০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

লবণের মূল্য নিয়ে হতাশায় চাষিরা বাঁশখালীতে কেজি মাত্র ৪ টাকা

উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া ঘাটে বিক্রির জন্য আনা গত মৌসুমের লবণ : নয়া দিগন্ত -

দেশের কয়েকটি এলাকায় লবণের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চড়া দামে লবণ বিক্রির খবর পাওয়া গেলেও গতকাল বাঁশখালীতে গত মৌসুমে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি মাত্র চার টাকা পাঁচ পয়সা দরে। এ দিকে গত মৌসুম শেষ হয়ে চলতি বছরের লবণ উৎপাদন শুরু হলেও বছরজুড়ে লবণের অস্বাভাবিক দর পতনে হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।
১৫ নভেম্বরের পর থেকে দেশে নতুন বছরের লবণ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার লবণের চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অপর দিকে গত বছরে উদ্বৃত্ত লবণ রয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। সেই হিসাবে উদ্বৃত্ত লবণে আরো তিন মাস অনায়াসে চলবে বলে গতকাল রাতে নয়া দিগন্তকে জানালেন বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আহামদ। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাঁশখালীতে গত মৌসুমে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা ১৯০ টাকা করে। সেই হিসাবে গতকাল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাইকারি লবণ বিক্রি হয়েছে মাত্র চার টাকা পাঁচ পয়সা কেজি।
বাঁশখালী লবণচাষি বেলাল হোসাইন বলেন, গত মৌসুমের শুরুতে উৎপাদিত লবণের পাইকারি দাম কিছুটা বেশি পেলেও পুরো মৌসুমজুড়ে লবণের দাম নিয়ে হতাশায় রয়েছেন উপকূলের হাজার হাজার লবণচাষি। তিনি গত সোমবার প্রতি মণ ১৯০ টাকা করে ৮৬১ মণ লবণ বিক্রি করেছেন। একই এলাকার লবণচাষি আমির হোসাইন বলেন, গতকাল প্রতি মণ লবণ মাত্র ১৯০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আহামদ নিশ্চিত করে বলেছেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গত কয়েক মাস ধরে চাষিরা প্রতি মণ লবণ ১৯০/১৮০ টাকার ওপর বিক্রি করে আসছেন।
উপকূলের চাষিরা জানান, গত মৌসুমের উৎপাদিত লবণ অবিক্রীত রয়ে গেছে। উৎপাদিত লবণের অস্বাভাবিক দরপতন হলেও পেটের তাগিদে চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে লবণ বিক্রি করে দিচ্ছেন।
লবণ শিল্পকে রক্ষায় চাষিরা বিদেশ থেকে অবাধে লবণ আমদানি বন্ধ করাসহ লবণ চাষে প্রণোদনা ও সরকারিভাবে উৎপাদিত লবণ ক্রয়ের দাবি করেছেন। না হয় দেশের লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে পড়বে বলে চাষিরা মনে করেন। জানা গেছে, গত মৌসুমে ৫৯ হাজার ৫৬৪ একর মাঠে লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোতি লবণ উৎপাদন হয়। বিসিক লবণ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শামিম আলম বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় চার লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে।
জানা গেছে, দেশের বঙ্গোপসাগর উপকূলের চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলাজুড়েই লবণ উৎপাদন হয়ে আসছে। সরকারি হিসাবে প্রতি বছর নভেম্বরের ১৫ থেকে পরবর্তী বছরের মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত লবণ উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। এই ৭ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়েই বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার চাষি তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের লবণ উৎপাদন করে এলেও সেই চাষিদের কোনো খবর কেউ রাখে না।
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, সরকার যদি বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক না হয় তাহলে দেশের লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, গত বছর (২০১৮) গ্লোবাল লবণের (সোডিয়াম সালফেট) চাহিদা ছিল এক লাখ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আর আমদানি করা হছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন আর শিল্প লবণের চাহিদা ছিল প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন; কিন্তু আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে।
তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা শিল্পকারখানার ব্যবহারের বিপরীতে আমদানিকৃত লাখ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত লবণ সরাসরি প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছেন। এ কারণে মাঠে উৎপাদিত লবণের দরপতন অব্যাহত রয়েছে পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রয়েছে হুমকির মুখে।

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik