২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অসুস্থতা তার নিত্যসঙ্গী : অ্যাটর্নি জেনারেল

বিএনপি
ওষুধ খালেদা জিয়ার নিত্যসঙ্গী বললেন মাহবুবে আলম - ছবি : আর্কাইভ

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, অসুস্থতা তার নিত্যসঙ্গী। এখন যে ধরনের অসুস্থতার কথা বলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হচ্ছে, এমন অসুস্থতা নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। তাই অসুস্থতার কথা বললে হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোলবোমা মারার নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আবেদন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদনের শুনানিতে আদালতের কাছে এ যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেন, প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো অসুধ খাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।

পরে শুনানি শেষে কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১২আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, অ্যাডভেকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাদের সাথে ছিলেন জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ।

এর আগে গত সোমবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস.এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন। ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ মামলায় গত ১ জুলাই খালেদাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ৮ আগস্ট বহাল রাখেন কুমিল্লার আদালত। এরপর খালেদা জিয়া হাইকোর্টে এ মামলায় জামিন আবেদন করেন।

আরো পড়ুন :
কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৯ জুন ২০১৮
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত ৫ জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার আত্মীয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। এই অবস্থায় বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে দলের পক্ষ থেকে আগামি ১০ জুন রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচীর ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিন সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছেন ও গত মঙ্গলবার জেলখানায় মাথাঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন । সেইসাথে খালেদা জিয়ারর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছে দলটি। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিতসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সঙ্গে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলেন। সাক্ষাত শেষে তারা দেশনেত্রী সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, হৃদয়বিদারক। সরকারের জিঘাংসার কষাঘাতের তীব্রতা যে কত ভয়াবহ সেটি বোঝা যাবে শুধু বেগম জিয়ার প্রতি অমানবিক আচরণের মাত্রা দেখলেই।

রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর নিকটাত্মীয়রা বলেছেন গত ৫ জুন বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ ধরে ভীষণ জ¦রে ভুগছেন যা কোনোক্রমেই থামছে না। চিকিৎসা বিদ্যায় যেটিকে বলা হয় টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কীমিক এ্যাটাক)। দেশনেত্রীর দুটো পা- ই এখনো ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে আমি যে কথাগুলি বললাম তা সম্পূর্ণরুপে সত্য। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতোপূর্বেও যে কথাগুলো বলা হয়েছে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ হলে তার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসাগুলোর জন্য বারবার দাবি করা হয়েছিল যেমন বিশেষায়িত এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি, বিএমডিসহ জরুরী পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্থা করা। কিন্তু দলের নেতৃবৃন্দের দাবি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ক্রমাগত উপেক্ষাই করে চলেছে সরকার।

রিজভী বলেন, গত ২১ মে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আবেদন করেছিলেন দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চার জন চিকিৎসককে কারাগারে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। এতে মনে হয় সরকার এবং সরকার প্রভাবিত প্রশাসনযন্ত্র দেশনেত্রীকে নিয়ে কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

তিনিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের প্রতিহিংসার পাখা সবসময় যেন ঝটপট করছে। বারবার দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে সুচিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসকবৃন্দ, দলের নেতৃবৃন্দ, দেশের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ সোচ্চার থাকলেও সরকার এক অশুভ উদ্দেশ্যে তা অগ্রাহ্য করছে। নির্মম সত্য যে, সরকার এক অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই দেশনেত্রীর সুচিকিৎসায় বাধা প্রদান করছে। সরকারের অভিপ্রায় নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রবল সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে যে, আসলে দেশনেত্রীকে নিয়ে সরকার কী করতে চায়? এই সরকার মর্যাদা, সহানুভূতি, অন্যের প্রতি সম্মান ও অনুশোচনা হারিয়ে ফেলেছে। চরম মিথ্যাচার যাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির এজেন্ডা তারা একজন সম্মানীত জনপ্রিয় নেত্রীকে তো কষ্ট দেয়া ছাড়া ভাল কিছু করার শিক্ষা ওদের নেই।

তিনি আরো বলেন, নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে সব ব্যবস্থাই তারা করতে পারে। বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে নিপীড়ণের যে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘনের ধিক্কার জানাই। অবিলম্বে দেশনেত্রীর সুচিকিৎসা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সরকারের সকল অমানবিক অবিচারের জন্য দায়ী থাকতে হবে।

কর্মসূচি: এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে ১ দিনের কর্মসূচী দিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচী মোতাবেক আগামীকাল রোববার সারাদেশে জেলা ও মহানগরে এবং ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বা জানানো হয়েছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমদে, আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাইফুল ইসলাম টিপু, আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ।

জীর্ণশীর্ণ খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১২ জুন ২০১৮
কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে ভালো নেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এখন তিনি জীর্ণশীর্ণ চেহারার একজন মানুষ। সত্তরোর্ধ্ব একজন বয়স্ক মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যে ধরনের বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন, বেগম খালেদা জিয়া তা না পাওয়ায় তার বয়স যেন আরো বেড়ে গেছে। তিনি সম্প্রতি ট্রানজিয়েন্ট ইস্কিমিক অ্যাটাকে (টিআইএ) আক্রান্ত হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে চার পাতার একটি মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণ দিয়ে এসেছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত এমআরআই করে দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন তার ব্রেইন কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি দেখার জন্য। এরপর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তাকে কোনো হাসপাতালেই নেয়া হয়নি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার দ্রুত সুচিকিৎসা না হলে যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন তিনি। তার সাথে দেখা করে এসেছেন এমন সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেগম জিয়ার ওজন কমে গেছে, বাম হাত ওপরে তুলতে পারেন না। আগে তো একটু হাঁটতে পারতেন, এখন তা-ও পারেন না। কথা বলার ভঙ্গি সহজ নয়, মুখে বাঝে (তবে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকেরা বলেছেন যে, তিনি কমিউনিকেশন করতে পারছেন)। এমনিতেই তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

অনেক আগে থেকে তিনি আর্থ্রাইটিস, রিউমাটোলজির মতো জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে হাতের আঙুলগুলো কালো হয়ে গেছে, পা ফুলে গেছে। পায়ে এসেছে পানি। পায়ে চাপ দিলে আঙুল ভেতরে দেবে যাচ্ছে। চোখে রয়েছে প্রচণ্ড ব্যথা, লাল হয়ে গেছে দুই চোখ। সুস্থ চোখের যেটুকু পানি সারাক্ষণ থাকার কথা, তার চোখে সে রকম পানি নেই। অনেক কমে গেছে। বাইরে থেকে আর্টিফিশিয়াল পানি দিতে হয় চোখে। সুচিকিৎসা করা না হলে চোখ দুটির স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, অস্টিও আর্থ্রাইটিস হলে যেকোনো মানুষের চোখের পানি এমনিতেই কমে যায়।

টিআইএ চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া পড়ে গিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট জ্ঞান হারানোর লক্ষণটি ভালো নয়, সামনে তার জন্য আরো বিপদ অপেক্ষা করছে। সেটা হবে বড় ধরনের বিপদ।

যারা কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন সেই সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, তাকে যেখানে থাকতে দেয়া হয়েছে সেখানে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করে। চার দিকের পরিবেশ খুবই খারাপ। সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে। চার দিকে যে পরিবেশ তাতে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মশার আক্রমণে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন যেকোনো সময়।

কেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাননি খালেদা জিয়া
বিবিসি, ১২ জুন ২০১৮
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী নন, এ কথা জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল যে খালেদা জিয়া রাজি থাকলে আজ (মঙ্গলবার) তাকে কারাগার থেকে ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সেজন্য নিরাপত্তার যাবতীয় প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বেলা ১০টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে রাজি নন খালেদা জিয়া।

সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে ১১টার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা ছিল। সম্পূর্ণ পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) অনীহা প্রকাশ করেছেন।’ ‘উনি বলেছেন যে ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নেবেন না’ - বলেন তিনি।

