film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্বাধীনতা রক্ষার স্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ : রিজভী

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ডাক দিয়েছেন তাতে দল-মত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে এসে সাড়া দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুঃসময়ে গোটা জাতির মূলমন্ত্র হোক ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। দেশপ্রেমিক সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিন। অন্যথায় চরমতম দুর্দিন আমাদের গোটা দেশ ও জাতির অস্তিত্ব তছনছ করে দিবে। চার দিক থেকে নিকষকালো আঁধার ঘনিয়ে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও দুস্থ এবং গরিব মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তারেক রহমান রোববার লন্ডনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনের কথা বলেছেন। তিনি এটার ব্যাখ্যা ও লক্ষ্য তুলে ধরে বলেছেন, এটা শুধু বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষা ও জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এখনই বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে দলমত ভুলে সবাই না দাঁড়ালে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে দেশ। তখন আর কিছু করার থাকবে না।
তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, কেউ কেউ বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করেন। দূর থেকে নিরাপদে বসে সমালোচনা করা যায়। যারা সমালোচনা করছেন আপনাদের যদি দেশের ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের এই ক্রান্তিকালে বিএনপি পাশে না পায় তবে সম্মানের সাথে জানাতে চাই কয়দিন পর আপনাদের কথা বলার অধিকারও রাখবে না সরকার। এখনো সরকারের জেল জুলুম হয়রানি উপেক্ষা করে বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সক্রিয়। বিএনপির পাশে থেকে প্রত্যেকটি সচেতন মহল ও সমালোচকদের রাজপথে আন্দোলনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিকরা নিজ দেশেই এখন যেন পরাধীন। আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছেÑ এখন ধীরে ধীরে দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতাও হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, গত ২০ দিনে ১০ জন, এক বছরে ৫০-এর বেশি এবং গত দশ বছরে প্রায় ৩৫০ জন নিরীহ বাংলাদেশীকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। ভারত থেকে পুশ ব্যাক চলছে। ভারতে বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জি আইন পাস হওয়ায় বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভেবে চুপ করে থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে অথচ বছরের পর বছর ধরে ফেনী নদীর পানি নিচ্ছে ভারত। বিমানবন্দর তৈরির অজুহাতে বাংলাদেশের জমি দখল করতে চায় ভারত। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্যাতিত হচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে, সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছে না সরকার। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে ভারত বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব করেছেÑ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই একটি ‘বিশেষ পাস ইস্যুর মাধ্যমে ৪৮ অথবা ৭২ ঘণ্টার জন্য ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্য। এ ধরনের পরিকল্পনা হবে বাংলাদেশের চরম স্বার্থবিরোধী এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
রিজভী জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় এবং বিনা চিকিৎসায় কারারুদ্ধ রাখায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। জামিন পাওয়া তার আইনগত অধিকার। তাকে জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। বিচারকের আসনে বসে আওয়ামী লীগের কথামতো যেসব বিচারক নিরপরাধ মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ করছেন তাও দেশবাসী দেখছেন। তিনি জানান, তারেক রহমান ইভিএম নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, স্বাধীনতার দেড় দুই বছরের মাথায় ৭৩ সালের নির্বাচনেও হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ব্যালট বাক্স এনে তাদের দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। রেডিও-টিভিতে ঘোষণা দিয়েও প্রার্থীর নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিয়েছিল তারা। কী কারণে আওয়ামী লীগকে ভোট চুরির আশ্রয় নিতে হয়েছে? এটি সবারই জিজ্ঞাসা। ৯৬, ২০০৮, ২০১৪ কিংবা ২০১৮ প্রতিটি নির্বাচনেই সেই ৭৩ সালের মতোই আওয়ামী লীগকে ভোট ডাকাতির আশ্রয় নিতে হয়েছে। জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে যেভাবে বিএনপিকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে, এটা আসলে বিএনপি নয়, বরং দেশের মানুষ ও বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকবেন জনগণের হৃদয়ে। কারণ তার রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস ছিল জনগণ। তিনি বলেছিলেন, ‘জনগণ যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলে আছি।’ জনগণের সেই রাজনৈতিক দলই হচ্ছে বিএনপি। তাই বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করা যায়নি। বরং নিশিরাতের সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। এমনকি তাদের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় প্রমাণ করে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বড় রাজাকারের দল।
বিক্ষোভ ও শীতবস্ত্র বিতরণ : এ দিকে গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী। বেলা ২টায় আদাবর রিং রোডস্থ জাপান গার্ডেন সিটির সামনে থেকে শুরু হয়ে বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় ফুটপাথে অবস্থানরত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন রিজভী। এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


আরো সংবাদ