১৭ নভেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরু, জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি

বিএনপি
খালেদা জিয়া - ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। সেই সাথে তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত জামিন বৃদ্ধি করেন।

নিম্ন আদালতে বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া পাঁচ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে করা আপিলের শুনানি আজ সকাল ১১টায় শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এতে অংশ নেন। তিনি আদালতকে মামলার এফআইআর থেকে উদ্ধৃত করে আদালতকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্ট আছে তার কোনোটিতেই খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নেই। এ মামলায় ওনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী মামলার পেপারবুক থেকে পড়া শুরু করেন।

দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি শেষে আদালত আগামী রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট।

আরো পড়ুন :
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে কালিমা লেপনের জন্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা
হাবিবুর রহমান, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রবীণ আইনবিদ অবদুর রেজাক খান মামলার অভিযোগের বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি বলেছেন, এটি একটি অসার যুক্তিহীন সৃজিত মামলা। তিনি এতিমের অর্থ চুরি করেছেন এমন কোনো তথ্য নেই। এ মামলার সব ডকুমেন্টের মধ্যে ঘষামাজা আছে, ওভার রাইটিং আছে। প্রসিকিউশনের ডকুমেন্টের মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর এবং অনুমোদন নেই। তার রাজনৈতিক জীবনে কালিমা লেপনের জন্য এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুরুতে তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না দেখালে যেকোনো দেশ বা জাতি ইতিহাসের স্মৃতি থেকে মুছে যায়। যে আইনে সর্বোচ্চ সাজা আছে সেখানে আইনের সর্বোত্তভাবে অনুসরণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া বক্তব্যে মামলার সাক্ষ্য, প্রসঙ্গিক বিষয়সহ যাবতীয় বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথমে দেখতে হবে তার বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না। বিচারে যেন কোনো রকম বিভ্রান্তি না হয়। বেগম খালেদা জিয়া যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে আবদুর রেজ্জাক খান খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলার চূড়ান্ত পর্বে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

রেজ্জাক খানের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

যুক্তি উপস্থাপনের আগে রেজ্জাক খান বলেন, তিনি ছাড়াও প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার ও এ জে মোহাম্মদ আলী এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন।

আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, এ মামলার অভিযোগের বিষয়ে আমি বলব; বেগম খালেদা জিয়া কিভাবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা সম্পৃক্ত হলেন চার্জে তার কিছু নেই। কোনো সাক্ষী বলে নাই খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং বিদেশ থেকে তার একাউন্টে টাকা এসেছে।

আর মামলার এফআইআর এর সাথে চার্জের কোনো সম্পর্ক নেই। দুদক থেকে এফআইআর তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি ডিফেক্টিভ চার্জ। চার্জ গঠন সঠিক হয়নি। এই অসঙ্গতিপূর্ণ চার্জের মামলার বিষয়বস্তুর কোনো মিল নেই।

এসময় আদালত বলেন, ডিফেক্টিভ চার্জ বলছেন, এর বিরুদ্ধে আপনারা হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে যাননি।

জবাবে রেজ্জাক খান বলেন, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ বলতে পারেন না চার্জ সঠিকভাবে হয়েছে। চার্জ সঠিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে-এটা হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগের বলার বিষয় নয়।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রেজ্জাক খান বলেন, ড. কামাল সিদ্দিকী ও জগলুল পাশার ঘাড়ে বন্দুক রেখে এ মামলা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ মামলার প্রথম অনুসন্ধান কর্মকর্তা নূর আহমেদের অনুসন্ধান রিপোর্টের পর আর এ মামলা থাকে না।

তিনি বলেছেন, এ মামলার অভিযোগের তালিকায় খালেদা জিয়ার নাম নেই। তিনি বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট। এটা সরকারি সম্পত্তি নয়। দুদক আইনে কোনো অপরাধ হয়নি।

আজ বেলা ১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যান খালেদা জিয়া। এর আগে বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। তিনি আদালতে নির্ধারিত আসনে বসে যুক্তি উপস্থাপন দেখেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে বলেন, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন- প্রবীণ আইনবিদ জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মেহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, শহা খসরুজ্জামান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল, জাকির হোসেন ভূইয়া, রাগীব রউফ চৌধুরী প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, রুহুল কবর রিজভী, অবদুল আউয়াল মিন্টু, আমানউল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

এর আগে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

গত ৫ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি আদালতে বলেছিলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এ মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য। আমি এই মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি এবং আপনার আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

এর আগে গত ১৯ ও ২৬ অক্টোবর এবং ২, ৯, ১৬ ও ২৩ নভেম্বর এবং ৫ ডিসেম্বর মোট সাত দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।


আরো সংবাদ