কারা মহাপরিদর্শক বলেছেন, কারা বিধি অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ হাসপাতাল হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা সেখানে না থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন কারা মহাপরিদর্শক। সেক্ষেত্রে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশনা কিংবা অনুমোদনের প্রয়োজন আছে বলে তিনি জানান।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কারাবন্দীদের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার অনেক রেকর্ড রয়েছে অতীতে। এটা নতুন কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘ওয়ান ইলেভেনের সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারাগার থেকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছিল। আব্দুল জলিলকে ল্যাব এইডে নেয়া হয়েছিল। অনেক নেতাদের বারডেম হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল,’ - বলেন হোসেন।

তিনি বলেন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীরা যেসব যুক্তি তুলে ধরছেন, সেটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যেসব মন্ত্রীরা এ কথা বলছেন, তারা অসুস্থ হলে বিএসএমএমইউতে যান কী-না? তারাও তো ঢাকায় চিকিৎসা নিলে ইউনাইটেড, স্কয়ার কিংবা অ্যাপোলোতে যান।’

যে দুইজন চিকিৎসক কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখতে গিয়েছিলেন তাদের একজন অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম।

অধ্যাপক রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে - রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম। চিকিৎসক রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ হচ্ছে, কিডনি দুর্বল হয়ে গেছে এবং রাতে জ্বর আসে।

‘ওনার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। যেমন ধরুন - এমআরআই করা দরকার। ওনার দুই হাঁটুতেই আর্টিফিশিয়াল প্রসথেসিস করা আছে যেটা নরমাল এমআরআই মেশিনে হবে না। এখানে সরকারি-বেসরকারি ব্যাপার না। বিষয় হচ্ছে পরীক্ষাগুলো এমন এক জায়গায় করতে হবে যাতে সবকিছু একসাথে করা যায়। বিএসএমএমইউতে ঐ ধরণের এমআরআই মেশিন নাই। এটা সমস্যা হবে,’ - বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যেহেতু ইউনাইটেড হাসপাতালে অনেক আগে থেকেই চিকিৎসা করতেন। সেজন্য সেখানকার চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার যেমন পরিচিত, তেমনি পরিবেশেও পরিচিত বলে রহমান উল্লেখ করেন।

‘পেশেন্টের (রোগীর) চয়েস তো সারা পৃথিবীতে আছে। ঢাকা শহরে ১০০টা হার্টের ডাক্তার আছে। আমি তো সব ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করছি না। আমার হার্টের অসুবিধা হলে আমি সবসময় যার কাছে যাই, তার কাছেই যাব।’

চিকিৎসক অধ্যাপক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান দুটো কারণে। প্রথমত: সে হাসপাতালের পরিবেশ এবং চিকিৎসকরা তার পরিচিত, দ্বিতীয়ত: খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সে হাসপাতালে একসাথে করা সম্ভব।

এদিকে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও সেটি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

এ আবেদনকে অযৌক্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে খালেদা জিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া ‘মাইল্ড স্ট্রোকে’ আক্রান্ত হয়েছেন - এ কথা চিঠিতে উল্লেখ করে শামীম ইস্কান্দার লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য এ ধরণের বিষয় বড় রকমের ঝুঁকির পূর্বাভাস বহন করছে।’

ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার তিনি বহন করবেন বলে নিশ্চয়তা দেন।


আরো সংবাদ

পার্লামেন্টে থেকেই নির্বাচন করবো : জাতীয় ঐক্যের দাবি মানা হবে না : ফিরোজ রশীদ সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোয় যা বলল ছাত্রশিবির ৩৭৩৬ কাল্পনিক মামলার তদন্ত কমিশন গঠনের শুনানি হয়নি বিরোধী দলের বিজয় মেনে নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার ইসলামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ দলের নাম বদলালো মালয়েশিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টি পাকিস্তানকে হারালেই ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ ১৯ বছর পর মাহমুদুল্লাহ-ইমরুলের জুটি রৌমারীতে ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের আত্মহত্যা পলাশে উপজেলা পরিষদ থেকে ব্যবসায়ীর বাইক চুরি নড়াইলের বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পলেস্তরা ভেঙ্গে দুই ছাত্র আহত ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব হাট-বাজার

সকল