২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মাহমুদুর রহমানের উপর হামলার বিষয়টি দেখবেন প্রধান বিচারপতি

আদালত
হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান - ছবি : নয়া দিগন্ত

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর কুষ্টিয়ায় আদালত অঙ্গনের হামলার ঘটনাটি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক হামলার ঘটনাটি আদালতের নজরে আনলে প্রধান বিচারপতি তাদের এ আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই মানহানির একটি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হয়েছেন মাহমুদুর রহমান।

বিষয়টি আদালতের নজরে এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ বিষয়ে দেখবো বলে প্রধান বিচারপতি তাদের আশ্বস্ত করেন। পরে এ ঘটনায় প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন তারা আদালতে উপাস্থাপন করেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতি। আমরা এটা গতকাল পর্যন্ত পর্যবেবেক্ষণ করেছি। আমরা অপেক্ষা করেছি দেখি আদালত কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম আজ পর্যন্ত ওই ঘটনার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এজন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে হাজির হয়েছি পত্রিকা নিয়ে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। প্রধান বিচারপতিকে বলেছি, এই আদালত সংবিধানের অভিভাবক। সব আদালতের অভিভাবক। জনগণের অভিভাবক। মানুষ আদালতে যায় এবং সেই আদালত যদি জনগণের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে না।

মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে আমরা কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা দেখিয়েছি। পত্রিকা দিয়েছি। ওই ঘটনার কথা বলেছি। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগ আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। শুনে তারা বলেছেন, বিষয়টি তারা দেখবেন।’

আপনারা তো এটা নিয়ে মামলা করতে পারতেন কিংবা হাইকোর্টে রিট দায়ের করতে পারতেন, সরাসরি আপিলে কেন গেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘এটা কোর্ট আঙ্গিনার ঘটনা। কোর্ট আঙ্গিনায় প্রত্যেক বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা দেয়া প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব। এ ঘটনায় ওই কোর্ট থেকে মামলা করবে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে আমরা আশা করি ওইখানকার কোর্ট অফিসার মামলা করবে। তারা মামলা করলে সেটা সিরিয়াস মামলা হবে। এ কারণে আমরা ব্যক্তিগতভাবে মামলা করিনি। সকল আদালতের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সকল আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা। এজন্যই আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

মাহমুদুর রহমানের উপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিককে কটূক্তির অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা মানহানির মামলায় গত ২২ জুলাই সশরীরে কুষ্টিয়ার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। শুনানি শেষে বেলা ১১টায় তার জামিন মঞ্জুর করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমএম মোর্শেদ।

মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করায় ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টা থেকে আদালত এলাকা ঘিরে রাখে। ১টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার সঙ্গীদের নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আদালত ভবনের প্রতিটি দরজায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে পথ আটকে দেয়। এ সময় তিনি পুনরায় আদালতের এজলাসে আশ্রয় নেন। পরে বিকালে আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আরো পড়ুন :
ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মাহমুদুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩ জুলাই ২০১৮
মাথায়, ঘাড়ে, মুখে ও পিঠে একাধিক আঘাতের ক্ষত নিয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গত রোববার কুষ্টিয়ায় আদালতে জামিন লাভের পর সরকার সমর্থকদের নিমর্ম আক্রমণের শিকার হন তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণেই পুলিশের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা হয়। দুর্বত্তরা ইট নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। লাঠি-সোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ঘাড়ে, মুখে ও পিঠে রক্তাক্ত আঘাত করে। এ অবস্থায় পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি যশোর বিমান বন্দর পৌঁছান এবং সেখান থেকে বিমানে ঢাকা ফিরেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়।

সোমবার বিকালে ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় তিনি ঘুমাচ্ছেন। চিকিৎসক তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে হাইপারটেনশনে ভুগছেন। একই সাথে তিনি থাইরয়েড সমস্যায়ও ভুগছেন। দুর্বৃত্তদের নির্মম আঘাতের কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আইসিইউ থেকে ক্যাবিনে স্থানান্তর করা হয়। উল্লেখ্য তিনি নিউরো সার্জন ব্রিগেয়িার জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, তাকে ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মুখ, মাথা, ঘাড় লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। চোখের নিচেও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতটা আসছে টের পাওয়ার পর তিনি প্রতিরোধ করেন। ফলে আঘাতটা তার চোখে না লেগে চোখের নিচে লেগেছে। নয়তো চোখটা নষ্ট হতে পারত। চোখের নিচের হাড়টা বড় হয়ে ফোলে গেছে। এখানে চারটি সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। মাথার পেছনে যেখানে আঘাত করা হয়েছে সেখানে তিনটি সেলাই লেগেছে। পিঠের আঘাতের স্থানেও দুইটি সেলাই লেগেছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রক্তনালী কেটে যাওয়ায় যথেষ্ট রক্তপাত হয়েছে আঘাতের স্থান থেকে। আঘাতটা কতটুকু গুরুতর তা বোঝা যাবে দু’দিন পর ব্যান্ডেজ খোলার পর। আঘাতের স্থানগুলোতে গতকাল থেকেই প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। সময় যতই গড়াচ্ছে ব্যথা আরো তীব্র হচ্ছে। পেইন কিলার দিয়েও ব্যথা থামানো যাচ্ছে না।

ক্ষত শুকাতে কত দিন লাগবে প্রশ্নের জবাবে একজন চিকিৎসক জানান, ‘ড্রেসিং পরিবর্তনের পরই বোঝা যাবে কত দিনে তা শুকাবে। তবে আগামী এক সপ্তাহের আগে তিনি হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন না। গত রোববার রাতেই সিটি সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে।’

সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আঘাতের স্থানটুকু ছাড়াও তার ডান চোখের চারপাশে রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। এতো কিছু হয়ে গেলে কিন্তু হাসপাতালের বিছানাতে ব্যথায় কাতড়ানোর পরিবর্তে তাকে বেশ ধীর-স্থির দেখা গেছে। ব্যথা সহ্য করছেন নিরবে কিন্তু কথা বলছেন একজন নির্ভীকের মতো।

তিনি বলেন, আমাকে আঘাতের পর আমি একটি গাড়ি চেয়েছিলাম। কেউ একটি গাড়ি দেয়নি। আমি গাড়ি কিনে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলাম কিন্তু কেউ তাতেও সহযোগিতা করেনি। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আমি যশোর আসি।


আরো সংবাদ