২৪ জানুয়ারি ২০২০
১৫ টন ফুয়েল বেশি লাগার অভিযোগ

এবার বিমানের বোয়িং ডাইভার্ট হলো ব্যাংককে

-

কুয়ালালামপুর, মাস্কাট, দুবাইয়ের পর এবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ (বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর) ঢাকায় নামতে না পেরে ফিরে গেল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এয়ারপোর্টে। এর আগে ৪১৯ আসনের ফ্লাইটটি অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন মনির ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামানোর চেষ্টা করলেও ঘন কুয়াশার কারণে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংককে নিয়ে যান।
বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে কিছু দিন আগে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (বাংলাদেশ সময়) রাত ১১টায় মদিনা থেকে ৩৮০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানের অত্যাধুনিক (বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর) ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। গতকাল মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময়) ভোর ৪টায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি অবতরণ করার সময় পাইলট দেখতে পান, রানওয়েতে ভিজিবিলিটি ‘বিলো মিনিমা’ অর্থাৎ ৮০০ এর অনেক নিচে। এরপরই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে উড়োজাহাজটি ডাইভার্ট করে ব্যাংককে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। যদিও ওই সময় পাশের দেশ কলকাতার সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিজিবিলিটি ছিল ১০০০-এর ওপরে। তারপরও পাইলট ফ্লাইটটি কলকাতা বিমানবন্দরে না নিয়ে অতিরিক্ত তেল পুড়িয়ে ভোর ৬টার দিকে ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। সেখানে আড়াই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর মঙ্গলবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসে। এই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন মনির ও কো-পাইলট ছিলেন ইন্তেখাব। দীর্ঘ জার্নির কারণে ওই ফ্লাইটে যাত্রীদের অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
যাত্রীদের কেউ কেউ বিমানবন্দরে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়িত্বশীলদের কাছে জানতে চান, ঢাকায় ভোরবেলা কুয়াশা থাকে, তাহলে কেন ওই সময়ই ফ্লাইট শিডিউল নির্ধারণ করা হচ্ছে? মদিনা থেকে বিলম্বে ছাড়লেই কিন্তু তাদেরকে (যাত্রী) আর ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল শাখার নাম না প্রকাশের শর্তে একটি সূত্র নয়া দিগন্তকে জানিয়েছে, মদিনা থেকে ছেড়ে আসা বোয়িং-৭৭৭ ফ্লাইটটি যদি ডাইভার্ট হয়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামত তাহলে বিমান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। কলকাতার পরিবর্তে ব্যাংকক বিমানবন্দরে নামার কারণে উড়োজাহাজে অতিরিক্ত ১৫ টন বেশি ফুয়েল (বার্ন) পোড়াতে হয়েছে। এটি বিমানেরই লোকসান। ইচ্ছা করলে পাইলট এড়াতে পারতেন। কারণ ওই সময় কলকাতা বিমানবন্দরে ভিজিবিলিটি ১৫০০ পর্যন্ত ছিল।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিজিএম (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।
গতকাল সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে জানতে একজন দায়িত্বশীল পাইলটের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, আসলে কলকাতা বিমানবন্দরে ওই সময় ভিজিবিলিটি কিন্তু ১০০০ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু ঢাকা থেকেই রুট প্লানে বলে দেয়া রয়েছে, যদি মদিনা ফ্লাইট ডাইভার্ট হয় তাহলে সেটিকে ব্যাংকক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করাতে। এখন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দেবেন আমাদের সেভাবেই তো মানতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, এতে বিমানের অতিরিক্ত ১৫ টন ফুয়েল বেশি পোড়াতে হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মূলত আগে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, জেদ্দা, মদিনাসহ কয়েকটি বিমানের স্টেশনে অপারেশন পদে ম্যানেজারের লোক ছিল। এখন ওই পদে কেউ না থাকার কারণে ঢাকা অফিস থেকে সেগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি আমাদের ফ্লাইট ডাইভার্ট করাসহ অন্যান্য সমস্যাও হচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগটি সচল ছিল। এবার সেটি পরিবর্তন হয়েছে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায়। এটা ভালো হলো, না খারাপ হলো তা সময়ই বলে দেবে। এ নিয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিমানের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকাগামী মদিনা ফ্লাইটে শতকরা ৯০ ভাগ ওমরার যাত্রী থাকায় তেমন কেউ ক্ষোভ দেখাননি।
জানা গেছে, গতকাল ভোরে একইভাবে এয়ার অ্যারাবিয়াসহ দু’টি ফ্লাইট ঢাকায় না নামতে পেরে চট্টগ্রাম ও কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য বলেন, বিমান থেকে শীতকালীন যে পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, সেই হিসেবে আমাদের সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ভৌগোলিকভাবে কুয়াশা অনেক (ফগ) কম হয়। কিন্তু এই এয়ারপোর্টের কার্যক্রম প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। শুনেছি জনবল সঙ্কট থাকার কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি খোলা রাখা হলে যেসব ফ্লাইট ডাইভার্ট হচ্ছে, সেগুলো আর কলকাতা অথবা ব্যাংককে নিয়ে যেতে হবে না। তখন সিলেটেই নামতে পারতাম।

 


আরো সংবাদ