০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল : মির্জা ফখরুল

অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার ভারতের ওপর নির্ভরশীল বলেই অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে দরকষাকষি করতে পারছে না। যত দিন এরা ক্ষমতায় থাকবে তত দিনই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে। বাংলাদেশ নিঃস্ব হয়ে যাবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে ‘ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার চুক্তি : বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিপর্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে তো কখনো কথা বলি না, ভারতের সাথে আমাদের তো বিরোধ নেই। সমস্যাটা হচ্ছে, আজকে এমন একটা সরকার ক্ষমতায় যারা আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে ভারতের সাথে কথা বলতে পারে না। সেই শক্তি ও বার্গেইনিং ক্যাপাবিলিটি তার নেই। কারণ সরকার তাদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। এটাই বাস্তবতা।
ভারতের সাথে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ফেনী নদী বাংলাদেশে, এটি অভিন্ন নদী নয়। সেই নদীর পানি ভারত নিয়ে যাচ্ছে অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, খাওয়ার পানি চাইলে পানি দেবো না? ভালো কথা, পানি দেবেন। কিন্তু আমাদের তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ যারা পানির অভাবে আজ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, তাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে, জীবন-জীবিকা ধবংস হয়ে যাচ্ছে; সে বিষয়ে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) একটি কথাও বলবেন না?
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভারত তিস্তার পানি দিচ্ছে না। অন্যান্য নদীর পানিরও কোনো হিস্যা হচ্ছে না। আমি পানি পাবো না কেন? সীমান্তে আমার লোকদের গুলি করে মেরে ফেলছে অথচ আপনারা বলছেন, এটি কমে এসেছে। কিন্তু আমরা তো কমতে দেখছি না।
বর্তমান সরকার সংসদে কোনো চুক্তিই উপস্থাপন করছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটা এমন একটা সংসদ যেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাথে করা চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, যেকোনো চুক্তি সংসদে উপস্থাপন, আলোচনা ও রেটিফাই করতে হবে। কিন্তু সেটা কখনোই করা হয় না।
মির্জা ফখরুল বলেন, সৌদি আরবে যাওয়া আমাদের নারীশ্রমিকদের মধ্যে ৫৩ জন সেখানে নিহত হয়েছেন, অনেকে শূন্য হাতে ফিরে এসেছেন। সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, সংখ্যা কম। এর আগে ভারতের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে উনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছেন, আমাদের সম্পর্ক এমন সুন্দর জায়গায় গেছে যে আমি সেটা বলতে চাই না।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। অথচ খুব বড়াই করে সরকার বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। সেই রোল মডেল এমন হয়েছে যে, শুধু ঋণের ওপরে তাদেরকে টিকে থাকতে হচ্ছে। সব ব্যাংক ফোকলা হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো থেকে এমনভাবে ঋণ নিয়েছে যে কিভাবে শোধ করবে এটা আমরা জানি না। অনেক অর্থনীতিবিদ বলেই ফেলছেন যে, দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ খারাপ। গার্মেন্টের রফতানি অনেক কমে গেছে। বহু গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভিয়েতনাম এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে না। কৃষকরা ধানের দাম পান না, তারা ধান চাষ করা বাদই দিয়েছেন প্রায়। তা হলে খাদ্যে দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা থাকবে কী করে?
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকারকে সরাতে হবে। এ জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দানব সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার হবে, জনগণের পার্লামেন্ট হবে।
সেমিনারে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরাকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আখতার হোসেন তথ্যচিত্রের মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জি কে মোস্তাফিজুর রহমান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, এগ্রিচালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, অ্যাবের আবদুস সালাম, আশরাফ উদ্দিন বকুল, গোলাম মাওলা, এ কে এম জহিরুল ইসলাম, সাহাদাত হোসেন বিপ্লব বক্তব্য দেন।

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik