২১ জানুয়ারি ২০২০

কলোরেক্টাল সার্জন ফজলুল হকের অপারেশন দেখা যাবে ইন্টারনেটে

ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সংবাদ সম্মেলন ;নয়া দিগন্ত -

বিশিষ্ট কলোরেক্টাল সার্জন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলোরেক্টাল বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এ কে এম ফজলুল হকের পাইলসসহ কোলনের অন্যান্য অপারেশন এখন থেকে ইন্টারনেটে দেখা যাবে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেকোনো মেডিক্যাল শিক্ষার্থী অথবা চিকিৎসকরা তার অপারেশনগুলো দেখতে পারবেন। ব্রিটেনের ‘মেডিক্যাল রিয়েলিটিজ কোম্পানি’ ইন্টারনেটে ওই অপারেশনগুলো দেখানোর ব্যবস্থাটি করে দিচ্ছে। রিয়েলিটিজ কোম্পানির সিইও মেথিউ লেদারবারোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টেকনিক্যাল টিম অধ্যাপক ফজলুল হকের অপারেশনগুলো বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভিডিও করছেন। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার অধ্যাপক ফজলুল হকের চেম্বার ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের ইডেন মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হক ছাড়া রিয়েলিটিজ কোম্পানির সিইও মেথিউ লেদারবারো বক্তব্য রাখেন।
রিয়েলিটিজ কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসকদের অপারেশন ও অন্যান্য বিষয়ের বক্তব্য ডকুমেন্টারি করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মূল্যবান ডকুমেন্টারি সম্বন্ধে অবগত হতে পারছেন। প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে রিয়েলিটিজ কোম্পানি অপারেশনগুলো এমনভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করছে চিকিৎসক অথবা শিক্ষার্থীর কাছে মনে হবে যে তাদের সামনেই রোগী রয়েছে এবং তাদের সামনেই অপারেশন করা হচ্ছে। রিয়েলিটিজ কোম্পানি অধ্যাপক ফজলুল হকের করা কোলন, রেক্টাম ও পায়ুপথের সব ধরনের অপারেশন ভিডিও করে প্রচারের ব্যবস্থা করবে। বিশেষ ধরনের চশমা দিয়ে ডকুমেন্টারি ও অপারেশনগুলো দেখা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, আমি ১৯৯৬ থেকে কলোরেক্টাল অপারেশন শুরু করি। একজন সার্জন হিসেবে আমি গত ২৫ বছর ধরে কোলন অপারেশনের কাজই করে আসছি। এ কারণে আমি দাবি করছি, কলোরেক্টাল অপারেশনে আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আমাদের দেশে নেই। আমি যে সময়ের মধ্যে ৫০টি নির্ভুল অপারেশন করতে পারি ঠিক একই সময়ে অন্যরা ১০টি অপারশেনও নির্ভুল করে করতে পারেন না। আমার কাছে বিশ্বের অনেক দেশের চিকিৎসক এসে আমার অপারেশন শিখে যাচ্ছেন। অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের কমপক্ষে তিনজন রাষ্ট্রপতি আমার কাছে এ বিষয়ক অপারেশন করে সুস্থ হয়েছেন। এমনকি ভারতের রোগীরাও এখানে অপারেশন করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনাও আছে যে বিভিন্ন স্থানে ১০ বার অপারেশন করে ব্যর্থ হয়ে আমার কাছে অপারেশন করে সুস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি সর্বশেষ প্রযুক্তির মেশিন ব্যবহার করে লেপারোস্কোপিক সার্জারি ও পায়ুপথের পাইলস, ফিস্টুলার সর্বাধুনিক পদ্ধতির অপারেশন করে। এ অপারেশনের মেশিন অন্য অনেকের কাছে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফজলুল হক আরো বলেন, আমি আমার জ্ঞানকে এখন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি চাই অন্যরাও এ বিষয়ের অপারেশন শিখুক। আমি একাতো এ দেশের সব মানুষের কোলন সমস্যার সমাধান করতে পারব না।
তিনি বলেন, আরো বড় পরিসরে মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য ধানমন্ডিতে ১০ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণাধীন। প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও পরে ৭০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হবে এটা।


আরো সংবাদ