১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

বিএনপি
দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর - ছবি : নয়া দিগন্ত

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপতি ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালত জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলায় এবং জন্মদিন পালনের মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

আদেশে আদালত বলেন, খালেদা জিয়া রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন যা রাষ্ট্রদোহিতার শামিল। সেই বিবেচনায় জামিন নামঞ্জুর করা হল।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও জামিনযোগ্য ধারার মামলায় জমিন না দিয়ে সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের পক্ষে অন্যায়ভাবে জামিন না দিয়ে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট জামিনযোগ্য ধারায় জামিন না দিয়ে সরকারের সাথে একত্র হয়ে অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করব।’

গত ২১ জুন শুনানি শেষে আদালত ৫ জুলাই (আজ) আদেশের দিন ধার্য করেন।

গত ৬ জুন প্রকাশিত হাইকোর্টের এক আদেশে বলা হয়, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর ও জামিন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চের এক লিখিত আদেশে এ মন্তব্য করা হয়। গত ৩১ মে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন আদালত।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেছেন, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকরসহ জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এরফলে গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকরের জন্য আর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এরপরেও গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করে জামিন আবেদন নথিভুক্ত করে আদেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর ভুল করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।


আরো সংবাদ