমানকে হেয় করার জন্য রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। অথচ দেশের কোথাও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা ছিল না। দিনের পর দিন রিমান্ডের নামে নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়। পৈশাচিক, শারিরীক অত্যাচারে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্মম অত্যাচারে জনাব তারেক রহমান মুক্তির পরও হাসপাতালের বিছানা থেকে উঠতে পারেননি।

ফখরুল বলেন, জননেতা তারেক রহমানের ওপর নির্দয়-নির্যাতন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহিংসার প্রকাশ। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য ও সামগ্রিকভাবে বিরাজনীতিকরণের ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়নের জন্যই সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসনকে মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় গ্রেফতার এবং চক্রান্তমূলক বানোয়াট মামলায় আটক করে তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। যে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল সেগুলো পরবর্তীতে বানোয়াট ও বানানো গল্প হিসেবে প্রমাণ হতে থাকে। আর সেজন্য জনগণ বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মামলা ও সাজা দেয়া হয়েছে তা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।

তিনি বলেন, সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে জনপ্রিয় জননেতা জনাব তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস এবারে যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি। কারণ দেশে এখন অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশ। তারেক রহমানের ওপর সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ধারা এখনো বয়ে চলেছে। নানাভাবে তাকে বিপর্যস্ত-বিপন্ন করার জন্য সরকার কূটচাল চেলেই যাচ্ছে। তথাকথিত আইনী প্রক্রিয়ার নামে মিথ্যা মামলা ও অন্যায় সাজা দিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপূরণের গতি অব্যাহত আছে।

দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায় বিচারে কারাবন্দী বলে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, প্রতিহিংসা চরিতার্থের নেশায় উন্মাদ সরকার দেশনেত্রীকে হয়রানী ও হেনস্তা করার জন্য বানোয়াট মামলা এবং পরিকল্পিত আইনীপ্রক্রিয়ার নামে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এক ব্যক্তির অদম্য ক্রোধ ও হিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটছে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর। এক ভয়াঙ্কর রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশে বিরাজমান। গুম-খুন, লুট-পাট, আত্মসাৎ ও দখলের মহাসমারোহে গণতন্ত্রকে বন্দী করা হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্র-স্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকার, কথা বলা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে। সারাদেশ আজ বন্দীশালায় পরিণত হয়েছে। দুঃশাসনের বিষাক্ত বলয়ে বন্দী দেশবাসী। এমতাবস্থায় আমরা সকলে জননেতা তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস স্মরণ করছি। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। দুঃশাসনের অবসানে তার অতিদ্রুত দেশে ফেরার জন্য দেশবাসীসহ সকলে প্রতীক্ষা করছি।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al