২৪ জানুয়ারি ২০২০

সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা লোকজ উৎসব উদ্বোধন

-

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, শিল্পাচার্যের দুই শতাধিক শিল্পকর্ম বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে। শিল্পাচার্যকে স্মরণ করার জন্য তার এ সৃষ্টি সোনারগাঁওয়ের এ প্রতিষ্ঠান যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বর্তমান সরকারের এ মেয়াদেই সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশেন একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। যেখানে শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতি ও লোকজন উৎসবের মিশ্রণ থাকবে। গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে সোনারতরী মঞ্চে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন এবং পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এ মেলার আয়োজন করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোনারগাঁও ইতোমধ্যে জামদানিতে বিশ^ স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সোনারগাঁওয়ের অর্জন। এটি কেউ এমনি এমনি দান করে দেননি। সোনারগাঁওয়ে এখন জামদানি তৈরি হয়। এক সময় মসলিন তৈরি হতো। কাপাসিয়া থেকে মসলিনের তুলা ও সুতা স্থানান্তর হয়েছিল। বুড়িগঙ্গা পাড়ে শীতলক্ষ্যা মেঘনা বেষ্টিত এখানে যে তাপমাত্রা ছিল তা মসলিন বুনতে সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল। তাই এখানে মসলিন পল্লী গড়ে উঠেছিল।
মন্ত্রী আরো বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে বেশি করে তুলে ধরার জন্য বর্তমান সরকার তার জন্মস্থান ময়মনসিংহে সংগ্রহশালার জন্য ২৩৪ কোটি টাকার ব্যয়ের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ হবে মেঘনা নদী দিয়ে। ফলে ময়মনসিংহের সাথে সোনারগাঁওয়ের সংযোগ হবে। আমরা চাইব এ সংযোগটি যেন সোনারগাঁওকে প্রসারিত ও বিকশিত করে। সোনারগাঁও থেকে আলো নিয়ে সোনা ছড়াবে ময়মনসিংহে। মন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং জীবন্ত প্রদর্শনী ও লাঠি খেলা উপভোগ করেন।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীমউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খাঁন, সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি প্রমুখ।
ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬৪ জন কারুশিল্পী প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩২টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁও ও মা-রার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাখা ও নকশি পাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নকশিকাঁথা, বেত ও বাঁশের কারুশিল্প, নকশি হাতপাখা, সিলেট ও মুন্সীগঞ্জের শীতল পাটি, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীর কারুপণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা শিল্প, সোনারগাঁওয়ের পাটের কারুশিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সীগঞ্জের পটচিত্র, ঢাকার কাগজের হস্তশিল্পসহ মোট ১৫৪টি স্টল থাকছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন লোক ও কারুশিল্প মেলা, লোকজ উৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান, লালন সঙ্গীত, মাইজভাণ্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মনিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তি-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠিখেলা, দোকখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সোনারতরী মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল, নওরিনসহ বিভিন্ন শিল্পীরা।


আরো সংবাদ